খরিজিদের সম্পর্কে
আমি বিপথগামী হয়ে গেছি বা বিভ্রান্ত হয়ে গেছি- এসব কথা বলা যদি তোমরা বন্ধ না কর তবে কেন তোমরা মনে কর না যে, নবি মুহাম্মদের (সঃ) অনুসারীদের মধ্যে সাধারণ লোকেরা আমার মতো পথভ্ৰষ্ট হয়ে গেছে? আমার যেসব কাজকে তোমরা বিভ্রান্তি বল কেন তাদের সেসব কাজকে বিভ্রান্তি বল না? আমার যেসব কাজকে পাপ বলা কেন সেসব কাজের জন্য তাদেরকে অবিশ্বাসী বল না? তোমরা তোমাদের তরবারি কাধের ওপর রেখেছে এবং ন্যায়-অন্যায় বিচার বিবেচনা ছাড়াই যথেচ্ছ তা ব্যবহার করছে। পাপী ও নিম্পাপের মধ্যে তোমরা তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে। দেখ, রাসুল (সঃ) বিবাহিত ব্যভিচারীকে পাথর মেরে হত্যা করার আদেশ দিয়েছিলেন, তারপর তিনি তার জানাজায় হাজির হয়েছিলেন এবং তার পরবতীগণকে তার উত্তরাধিকারের অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি খুনিকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরবর্তীগণকে তার উত্তরাধিকারের অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি চোরের হাত ব্যবচ্ছেদ করে দিয়েছিলেন এবং অবিবাহিত ব্যভিচারীকে বেত্ৰাঘাত করেছিলেন, কিন্তু বায়তুল মাল থেকে তাদের হিস্যা প্রদান করেছিলেন ও তারা মুসলিম রমণী বিয়ে করেছিল। এভাবে রাসুল (সঃ) তাদের পাপের জন্য তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিলেন, আবার তাদের বিষয়ে আল্লাহর আদেশও মান্য করেছিলেন। না তিনি ইসলাম কর্তৃক প্রদত্ত অধিকার থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করেছেন আর না। তিনি ইসলামের অনুসারীদের তালিকা থেকে তাদের নাম কেটে দিয়েছেন। নিশ্চয়ই, তোমরা সর্বাপেক্ষা খারাপ লোক এবং তোমরা হলে সেসব লোক যাদেরকে শয়তান তার পথে রেখেছে এবং তার বেরিয়ে আসার পথবিহীন রাজ্যে নিক্ষেপ করেছে। আমার বিষয়ে দুপ্রকার লোক ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। প্রথমত যে আমাকে অত্যধিক ভালোবাসে এবং এ ভালোবাসা তাকে ন্যায়পরায়ণতা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। দ্বিতীয়ত যে আমাকে অত্যধিক ঘূণা করে এবং সে ঘূণা তাকে ন্যায়পরায়ণতা থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। আমার বিষয়ে সে ব্যক্তি সর্বোত্তম যে মধ্যপন্থাবলম্বী। সুতরাং তার সাথে থেকে এবং সসংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের সাথে থেকে কারণ আল্লাহর হাত (প্রতিরক্ষার) ঐক্য রক্ষার ওপর। বিভেদ সম্পর্কে তোমরা সাবধান থেকে কারণ দল থেকে বিচ্ছিন্ন একজন লোক সহজেই শয়তানের শিকারে পরিণত হয়। যেমন করে পাল থেকে বিচ্ছিন্ন ভেড়া নেকড়ের শিকার হয়। সাবধান, এ পথের দিকে যে আহবান করে তাকে হত্যা কর; যদি সে আমার পাগড়ীর নিচেও থেকে থাকে। নিশ্চয়ই সালিসীদ্বয় নিয়োগ করা হয়েছিলো এ জন্য যে, কুরআন যা বঁচিয়ে রাখতে বলে তা বঁচিয়ে রাখার জন্য এবং কুরআন যা ধ্বংস করতে বলে তা ধ্বংস করার জন্য। বঁচিয়ে রাখা অর্থ হলো কুরআন-সমর্থিত বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়া, আর ধ্বংস মানে হলো কুরআন-অসমর্থিত বিষয়ে বিভেদ হওয়া। কুরআন যদি আমাদেরকে তাদের দিকে পরিচালিত করে তাহলে আমরা তাদেরকে অনুসরণ করবো এবং কুরআন যদি তাদেরকে আমাদের দিকে পরিচালিত করে তাহলে তারা আমাদেরকে অনুসরণ করবে। তোমাদের পিতা না থাকুক (তোমাদের ওপর ল্যানত), আমি তোমাদের কোন দুর্ভাগ্য ঘটাই নি; আমি তোমাদেরকে কোন বিষয়ে প্রতারণা করি নি; আমি কোন বিষয়ে দ্বিধা-দ্বন্দু সৃষ্টি করি নি। তোমাদের নিজেদের দল সর্বসম্মতিক্রমে এ দুজন লোকের বিষয়ে সুপারিশ করেছিলো। আমরা তাদেরকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছিলাম যেন তারা কুরআনের ব্যতিক্রম না করে। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিলো এবং ন্যায় পরিত্যাগ করেছিলো। অথচ তারা উভয়েই কুরআন সম্পর্কে অবগত। তারা তাদের প্রবৃত্তির তাড়নায় এহেন অন্যায় কাজ করেছিলো এবং তারা কুরআনের বিধান পদদলিত করেছিলো। আমরা মনে করেছিলাম যে, ন্যায়-বিচারের সাথে সালিস করতে গিয়ে এবং ন্যায়পরায়ণতার প্রতি স্থিরচিত্ত থাকতে গিয়ে তারা তাদের নিজেদের মতামতের কুপ্রভাব ও নিজেদের রোয়েদাদের অকল্যাণ বর্জন করবে। কিন্তু তারা তা করতে পারে নি। সেহেতু তাদের রোয়েদাদ আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।









