আল্লাহ মুহাম্মদকে (সঃ) জগতের সকল পাপের বিরুদ্ধে সতর্ককারী এবং তাঁর সকল প্রত্যাদেশের আমানতদার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। সে সময়ে তোমরা (আরবের লোকেরা) একটা কদর্য ধর্মের অনুসারী ছিলে এবং তোমরা কদর্য পাথর (মূর্তি) ও বিদ্বেষ ভাবাপন্ন বিশ্বাসঘাতকদের মাঝে বাস করতে। তোমরা নোংরা পানি (মদ) পান করতে এবং অপবিত্র খাবার খেতে। তোমরা একে অপরের রক্তপাত ঘটাতে এবং আত্মীয়তার বন্ধনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে না । তোমরা সকলে প্রতিমা পূজা করতে এবং সর্বদা পাপে ডুবে থাকতে ।
রাসুলের ইনতিকালের পর আমি লক্ষ্য করে দেখলাম আমার পরিবার পরিজন ছাড়া আমার আর কোন সমর্থক নেই, তাই আমার অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য আমি তাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে বিরত রইলাম। পরিস্থিতি আমার চোখে কণার মতে বেঁধা সত্ত্বেও আমি আমার চোখ বন্ধ রাখলাম, গলার শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা সত্ত্বেও আমি পান করলাম, আমার শ্বাস-প্রশ্বাসে বিঘ্ন হওয়া এবং তিক্ত খাদ্য পাওয়া সত্ত্বেও আমি ধৈর্য ধারণ করলাম।
মুয়াবিয়া যথেষ্ট মূল্য” দিয়ে আমর ইবনে আ’সের বায়াত আদায় করেছে। এহেন বায়াত ক্রেতার হাত কৃতকার্য নাও হতে পারে এবং বিক্রেতাগণের চুক্তি অসম্মানজনকও হতে পারে। এখন তোমরা যুদ্ধের জন্য অস্ত্র ধারণ কর এবং নিজেদের সাজ-সরঞ্জামের ব্যবস্থা কর। যুদ্ধের শিখা অনেক উচুতে উঠেছে এবং তার ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজকে ধৈর্যের পোষাক পরাও কারণ ধৈর্য জয় অপেক্ষা উত্তম।
১। নাহরাওয়ানের যুদ্ধে যাত্রার প্রাক্কালে আমিরুল মোমেনিন এ খোৎবা প্রদান করেছিলেন। আমর ইবনে
আসের বিষয়টি হলো আমিরুল মামোমেনিনের অনুকূলে মুয়াবিয়ার বায়াত গ্রহণের জন্য তিনি যারীর ইবনে আবদুল্লাহ বাযালীকে মুয়াবিয়ার নিকট প্রেরণ করেছিলেন। মুয়াবিয়া যারীরকে জবাব দানের কথা বলে বিলম্ব করিয়েছিল। সিরিয়ার জনগণ, মুয়াবিয়াকে কতটুকু সমৰ্থন করে তা সে ইতোমধ্যে পরীক্ষা করতে লাগলো। মুয়াবিয়া উসমানের রক্তের বদলা নেয়ার কথা বলে সিরিয়ার জনগণকে তার সমর্থক করতে সক্ষম হলো। তখন সে তার ভাই উতবাহ ইবনে আবু সুফিয়ানকে ডেকে আলোচনা করলো। উত্বাহ পরামর্শ দিল, “যদি আমর ইবনে আস তোমার সাথে যোগ দেয়। তবে সে তার বিচক্ষণতা দ্বারা অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারবে। কিন্তু উচ্চ মূল্য না পেলে সে তোমার কর্তৃত্ব মেনে নেবে না। যদি তুমি যথেষ্ট মূল্য প্রদান কর তবে সে সেরা সাহায্যকারী ও পরামর্শদাতা হবে।” উতবাহর পরামর্শ মুয়াবিয়ার ভালো লেগেছিল। সে আমর ইবনে আসকে ডেকে পাঠালো এবং উভয়ের মধ্যে আলোচনা হলো। উভয়ের মধ্যে এ শর্তে চুক্তি হলো যে, ইবনে আসকে মিশরের গভর্নর করা হবে; বিনিময়ে সে উসমানের হত্যার জন্য আমিরুল মোমেনিনকে দায়ী করে সিরিয়ায় মুয়াবিয়ার কর্তৃত্ব অক্ষুন্ন রাখবে এবং তারা এ চুক্তি পরিপূর্ণ করেছিল।