যখন খারিজিরা সালিসি প্রত্যাখ্যানের জন্য অনড় অবস্থান গ্ৰহণ করলো তখন আমিরুল মোমেনিন তাদের ক্যাম্পের কাছে গিয়ে তাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ তোমরা সবাই কি সিফফিনে আমাদের সঙ্গে ছিলে? প্রত্যুত্তরে তারা বললো যে, কেউ কেউ ছিল, কেউ কেউ ছিল না। আমিরুল মোমেনিন বললেন, তাহলে তোমরা দুভাগে বিভক্ত হও। যারা সিফফিনে ছিলে তারা এক দিকে যাও। আর যারা সিফফিনে ছিলে না তারা একদিকে যাও যাতে আমি প্ৰত্যেক দলকে যথোচিতভাবে সম্বোধন করতে পারি। তারপর তিনি উচ্চৈঃস্বরে বললেন, কথা বলা বন্ধ করা এবং আমি যা বলি শোন । তোমাদের হৃদয়কে আমার দিকে ফেরাও । যাকে আমি সাক্ষ্য দিতে বলি সে তার জানা মত সাক্ষ্য দেবে | প্রবঞ্চনা, কৌশল, শঠতা ও প্রতারণা হিসাবে যখন তারা কুরআনকে তুলে ধরলে তখন কি তোমরা বল নি “তারা আমাদের ভাই এবং ইসলাম গ্রহণে আমাদের সাখী। তারা চায়। যুদ্ধ বন্ধ করে মহিমান্বিত আল্লাহর কেতাবের আশ্রয় গ্রহণ করতে। আমাদের অভিমত হলো তাদের সাথে একমত হয়ে তাদের অসুবিধা শেষ করে দেয়া।” তখন আমি তোমাদেরকে বলেছিলাম, “এ কাজের বহির্ভাগ ইমান মনে হলেও এর অভ্যন্তরে শক্ৰতা রয়েছে। এর শুরু ধাৰ্মিকতা মনে হলেও এর শেষ হবে অনুশোচনা। কাজেই তোমরা নিজ নিজ অবস্থানে দৃঢ় থাক এবং তোমাদের পথে দৃপ্তপদে দৃঢ়-সংকল্প থাক। তোমরা দীতে দীত চেপে ধরে জিহাদে প্রবৃত্ত থাক। চিৎকারকারীর (মুয়াবিয়া) চিৎকারে কর্ণপাত করো না। যদি তার চিৎকারের জবাব দাও। তবে সে তোমাদের বিপথে পরিচালিত করবে। আর জবাব না দিলে সে অপমানিত হবে।” কিন্তু যখন সালিসি করা হলো, তখন আমি দেখলাম, তোমরা তা মেনে নিয়েছে। আল্লাহর কসম, যদি আমি অস্বীকার করতাম তাহলে তা আমার জন্য বাধ্যতামূলক হতো না এবং আল্লাহ তার পাপ আমার ওপর চাপিয়ে দিতেন না। আল্লাহর কসম, আমি তা গ্ৰহণ করেছি; আমিই ন্যায়সঙ্গত ব্যক্তি যাকে অনুসরণ করা উচিত, কারণ কুরআন আমার সাথে। কুরআনকে সাথি করে নেয়ার পর থেকে আমি কখনো তা পরিত্যাগ করি নি । আমরা রাসুলের (সঃ) সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে ছিলাম, সেখানে আমাদের হাতে যারা নিহত হয়েছিল তারা ছিল আমাদের পিতা, ভ্রাতা, পুত্র ও আত্মীয়-স্বজন। তাসত্ত্বেও সকল দুঃখ-কষ্ট ও অভাব-অনটন আমাদের ইমানকে বৃদ্ধি করেছে, সত্যপথে আমাদেরকে দৃঢ় করেছে, আল্লাহর আদেশের প্রতি অনুগত করেছে এবং ক্ষতস্থানের ব্যথা সহ্য করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। আমাদের এখন যুদ্ধ করতে হবে ইসলামি ভাইদের সাথে কারণ ইসলামে গোমরাহি, বক্রতা, সংশয় ও অপব্যাখ্যার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যাহোক, যদি আমরা কোন পথ দেখি যার সাহায্যে আল্লাহ আমাদেরকে এ বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে একত্রিত করেন এবং যার দ্বারা আমরা একে অপরের কাছে আসতে পারি এবং আমাদের মধ্যে যেসব বিষয়ে উভয়ের মিল আছে তা গ্ৰহণ করে অন্য সব কিছু পরিত্যাগ করতে পারি।