জামালের* যুদ্ধের পর নারীর দৈহিক ক্রুটি সম্পর্কে আমিরুল মোমেনিন বলেনঃ – হে জনমান্ডলী! ইমানে, উত্তরাধিকারে ও আকলে (বুদ্ধিমত্তায়) নারীর কমতি রয়েছে। ইমানে কমতি এ জন্য যে, ঋতুস্রাবে তারা সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকে। আকলে কমতি এ জন্য যে, দুজন নারীর সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমতুল্য। উত্তরাধিকারে কমতি হলো নারী পুরুষের অর্ধেক অংশ পায়। সুতরাং তাদের অশুভ হাতছানি থেকে সতর্ক থেকে; এমন কি তাদের মধ্যে যারা ভালো, তাদের থেকেও নিজেকে রক্ষা করে চলো। কোন ভালো কাজেও তাদের মেনে চলো না, তাহলেই তারা তোমাকে অশুভের দিকে আকর্ষণ করতে পারবে না ।
১। জামালের যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের পর আমিরুল মোমেনিন এ খোৎবা প্ৰদান করেন। একজন নারীর (আয়শা) আদেশ অন্ধভাবে অনুসরণ করার ফলে জামালের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সেজন্য এ খোৎবায় নারীর দৈহিক ত্রুটি ও এর ফলাফল বর্ণিত হয়েছে। নারীকে প্রতিমাসেই ক’দিন সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকতে হয় যা ইমানের কমতি প্রমাণ করে। যদিও ইমানের প্রকৃত অর্থ হলো হৃদয় নিংড়ানো সাক্ষ্য ও দৃঢ়-প্রত্যয় তবুও রূপকভাবে ইমান আমল ও আখলাককে বুঝায়। কারণ আমল ইমানের বহিঃপ্রকাশ। ইমাম আলী ইবনে মুসা আর-রেজা বলেছেনঃ ইমান হচ্ছে হৃদয়ের দৃঢ় প্রত্যয় ও সাক্ষ্য, মৌখিক স্বীকৃতি ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কর্ম। দ্বিতীয় ত্রুটি হচ্ছে—প্রকৃতিকভাবেই নারী আকলের পরিপূর্ণ প্রয়োগ করতে পারে না। সেজন্য প্রকৃতি তাদের কাজের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আকল প্রদান করেছেন যা তাদেরকে গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, সন্তান লালনপালন ও গৃহস্থালী কাজের পথে পরিচালিত করেছে। আকলের কমতি থাকার ফলেই কুরআন বলেঃ এরপর তোমাদের পুরুষদের মধ্য থেকে দুজন সাক্ষী ডাক এবং যদি দুজন পুরুষ সাক্ষী না পাও তবে একজন পুরুষ ও দুজন নারীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা, যাতে একজন নারী কিছু ভুলে গেলে অন্যজন তাকে মনে করিয়ে দিতে পারে (কুরআন, ২ : ২৮২)। তৃতীয় দুর্বলতা হলো-উত্তরাধিকারে নারী পুরুষের অর্ধেক। কুরআন বলেঃ আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন তোমাদের সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে । পুরুষ সন্তান দুজন নারী সন্তানের সমান অংশ পাবে (কুরআন ৪ ° ১১)। নারীর প্রাকৃতিক দুর্বলতা বর্ণনার পর আমিরুল মোমেনিন তাদেরকে অন্ধভাবে অনুসরণ ও ভ্রান্তভাবে মান্য করার অকল্যাণ বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন যে, শুধু অশুভ বিষয় নয়, কোন ভালো বিষয়ও এমনভাবে করা উচিত যেন তারা বুঝতে না পারে যে, এটা তাদের ইচ্ছানুযায়ী করা হয়েছে; তারা যেন অনুধাবন করে যে, কাজটি ভালো বলেই করা হয়েছে, এতে তাদের সন্তোষ বা ইচ্ছার করণীয় কিছু নেই। যদি তারা বুঝতে পারে যে, তাদের সন্তুষ্টির কারণে কাজটা করা হয়েছে তাহলে ধীরে ধীরে তাদের দাবি বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং সকল বিষয় তাদের ইচ্ছানুযায়ী সম্পাদনের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকবে যার অবধারিত ফল হবে ধ্বংস। এ বিষয়ে শায়খ মুহাম্মদ আবদুহ” লেখেছেনঃ আমিরুল মোমেনিনের এ অভিমত শতাব্দীর অভিজ্ঞতা দ্বারা স্বীকৃত।









