রাসুলের ওপর কিভাবে সালাম পেশ করতে হয় সে সম্পর্কে আমিরুল মোমেনিন বলেনঃ হে আল্লাহ, তুমি পৃথিবীর উপরিভাগকে বিস্তুতকারী এবং আকাশ মন্ডলের সুনির্দিষ্ট রক্ষক। তুমি ভালো ও মন্দ স্বভাব সম্পন্ন হৃদয় সৃষ্টিকারী। মুহাম্মদের (সঃ) প্রতি তোমার পছন্দের সেরা সালাম ও বরকত বর্ষণ করো। তিনি তোমার বান্দা ও রাসুল। তিনি সর্বশেষ। নবি । যা নিরুদ্ধ ছিল তিনি তা উন্মুক্ত করেছেন। তিনি সত্যের ঘোষণাকারী। তিনি অন্যায়ের সৈন্যকে পর্যুদস্তকারী এবং বিভ্রান্তির আক্রমণ ধ্বংসকারী। যেহেতু তুমি রেসালতের মহান দায়িত্বের বোঝা তাঁর স্কন্ধে দিয়েছে। সেহেতু তিনি তোমার আদেশের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থেকে সে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছেন। তিনি তোমার ইচ্ছার প্রতি অগ্রসরমান ছিলেন। এতে তাঁর কোন পদক্ষেপে সংকোচন ছিল না এবং তাঁর দৃঢ় সংকল্পে কো দুর্বলতা ছিল না। তোমার অহি শ্রবণে ও তোমার ওয়াদা সংরক্ষণে তিনি কার্পণ্য করেন নি। তোম আদেশ তিনি ছড়িয়ে দিয়ে অনুসন্ধানকারীদের জন্য আলো জ্বলিয়ে দিয়েছিলেন এবং যারা অন্ধকারে হাতড়ে চলছিলো তাদেরকে আলোর সন্ধান দিয়েছিলেন। যে হৃদয়সমূহ ফেতনা-ফ্যাসাদে লিপ্ত ছিল তারা তার মাধ্যমে হেদায়েত প্রাপ্ত হয়েছিল। তিনি সুস্পষ্ট পথের নিদর্শন ও সমুজ্জ্বল নির্দেশাবলী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি তোমার বিশ্বস্ত আমানতদার এবং তোমার জ্ঞান ভান্ডারের খাজেন (খাজাঞ্চি)। শেষ বিচারের দিনে তিনি তোমার সাক্ষী। তিনি তোমার সত্যের দূত এবং মানুষের নিকট তোমার বার্তাবাহক। হে আল্লাহ, তোমার ছায়াতলে তার জন্য বিশাল স্থান নির্ধারণ কর এবং তোমার অগণনীয় রহমত তাকে প্রদান কর। হে আল্লাহ, তাঁর নির্মাণকে (মিশন বা আদর্শ) সকল নির্মাণের ওপর উচ্চতা প্রদান করো, তোমার নিকট তাঁর মর্যাদাকে সমুচ্চ করো, তাঁর নূরকে পরিপূর্ণতা প্রদান করো এবং তাঁর আলোকে তুমি উদ্ভাসিত রাখে। তোমার রেসালতের দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালনের জন্য তাঁর সাক্ষ্যই গ্রহণ করো এবং তাঁর বক্তব্য পছন্দনীয় করো, কারণ তাঁর বক্তব্য ন্যায়ভিত্তিক ও তাঁর বিচার সুস্পষ্ট। হে আল্লাহ, আমাদেরকে ও তাঁকে জীবনের আনন্দে, নেয়ামতের বহাল অবস্থায়, আকাঙ্খার পরিতৃপ্তিতে, আনন্দ উপভোগে, জীবন ধারণের আরামে, মনের শান্তিতে ও সম্মানের অনুদানে একত্রে রেখো।









