সময়ের উৎখান-পতন সম্পর্কে
যে ক’জনের নাম আকাশে সুপরিচিত অথচ জমিনে অজানা তাদের নামে আমার পিতা-মাতা কুরবান হোক। সাবধান, তোমাদের ওপর যা আপতিত হতে যাচ্ছে তা হলো তোমাদের কাজে-কর্মে প্রতিকূল অবস্থা, আত্মীয়ের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ ও নিকৃষ্টতর লোকের উত্থান। এ অবস্থা তখন ঘটবে যখন একজন মোমিনের হালাল উপায়ে একটা দিরহাম সংগ্ৰহ করা অপেক্ষা তরবারির আঘাত সহজতর হবে; এ অবস্থা তখন ঘটবে? যখন দানকারী অপেক্ষা ভিক্ষুকের পুরস্কার বেশি হবে; এ অবস্থা তখন ঘটবে যখন তোমরা নেশাগ্ৰস্থ হবে-পানীয় দ্বারা নয়—সম্পদ ও প্রাচুর্য দ্বারা, মানুষ প্রতিশ্রুতি দেবে কিন্তু তার কোন বাধ্যবাধকতা থাকবে না এবং বাধ্য না করা হলেও মানুষ মিথ্যা কথা বলবে; এ অবস্থা তখন ঘটবে যখন বিপদাপদ তোমাদেরকে চেপে ধরবে যেভাবে জিন উটের কুজকে চেপে ধরে। কতকাল এ দুর্দশা চলতে থাকবে এবং তা সংঘটিত হতে আর কত দিন বাকী?
হে জনমন্ডলী, যে ঘোড়া তার পিঠে তোমাদের হাতের ওজন (অর্থাৎ পাপ) বহন করে তার লাগাম ছুড়ে ফেলে দাও। তোমাদের ইমামের কাছ থেকে কেটে পড়ে না; তাহলে তোমাদের কর্মকান্ডের জন্য তোমরা নিজেদেরকে দোষী করবে। তোমাদের সম্মুখস্থ জলন্ত আগুনে ঝাঁপ দিয়ে না; এ পথ থেকে দূরে সরে থাক এবং মধ্যপথ অবলম্বন কর। কারণ আমার জীবনের শপথ, এ আগুনের শিখায় মোমিনগণ মৃত্যুবরণ করবে এবং অন্যরা নিরাপদ থাকবে।
অন্ধকারে প্রদীপের মতো আমি তোমাদের মাঝে আছি। যে কেউ এর নিকটবতী হবে সে-ই আলোক প্রাপ্ত হবে। সুতরাং শোন হে মানুষ, এ প্রদীপ সংরক্ষণ কর এবং হৃদয়ের কান দিয়ে এর প্রতি মনোযোগী থাক যাতে তোমরা বুঝতে পার।
১। “ভিক্ষুকের পুরস্কার দানকারী অপেক্ষা বেশি হবে”- একথা দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, ধনীগণ হারাম উপায়ে সম্পদ আহরণ করবে এবং তাদের দান হবে মোনাফেকিপূর্ণ, লোক দেখানো ও সুনাম অর্জনের উদ্দেশ্যে। ফলে এহেন দানের জন্য তারা কোন পুরস্কার পাবে না। অপরপক্ষে, দরিদ্রগণ অভাবের তাড়নায় দান গ্রহণ করে সঠিক পথে ব্যয় করবে এবং তাতে তারা অধিক পুরস্কার ও বিনিময় আশা করতে পারে ।
ইবনে আবিল হাদীদ”** (খন্ড ১৩, পৃঃ ৯৭) অন্যভাবেও এর ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন যে,
দরিদ্রগণ ধনবানদের নিকট থেকে দান গ্ৰহণ না করলে ধনীগণ আমোদ-প্ৰমোদ, ভোগ-বিলাস ও অবৈধ
পথে তা ব্যয় করবে। কাজেই দান গ্রহণ করে দরিদ্রগণ ধনবানগণকে অবৈধ ও অসৎপথে ব্যয় করা থেকে রক্ষা করে বলে অধিক পুরস্কার ও বিনিময় পাওয়ার যোগ্য ।