আমিরুল মোমেনিনের ভ্রাতা আকীলের ১ প্রতি আমি মুসলিমদের একটা বিরাট বাহিনী তার প্রতি প্রেরণ করেছিলাম। যখন সে এটা জানতে পারলো সে অনুতপ্ত হয়ে পিছিয়ে গেল এবং শেষে পালিয়ে গেল। সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ পূর্বে তারা পথিমধ্যে তার দেখা পেল । তারা সামান্য কিছুক্ষণ অযথা হাতাহাতি-লড়াই করলো। এক ঘণ্টা ধরে এ লড়াই চলেছিল। তারপর সে নিজকে অর্ধমৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছিল এবং তার শেষ নিশ্বাসটুকু অবশিষ্ট ছিল। এভাবে সে একটা আতঙ্ক থেকে রক্ষা পেল । কুরাইশগণ বিপথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে—তাদের কথা ছেড়ে দাও। তারা অনৈক্যের দিকে ধাবমান এবং ধ্বংস তাদেরকে আঁকড়ে ধরেছে। তারা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে যেভাবে তারা আল্লাহর রাসুলের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ করেছিল। আমি আশা করি আমার প্রতি যে ব্যবহার করেছে সেজন্য কুরাইশগণ প্রতিদান পাবে। কারণ তারা আমার জ্ঞাতিত্বকে অস্বীকার করেছে এবং আমার মায়ের পুত্রের (অর্থাৎ আল্লাহ রাসুল) কাছ থেকে পাওয়া আমার অধিকার থেকে আমাকে বঞ্চিত করেছে। মৃত্যু পর্যন্ত আমি যুদ্ধ করে যাব।— আমার এ অভিমত সম্পর্কে তুমি জানতে চেয়েছো। তাই তোমাকে বলছি। যারা যুদ্ধকে জায়েজ মনে করে তাদের সাথে যুদ্ধ করার আমি পক্ষপাতি। আমার চারপাশে জনতার ভিড় আমার শক্তি যোগায় না, আবার আমার কাছ থেকে তারা সরে পড়লেও আমি একাকীত্ব বোধ করি না। তোমার পিতার পুত্রকে কখনো দুর্বল ও ভীত ভেবো না। এমনকি সকল লোক তাকে পরিত্যাগ করলেও সে অবিচারের কাছে মাথা নত করবে না। অথবা তাকে তার পথ থেকে কেউ টেনে নিয়ে যেতে পারবে না। সে বনি সলিমের লোকটির মতো বলবে “যদি তুমি জিজ্ঞেস কর আমি কেমন, তাহলে শুন, আমি ধৈর্যশীল এবং সময়ের পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কঠোর। আমি কখনো নিজকে শোকাহত হতে দেই না পাছে শত্রু আনন্দ পায় এবং বন্ধু দুঃখ পায়।”
১। সালিসির পর মুয়াবিয়া হত্যাকাণ্ড শুরু করেছিল। সে চার হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী জাহাহাক ইবনে কায়েস ফিহরীর নেতৃত্বে আমিরুল মোমেনিনের নগরী আক্রমণ করার জন্য প্রেরণ করেছিল। আমিরুল মোমেনিন এ খবর জানতে পেরে প্রতিরক্ষা রচনার জন্য কুফার লোকদের ডাক দিয়েছিলেন, কিন্তু তারা নানা প্রকার ওজর দেখাতে লাগলো। অবশেষে হুজির ইবনে আদি আল কিন্দি চার হাজার সৈন্যর একটি বাহিনী নিয়ে মুয়াবিয়ার বাহিনীকে তাড়া করলো এবং তাদমুর নামক স্থানে তাদের ধরে ফেললো। সূর্যাস্তের সময় উভয় দলে সামান্য হাতাহাতি হয়েছিল এবং অন্ধকার নেমে এলে জাহহাক পালিয়ে গেল। এ সময় আকীল ইবনে আবি তালিব উমরাহ করার জন্য মক্কা এসেছিলেন। যখন তিনি জানতে পারলেন হিরা আক্রমণ করেও জাহাহাক জীবিত ফিরে গেছে তখন তিনি আবদার রহমান ইবনে উবায়েদ আজাদীর মাধ্যমে তার সাহায্যের কথা উল্লেখ করে পত্র লেখেছিলেন। প্রত্যুত্তরে আমিরুল মোমেনিন কুফাবাসীদের আচরণ সম্বন্ধে বর্ণনা করে জাহহাকের যুদ্ধের বিষয় লেখে এ পত্র দিয়েছিলেন।