জুলুম ও হারাম উপার্জন সম্পর্কে আমি আল্লাহর প্রশধ্বংসা করি এবং শয়তানের প্রতারণামূলক কর্মকান্ডের শাস্তি থেকে তাঁর সাহায্য এবং শয়তানের দুরভিসন্ধি (ফাব্দ) ও ওতপাত থেকে তাঁর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মান্বুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর বান্দা ও রাসুল। মুহাম্মদের বৈশিষ্ট্য কারো সাথে তুলনীয় নয় এবং তাঁকে হারানোর ক্ষতি কখনো পূরণীয় নয়। জনবসতিপূর্ণ স্থানসমূহ তাঁর মাধ্যমে আলোকিত হয়েছিল। সেসব স্থান পূর্বে গোমরাহির অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। সেসব স্থানে ছিলো সর্বগ্রাসী অজ্ঞতা ও রূঢ় আচরণ এবং মানুষ হারামকে হালাল মনে করতো, জ্ঞানীদেরকে অবমানিত
করতো, পথ প্রদর্শকবিহীন অবস্থায় জীবন যাপন করতো ও অবিশ্বাসী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতো। হে। আরবের জনগণ, তোমরা বিপর্যয়ের শিকার হবে যা সন্নিকটে রয়েছে। তোমরা সম্পদের নেশা
পরিহার কর, খোশগল্পের আডডায় সময় নষ্ট করার বিপদকে ভয় কর, ফেতনা-ফ্যাসাদের অন্ধকার ও বক্রতায় নিজেদেরকে সুদৃঢ় ও শক্ত রাখো। যখন ফেতনার গুপ্ত প্রকৃতি তার স্বরূপ প্রকাশ করে দেয়, তখন গোপনীয় বিষয় সর্বসমক্ষে প্রকাশিত হয় এবং এর আবর্তনের অক্ষরেখা ও কিলক শক্তি সঞ্চার করে। এটা নগণ্য অবস্থা থেকে শুরু হয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থায় উন্নীত হয়। প্রারম্ভে এটা কিশোরের মতো হলেও এর আঘাত প্ৰস্তরাঘাতের মতো বেদনাদায়ক ।
অত্যাচারীগণ (পরস্পর) চুক্তির ভিত্তিতে এর উত্তরাধিকারিত্ব লাভ করে। তাদের প্রথম জন পরবতীগণের জন্য নেতা হিসাবে কাজ করে এবং পরবর্তীগণ প্রথমজনকে অনুসরণ করে। তারা ঘূণ্য দুনিয়া নিয়ে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে এবং পুতিগন্ধময় এ শবদেহের (দুনিয়া) ওপর লাফিয়ে পড়ে। সহসাই অনুসারীগণ নেতার সাথে চুক্তি বাতিল ঘোষণা করবে এবং নেতাও অনুসারীর সাথে। পারস্পরিক কারণে তাদের মধ্যে থাকবে অনৈক্য এবং একের সাথে অপরের দেখা হলে অভিশম্পাত দেবে। এরপর এমন এক ফেতনাবাজের আবির্ভাব ঘটবে যে বিনষ্ট জিনিস ধ্বংস করে দেবে। স্বাভাবিক স্পন্দনপ্রাপ্ত হৃদয় আবার কম্পিত হবে, নিরাপত্তার পর মানুষ আবার বিপথগামী হবে, কামনাবাসনা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়ে বহুমুখী হয়ে পড়বে এবং সঠিক ধ্যান-ধারণা তালগোল পাকিয়ে ফেলবে।
এ সময়ের ফেতনার দিকে যে এগিয়ে যাবে সে ধ্বংস প্রাপ্ত হবে এবং যে এর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করবে: তাকে খতম করে দেয়া হবে। বন্য গাধা যেভাবে পালের মধ্যে কামড়া-কামড়ি করে তারাও নিজেদের মধ্যে তদ্রপ কামড়া-কামড়ি করবে। রাশির গোলাকার চক্ৰ (সত্য ও ন্যায়) এলোমেলো হয়ে যাবে এবং কর্মকান্ডের বাহ্যিক দিকে সকলেই অন্ধ হয়ে থাকবে। এসময় জ্ঞান ও বোধশক্তিতে ভাটা পড়বে এবং জালেমগণই শুধু কথা বলার সুযোগ পাবে। এ ফেতনা তার হাতুড়ি দিয়ে বেদুইনদেরকে বিচূর্ণ করে ফেলবে এবং তার বক্ষ দ্বারা তাদেরকে পিষে ফেলবে। এর গুড়োর মধ্যে একজন পদব্ৰজক ডুবে যাবে এবং এর পথে একজন অশ্বারোহী ধ্বংস হয়ে যাবে। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস নিয়ে এটা আসবে এবং (দুধের পরিবর্তে) তাজা রক্ত দেবে। এটা ইমানের মিনার ভেঙ্গে ফেলবে এবং দৃঢ় বিশ্বাসের বন্ধন চুর্ণ বিচূর্ণ করে ফেলবে। জ্ঞানীরা এটা থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাবে, অন্যায়কারীরা এর পৃষ্ঠপােষক হবে। এটা বজের মতো গর্জন করবে এবং বিজলীর মতে চমকাবে। এটা নিদারুণ বিপর্যয়ের সৃষ্টি করবে। এতে আত্মীয়ের বন্ধন ছিন্ন হয়ে যাবে এবং ইসলাম পরিত্যাক্ত হবে। যে ব্যক্তি এ অবস্থা অস্বীকার করবে। সে ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং যে ব্যক্তি এটা থেকে পালিয়ে যেতে চাইবে তাকে এতে থাকতে বাধ্য করা হবে।
তাদের মধ্যে কতেক প্রতিশোধবিহীন অবস্থায় শহিদ হবে এবং কতেক ভয়ে আতঙ্কিত হবে ও আশ্রয় প্রার্থনা করবে। তারা প্রতিশ্রুতি ও ইমানের ভান দ্বারা প্ৰতারিত হবে। তোমরা ফেতনা ও বিদা’তের নিশান বরদার হয়ো না। তোমরা সোপথ মেনে চলো যার ওপর উম্মাহর বন্ধন ও আনুগত্যের স্তম্ভ প্রতিষ্ঠিত। মজলুম হিসাবে তোমরা আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়ো এবং জালেম হিসাবে তাঁর দিকে অগ্রসর হয়ে না। শয়তানের পথ আর বিদ্রোহের স্থান এড়িয়ে চলো। তোমাদের পেটে হারাম খাদ্যকণা ঢুকিয়ো না, কারণ তোমরা তাঁর সম্মুখীন হচ্ছে, যিনি অবাধ্যতাকে হারাম করেছেন এবং আনুগত্যের পথকে তোমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন।









