জিয়াদ ইবনে আবিহর প্রতি
আমি জানতে পেরেছি যে, মুয়াবিয়া তোমার বুদ্ধিমত্তার দ্বারা প্রতারণা করার জন্য এবং তোমার তীক্ষতা ভোতা করার জন্য তোমাকে পত্র দিয়েছে। মুয়াবিয়া থেকে সাবধান থেকো, কারণ সে প্রকাশ্য শয়তান যে ইমানদারগণের সম্মুখ ও পিছন, ডান ও বাম সকল দিক হতে সমীপবতী হয়। সে সর্বদা ওৎ পেতে থাকে যেন অসতীক মুহুর্তে হঠাৎ করে একজন ইমানদারকে ধরে তার বুদ্ধিমত্তাকে পরাভূত করতে পারে ।
উমর ইবনে খাত্তাবের সময়ে আবু সুফিয়ান” সর্বদা একটা কথা বলতে যা ছিল শয়তানের কুউপদেশ। তার সে কথায় কখনো জ্ঞাতিত্ব প্রতিষ্ঠিত হতো না এবং উত্তরাধিকারের প্রাপ্যতাও ঘটতো না। যে এতে নির্ভর করবে। সে কোন জেয়াফতে আমন্ত্রিত মেহমানের মতো, যে খাদ্যের কাছে ঘুর-ঘুর করে।
১। শক্রকে প্রতিহত করার জন্য খলিফা উমর ইয়েমেনে জিয়াদকে প্রেরণ করেছিলেন। তার দায়িত্ব সমাপ্ত করে যখন সে ফিরে এসেছিল তখন জনসমক্ষে সে একটা বক্তব্য রেখেছিল। আমিরুল মোমেনিন, উমর, আমর ইবনে আস ও আবু সুফিয়ান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার বক্তব্যে খুশি হয়ে আমর ইবনে আস বললো, “লোকটি কী ভাল মানুষ! সে যদি কুরাইশ গোত্রের হতো। তবে সে তার ছড়ি দ্বারা পুরো আরব দেশ চালাতে পারতো।” এতে আবু সুফিয়ান বললো, “সে কুরাইশ বংশদ্ভুত, কারণ আমি জানি কে তার পিতা।” আমর জিজ্ঞেস করলো, “কে সে ব্যক্তি”। আবু সুফিয়ান বললে, “আমি”। ইতিহাসেও একথা স্বীকৃত যে জিয়াদের মা সুমাইয়া হারিছ ইবনে কালদাহর ক্রীতদাসী ছিল। উবায়েদ নামক এক কৃতদাসের সাথে তার বিয়ে হয়েছিল। তায়েফের হারাতুল বাঘায়া নামক স্থানের একটা বাসায় সুমাইয়া পতিতার জীবন যাপন করতো। একদিন আবু সুফিয়ান আবু মারিয়াম সালুলির মাধ্যমে সুমাইয়ার সাথে রাত্রি যাপন করেছিল এবং তাতে জিয়াদ জন্ম গ্রহণ করেছিল। আমরা এতে জিজ্ঞেস করলো, “তাহলে কেন তুমি তাকে ঘোষণা দিয়ে স্বীকৃতি দিচ্ছ না”? আবু সুফিয়ান উমরকে দেখিয়ে বললে, “উনার ভয়ে, না হয়। অবশ্যই স্বীকৃতি দিতাম।” কিন্তু মুয়াবিয়া ক্ষমতা পাওয়ার পর জিয়াদের বুদ্ধিমত্তা ও ছল চাতুরীর প্রয়োজন অনুভব করে তাকে ভাই হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে পত্রালাপ শুরু করেছিল। আমিরুল মোমেনিন। একথা জানতে পেরে মুয়াবিয়ার ফাঁদে না পড়ার জন্য তাকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। কিন্তু সে তবুও মুয়াবিয়ার ফাঁদে পড়েছিল এবং মুয়াবিয়া তাকে ভাই বলে ঘোষণা করেছিল। অথচ রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ “ছঙ্গে ছারের পর সন্তান হবে বিধি সম্মত স্বামীর।”