উসমানের হত্যার জন্য যারা তাকে দোষী করেছিল তাদের সম্বন্ধে সাবধান! শয়তান তার সেনাবাহিনী সংগ্রহ করে নিশ্চয়ই তাদের প্ররোচিত ও সুসজ্জিত করতে আরম্ভ করেছে যেন অত্যাচার শেষ সীমায় পৌছায় এবং বিভ্রান্তি আসন গেড়ে বসতে পারে। আল্লাহর কসম, তারা আমার ওপর যে দোষ আরোপ করছে তা সঠিক নয় এবং আমার ও তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার করছে।
তারা আমার কাছে একটা অধিকার দাবি করছে যা তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা আমার কাছে এমন একটা রক্তপণ চাচ্ছে যা তারা নিজেরাই ঘটিয়েছে’। আমি যদি সে রক্তপাতে তাদের অঅংশীদার হতাম। তাহলেও তাতে তাদের অংশ রয়েছে। কিন্তু তারা আমাকে ছাড়াই সে রক্তপাত ঘটিয়েছে। কাজেই তার ফলাফলও তাদের ভুগতে হবে। আমার বিরুদ্ধে সব চাইতে জোরালো যে যুক্তি তারা দাঁড় করিয়েছে প্রকৃত অর্থে তা তাদের নিজেদের বিরুদ্ধে যায়। তারা এমন মায়ের স্তন চুষছে যার দুধ আগেই শুকিয়ে গেছে এবং এমন বানোয়াট বিষয়কে জীবন দান করতে চায় যা আগেই মরে গেছে। কত হতাশাব্যঞ্জক যুদ্ধের জন্য তাদের এ চ্যালেঞ্জ? কে এই চ্যালেঞ্জার এবং কিসের জন্য সে সাড়া দিচ্ছে? আমি খুশি এ জন্য যে, তাদের সম্মুখে সকল যুক্তি নিঃশেষ করা হয়েছে এবং তাদের সম্বন্ধে আল্লাহ সবকিছু অবগত আছেন। (আমার নির্দোষ হবার যুক্তি মানতে)। যদি তারা অস্বীকৃতি জানায় তবে আমার তরবারি উন্মুক্ত রইল যা ভুলের চিকিৎসক ও ন্যায়ের সমর্থক হিসেবে যথেষ্ট।
এটা বিস্ময়কর যে, বর্শা-যুদ্ধের জন্য এগিয়ে যেতে এবং তরবারি-যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে তারা আমাকে খবর পাঠিয়েছে। শোক প্রকাশকারী রমণীকুল তাদের জন্য ক্রুন্দন করুক! আমি কি কখনো এমন ছিলাম যে, যুদ্ধকে ভয় করেছি বা সংঘর্ষে আতঙ্কিত হয়েছি। আল্লাহ চিরকাল আমার সহায় এবং আমার ইমানে কোন প্রকার সংশয় নেই।
১ । উসমান নিহত হবার জন্য যখন আমিরুল মোমেনিনকে দোষারোপ করা হলো তখন তিনি অভিযোগ খন্ডন করে এ খোৎবা প্রদান করেন। যারা তাকে দোষারোপ করেছিলো তাদের সম্বন্ধে তিনি বলেন, “এ প্রতিশোধ গ্রহণেছুগণ একথা বলতে পারে না যে, আমি একাই হত্যা করেছি এবং অন্য কেউ এতে অংশ গ্রহণ করে নি। প্রত্যক্ষভাবে দেখা ঘটনা প্রবাহ তারা এ বলে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে পারবে না যে, তারা এ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল না। তাহলে কেন তারা প্রতিশোধ গ্রহণে আমাকে সর্বাগ্রে ধরেছে? আমার সাথে তাদের নিজদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যদি আমি এ অপবাদ থেকে মুক্তও হই তবু ওরা মুক্ত বলে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে না। সুতরাং তারা কিভাবে শাস্তি থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করবে? সত্যি কথা কী, আমাকে এ অভিযোগে অভিযুক্ত করার পিছনে তাদের উদ্দেশ্য হলো— আমি যেন তাদের প্রতি সেরকম আচরণ করি যেরকম আচরণ পেয়ে তারা অভ্যস্ত হয়েছে। কিন্তু এটা তারা আমার কাছ থেকে আশা করতে পারে না যে, পূর্ববতী সরকারগুলোর নতুন প্রবর্তনগুলো আমি পুনরুজীবিত করবো। যুদ্ধের বিষয়ে আমি পূর্বেও কখনো ভীত ছিলাম না, এখানো ভীত নই। আমার মনোভাব সম্বন্ধে আল্লাহ জ্ঞাত আছেন। আর আল্লাহ এও অবহিত আছেন যে, আজ যারা প্রতিশোধ গ্রহণের ওজর দেখিয়ে আমার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে তারাই তার হত্যাকারী।” ইতিহাসে বিধৃত আছে যে, গোলযোগ সৃষ্টি করে যারা উসমানকে হত্যা করার ব্যবস্থা করেছিল, এমনকি তার মৃতদেহের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে মুসলিমদের কবরস্থানে তার দাফন প্রতিহত করেছিল তারাই তার রক্তের বদলা নিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনে তৎপর হয়েছিল। এদের মধ্যে তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ, জুবায়ের ইবনে আওয়াম ও আয়শা বিনতে আবু বকরের নাম তালিকার শীর্ষে রয়েছে। হাদীদ *** লেখেছেঃ যে সব ঐতিহাসিক উসমান হত্যার বিস্তারিত লেখেছেন তাদের বর্ণনামতে উসমানকে হত্যা করার দিন নিজেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখার জন্য তালহা কালো আবরণ দিয়ে মুখ ঢেকে উসমানের গৃহের দিকে তীর নিক্ষেপ করেছিল । ঐতিহাসিকগণ আরো বর্ণনা করেছেন যে, জুবায়ার বলেছিল, “উসমানকে হত্যা কর । সে আমাদের ইমান পরিবর্তন করে দিয়েছে।” দিচ্ছে ৷ ” উত্তরে জুবায়ার বলেছিল, “আমার পুত্রকে হারালেও কোন দুঃখ নেই, কিন্তু (vg-s、????-Cé) আয়শা সম্পর্কে রাব্বিহী” লেখেছেনঃ মুঘিরাহ ইবনে শুবাহ একদিন আয়শার কাছে এসেছিল । তখন আয়শা বললেন, হে আবু আবদিল্লাহ, আমার মনে হয়। জামালের যুদ্ধের দিনে তুমি আমার সঙ্গে ছিলে । তুমি নিশ্চয়ই দেখেছে কী হারে তীর আমার হাওদা ভেদ করে চলে গিয়েছিল । কয়েকটি তীর আমার শরীরে সামান্য আঘাতও করেছে।” মুঘিরাহ বললো, “সেসব তীরের আঘাতে তোমার মৃত্যু হলে ভাল হতো !” আয়শা বললেন, “আল্লাহ না করুন, তুমি আমন কথা বলছো কেন?” উত্তরে মুঘিরাহ বললো, “উসমানের বিরুদ্ধে তুমি যা করেছে। তাতে তার কিছুটা প্ৰায়শ্চিত্ত৷ হতো।” (খন্ড-৪, পৃঃ ২৯৪) |