কুফায় দুর্যোগ। আপতন সম্পর্কে হে কুফা, যদিও আমি দেখতে পাচ্ছি বাজারে উকাযি’-র পাকা চামড়ার মতে তুমি আকর্ষিত হচ্ছে তবুও তুমি দুর্যোগ কবলিত ও সাংঘাতিক বিপদসঙ্কুল। আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে, কোন স্বেচ্ছাচারী যদি তোমার মন্দ করতে চায়। তবে আল্লাহ তাকে উদ্বিগ্নতার নিদারুণ যন্ত্রণা দেবেন এবং তার হত্যাকারী নিয়োজিত করে দেবেন।
১। প্রাক-ইসলামিক যুগে মক্কার সন্নিকটে প্রতি বছর একটা হাট বসতো। এর নাম ছিল উকায’ এবং এ হাটে বেশির ভাগ চামড়া বেচাকেনা হতো। এছাড়া সাহিত্য সভাও এ হাটে অনুষ্ঠিত হতো এবং আরবগণ তাদের সাহিত্যকর্ম এতে আবৃত্তি করতো। ইসলামের যুগে হজ সমাবেশের ফলে এ হাট উঠে গেছে।
২। আমিরুল মোমেনিনের এ ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছিল। সারা দুনিয়া দেখেছে যারা ক্ষমতার দম্ভে স্বেচ্ছাচারিতা ও অত্যাচার করেছিল, তারা কি মর্মন্তুদ ফল ভোগ করেছিল এবং রক্তপাত আর গণহত্যার দ্বারা তাদের ধ্বংস এসেছিল। জিয়াদ ইবনে আবিহ (পিতৃ পরিচয়হীন পুত্র) আমিরুল মামোমেনিনের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তৃতা দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করলে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে পড়ে এবং সে জীবনে আর বিছানা ত্যাগ করে উঠতে পারে নি। উবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ শেষ রক্তপাত সংঘটিত করেছিল। সে কুণ্ঠরোগের শিকার হয়েছিল এবং পরিণামে রক্ত পিপাসু। তরবারি তার মৃত্যু ডেকে আনলো। হাজ্জাজ ইবনে ইউছুফ আছ-ছাকাফীর নিষ্ঠুরতা তার ভাগ্যকে এমন দুরবস্থায় টেনে নিয়ে গেল যে, তার পেটে অপ্রত্যাশিতভাবে সাপ আবির্ভূত হলো এবং নিদারুণ যন্ত্রণায় মারা গেল। উমর ইবনে হুবায়রাহ আল-ফাজারি শ্বেতীরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেল। খালিদ ইবনে আবদিল্লাহ আল-কাসরি বন্দী অবস্থায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে নিহত হলো। মুসাব ইবনে যুবায়ের এবং ইয়াযিদ ইবনে মুহাল্লাব তরবারির আঘাতে নিহত হয়েছিল।