আল্লাহর প্রশধ্বংসা, আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ ও বিচার দিনের বর্ণনা
প্রতিষ্ঠিত প্রশধ্বংসা আল্লাহ্র যিনি তাঁর কুদরতের অত্যাশ্চার্যের মাধ্যমে তাঁর ক্ষমতা ও মহত্ত্বের বাস্তবতা এভাবে প্রকাশ করেছেন যে, চক্ষুষ্মান ব্যক্তির চোখে ধাঁধা লেগে যায় এবং তাঁর গুণাবলীর বাস্তবতার প্রশধ্বংসা করতে জ্ঞান স্থবির হয়ে পড়ে। আমি ইমানের বলে নিশ্চয়তা, আন্তরিকতা ও দৃঢ়তার সাথে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া আর কোন মা’বুদ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর বান্দা ও রাসুল যাকে তিনি এমন এক সময় পাঠিয়েছিলেন যখন হেদায়েতের চিহ্ন বিলোপ হয়ে গিয়েছিল এবং দ্বিনের পথ উৎসাদিত করেছিল। সুতরাং তিনি সত্যকে প্রকাশ্যে সকলের সম্মুখে ছেড়ে দিলেন, জনগণকে উপদেশ দিলেন, ন্যায়ের দিকে তাদেরকে পরিচালিত করলেন এবং মধ্যপন্থী হতে তাদেরকে আদেশ দিলেন। তিনি ও তার আহলুল বাইতের ওপর আল্লাহর রহমত বৰ্ষিত হোক ।
হে আল্লাহর বান্দাগণ, জেনে রাখো, তিনি বিনা কারণে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেন নি এবং তোমাদেরকে মুক্তভাবে ছেড়েও দেন নি। তোমাদের ওপর তার রহমতের পরিমাণ তিনি জানেন এবং তাঁর নেয়ামতের পরিমাণও তিনি জানে। কাজেই, কৃতকার্যতার জন্য ও লক্ষ্য অর্জনের জন্য তাঁর দরবারে প্রার্থনা কর। তার কাছে যা চুনা কর এবং তার দয়া ভিক্ষা কর। কোন পর্দা তার কাছ থেকে তোমাদেরকে গোপন করতে পারবে না এবং কোন দরজা বন্ধ করে তার হাত থেকে রক্ষা পাবে না। তিনি সর্বত্র আছেন এবং প্রতি পলে অনুপলে তিনি আছেন। প্রতিটি মানুষ ও জিনের সঙ্গে তিনি আছেন। দান করা তার প্রকৃতি বিরুদ্ধ নয় এবং দান করলে তাঁর কোন কিছুতে কমতি দেখা দেয় না। ভিক্ষুকের দল তাঁর কিছুই নিঃশেষ করতে পারে না এবং দান করে তার ঐশ্বৰ্য কখনো শেষ হয় না।
একজন আহবান করলে তাঁর দৃষ্টি অন্যদের ওপর থেকে সরে যায় না; একজনের স্বর তাঁর কাছে অন্যদের স্বরকে আশ্রত রাখে না এবং একজনের প্রতি নেয়ামত মঞ্জরী অন্যদের প্রতি না-মঞ্জর করতে তাকে বারিত করে না। কারো প্রতি তার দয়া অন্যদেরকে শাস্তি প্ৰদান থেকে তাকে বিরত রাখে না । তাঁর গুপ্তাবস্থা তার স্বপ্রকাশকে বারিত করে না এবং স্বপ্রকাশ গুপ্তাবস্থাকে প্রতিহত করতে পারে না। তিনি নিকটবতী এবং একই সময়ে তিনি দূরবতী। তিনি সমুচ্চ এবং একই সময়ে নিচু। তিনি প্রকাশ্য এবং গুপ্ত। তিনি গুপ্ত তবুও সুপরিচিত (সুজ্ঞাত)। তিনি ঋণ প্ৰদান করেন। কিন্তু কোন ঋণই গ্রহণ করেন না। তিনি নমুনা একে কোন কিছু সৃষ্টি করেন নি এবং ক্লান্তির কারণে কারো কোন সাহায্য গ্রহণ করেন। নি।
হে আল্লাহর বান্দাগণ, আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর । কারণ এটা দ্বিনের প্রধান রজ্জ্ব। এর বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত বিষয়গুলো দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং এর বাস্তবতাকে আঁকড়ে ধরো। এটা তোমাদেরকে বিচার দিনে সুখের বাসস্থানে, নিরাপদ অবস্থানে এবং মহাসম্মানের ঘরে নিয়ে যাবে, তখন তোমাদের চোখ বিস্ফারিত হয়ে যাবে (কুরআন-১৪৪২)। যখন চতুর্দিক অন্ধকারময় হবে, যখন দশ মাসের গর্ভবতী উস্ত্রীর ক্ষুদ্ৰাদলকে মুক্তভাবে চারে খাবার অনুমতি দেয়া হবে এবং যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে তখন সকল জীবিত প্রাণী মরে যাবে, সকল কণ্ঠস্বর বাকরুদ্ধ হয়ে যাবে, উচু পর্বতমালা ও কঠিন শিলাখণ্ড চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে উড়ন্ত বালিতে পরিণত হবে। তখন কোন মধ্যস্থতাকারী থাকবে না, বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য কোন আত্মীয়-স্বজন থাকবে না এবং কোন প্রকার ওজর গ্রাহ্য করা হবে না ।