জিহাদে যাদের অনীহা তাদের প্রতি ভৎসনা সম্পর্কে
আমি এমন সব লোক নিয়ে আছি। যারা আমার আদেশ অমান্য করে এবং আমার ডাকে সাড়া দেয়। না। তোমরা পিতৃবিহীন হও (তোমাদের উপর লা’নত)। আল্লাহর উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়াতে কিসে তোমাদেরকে বিলম্বিত করছে? তোমাদের দ্বিন কি তোমাদেরকে একত্রিত করবে না? তোমাদের লজাবোধ কি তোমাদের উত্তোলিত করবে না? আমি তোমাদের মাঝে দাড়িয়ে চিৎকার করে সাহায্যের আহবান করছি, কিন্তু তোমরা আমার কথা শোনছো না এবং অবস্থা বেগতিক না হলে তোমরা আমার আদেশ মান্য করছে না। তোমাদের দ্বারা কোন রক্তের প্রতিশোধ গ্রহণ করা যায় না এবং কোন উদ্দেশ্য সাধন করা যায় না। তোমাদের ভ্রাতাদের সাহায্য করার জন্য আমি আহবান করেছিলাম; কিন্তু তোমরা পেটের ব্যথায় কাতর উটের মতো গোঙ্গাতে লাগলে এবং পাছ-মরা উটের মতো দুর্বল হয়ে পড়লে । তারপর তোমাদের মধ্য থেকে কম্পমান-দুর্বল একদল সৈন্য আমার কাছে এলো—“যেন তাদেরকে
মৃত্যুর দিকে তাড়িয়ে নেয়া হচ্ছে এবং তারা যেন মৃত্যুকে প্রত্যক্ষ করছে।” (কুরআন-৮ঃ ৬)
১। আয়নুত-তামার আক্রমণ করার জন্য নুমান ইবনে বশিরের নেতৃত্বে মুয়াবিয়া দুহাজার সৈন্যের একটা বাহিনী প্রেরণ করেছিলো। কুফার নিকটবতী এ স্থানটি ছিল আমিরুল মোমেনিনের সামরিক ঘাটি এবং মালিক ইবনে ক’ব আল-আরহাবী ছিল এ ঘাটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। যদিও তার অধীনে এক হাজার যোদ্ধা ছিল তবুও ওই মুহুর্তে একশত লোক সেখানে উপস্থিত ছিল। আক্রমণকারী সৈন্যদের এগিয়ে আসতে দেখে মালিক সাহায্যের জন্য আমিরুল মোমেনিনকে পত্র লেখেছিল। বার্তা পাওয়ামাত্র মালিকের সাহাযার্থে এগিয়ে আসার জন্য আমিরুল মোমেনিন জনগণকে অনুরোধ করলেন। এতে মাত্র তিনশত লোক প্রস্তুতি নিয়েছিল। আমিরুল মোমেনিন বিরক্ত হয়ে এ ভাষণ দেন। ভাষণ শেষে আমিরুল মোমেনিন ঘরে পৌছার পর আদি ইবনে হাতিম তাঈ এসে বললো, “হে আমিরুল মোমেনিন, আমার অধীনে বনি তাঈ-এর এক হাজার লোক আছে। আপনি আদেশ দিলে আমি তাদের প্রেরণ করতে পারি।” আমিরুল মোমেনিন বলেলেন, “এটা খারাপ দেখায় যে শুধুমাত্র একটা গোত্রের লোক শত্রুর মোকাবেলা করবে। তুমি নুখায়ালা উপত্যকায় তোমার বাহিনী প্রস্তুত রাখো।” সে তার লোকজনকে জিহাদের জন্য ডাক দিয়েছিল। ইতোমধ্যে বনি তাঈ ছাড়া আরো এক হাজার সৈন্য সেখানে প্রস্তুত হলো। এমন সময় মালিক সংবাদ দিল যে, সে শত্রুকে বিতাড়িত করেছে-সাহায্যের প্রয়োজন নেই।
এর কারণ হলো-কুফা থেকে সাহায্য পেতে বিলম্ব হতে পারে ভেবে মালিক তৎক্ষণাৎ আবদুল্লাহ ইবনে হাওয়ালা আল-আজদীকে কারাজাহ ইবনে কা’ব আল-আনসারী ও মিখনাফ ইবনে সুলায়মান আল-আজাদীর কাছে সাহায্যের জন্য প্রেরণ করলেন। কারাজাহ কোন সাহায্য করে নি। মিখনাফ তার পুত্র আবদার রহমানের নেতৃত্বে পঞ্চাশ জন সৈন্য প্রেরণ করেছিল এবং তারা সন্ধ্যা নাগাদ মালিকের কাছে পৌছলো। সে পর্যন্ত শত্রুর দুহাজার লোক মালিকের একশত সৈন্যকে পরাভূত করতে পারে নি। আবদার রহমানের পঞ্চাশ জন সৈন্য দেখেই নুমান মনে করলো মালিকের বাহিনী আসা আরম্ভ করেছে। ফলে সে যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গেলো। এমনকি পালিয়ে যাবার সময়ও মালিক তাড়া করে তাদের তিন জনকে হত্যা করেছে।