ইরাকের জনগণকে ভৎসনা ওহে ইরাকের জনগণ’! তোমরা হলে সেই গর্ভবতী মহিলার মতো যে গর্ভসময় পূর্তির পর একটা মৃত সন্তান প্রসব করে এবং তার স্বামীও মারা যায় এবং তার বৈধব্য দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ে, ফলে দূরবতী আত্মীয়-স্বজন তার উত্তরাধিকারী হয়। আল্লাহর কসম, আমি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তোমাদের কাছে আসি নি। অবস্থার প্রেক্ষিতে আমি আসতে বাধ্য হয়েছি। আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা বল আলী মিথ্যা কথা বলে। আল্লাহ্ তোমাদেরকে ধ্বংস করুন। কার বিরুদ্ধে আমি মিথ্যা বলি? আল্লাহর বিরুদ্ধে? কিন্তু তাঁর প্রতি ইমান আনাতে আমিই তো প্রথম। তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে? কিন্তু আমিই তো প্রথম যে তাকে বিশ্বাস করে। কখনো নয়; আল্লাহর কসম, আমি যা বলেছি তা সম্পূর্ণ সঠিক। তোমরা সে সময় উপস্থিত ছিলে না— থাকলেও সে কথা বোঝার যোগ্য লোক তোমরা নেও । তোমাদের ওপর অভিশাপ ! আমি বিনামূল্যে আমার সুশোভন বক্তব্য তোমাদের দিয়ে যাচ্ছি। আহা! এটা ধারণ করার মতো পাত্র যদি থাকতো । “কিয়াৎকাল পরে তোমরা এটা অবশ্যই বুঝতে পারবে ।” (কুরআন-৩৮ ? ৮৮)
১। সালিসির পর মুয়াবিয়ার আক্রমণ ক্রমাগত বেড়ে যায়। এসব আক্রমণ প্রতিহত করতে ইরাকিদের শৈথিল্য ও হায়দহীনতা দেখে আমিরুল মোমেনিন। তাদের ভৎসনা করে এ ভাষণ দেন। এ ভাষণে তারা যে সিফফিনে প্রতারিত হয়েছে তা উল্লেখ করে পাঁচটি বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন মহিলার সাথে তাদের তুলনা করেনঃ
(ক) মহিলাটি গর্ভবতী— এতে বুঝানো হয়েছে। ইরাকিদের যুদ্ধ করার ক্ষমতা ছিল। তারা বন্ধ্যা নারীর মতো নয় যার কাছে কিছু আশা করা যায় না। (খ) তার গর্ভকাল পূর্তি হয়েছে-অর্থাৎ ইরাকিরা যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করে চূড়ান্ত বিজয়ের মুখে পৌছেছিল। (গ) সে মৃত সন্তান প্রসব করলো- অর্থাৎ চুড়ান্ত বিজয়ের মুখে তারা সালিসিতে যাবার জন্য জেদ ধরলো এবং বিজয়ের পরিবর্তে নৈরাশ্যের মোকাবেলা করলো ।
(ঘ) তার বৈধব্য দীর্ঘস্থায়ী হলো-অর্থাৎ এমন এক আস্থায় তারা পড়লো যে তাদের কোন রক্ষাকর্তা বা পৃষ্ঠপোষক রইলো না এবং তারা কোন শাসনকর্তা ছাড়া ঘুরে বেড়াতে লাগলো। (ঙ) দূরবতী আত্মীয় তার উত্তরাধীকারী হলো—অর্থাৎ সিরিয়ার জনগণ যাদের সঙ্গে কোন আত্মীয়তা নেই তারাই ইরাকিদের সম্পদ দখল করলো ।