রাসুলের (সঃ) অধঃবংশের মহত্ত্ব প্রসঙ্গে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ন্যায়পরায়ণ এবং ন্যায় বিচার করেন। তিনি সর্বনিয়ন্তা যিনি ন্যায় ও অন্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সঃ) তার বান্দা, তার নবি ও তার সৃষ্টির সেরা। যখন আল্লাহ বংশধারাকে বিভক্ত করলেন তখন তিনি তাকে সর্বোত্তম বংশে প্রেরণ করলেন। সেহেতু কোন মন্দ লোক তাঁর বংশে ছিল না বা কোন পাপাচারী তাঁর অংশীদার ছিল না। সাবধান! মহিমান্বিত আল্লাহ নিশ্চয়ই, তাদেরকে দ্বিনের পথে রেখেছেন যারা এর উপযুক্ত এবং তিনি সত্যকে তাদের স্তম্ভ করে দিয়েছেন (যাতে তারা ভয় করতে পারে) ও আনুগত্যকে তাদের প্রতিরক্ষা করে দিয়েছেন (যাতে তারা বিপথগামী না হয়)। আনুগত্যের প্রতিটি বিষয়ে, কথার মাধ্যমে ও অন্তরের দৃঢ়তার মাধ্যমে মহিমান্বিত আল্লাহর সাহায্য তোমরা দেখতে পাবে। এতে তাদের জন্য যথেষ্ট কিছু রয়েছে যারা প্রচুর চায় এবং রোগের চিকিৎসা রয়েছে যারা চিকিৎসা চায়। জেনে রাখো, আল্লাহর যেসব বান্দা তার জ্ঞান সংরক্ষণ করে, সেসব বিষয়ের প্রতিরক্ষা বিধান করে যা তিনি রক্ষা করতে ইচ্ছা করেন এবং (অন্যদের উপকারার্থে) তার ঝরনা প্রবাহিত করেন; তারা বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করে এবং স্নেহ পরবশ হয়ে একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে। তারা পেয়ালা থেকে পান করে যা তৃষ্ণা নিবারণ করে এবং জলাধারের কাছ থেকে পরিপূর্ণ সন্তোষ নিয়ে ফিরে আসে। সন্দেহ তাদেরকে প্রভাবিত করে না এবং গিবত তাদের ক্ষেত্রে সুবিধা করতে পারে না। এভাবে আল্লাহ তাদের স্বভাবে সদাচরণ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এ কারণে তারা একে অপরকে ভালোবাসে এবং একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে। তারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে বীজের মতো যা বাছাই করে মাত্র কয়েকটি রাখা হয় এবং বাকিগুলো ফেলে দেয়া হয়। এ বাছাই তাদেরকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে এবং মনোনয়নের প্রক্রিয়া তাদেরকে পবিত্র করেছে। সুতরাং এসব গুণাবলী অর্জন করে মানুষ সম্মানিত হতে পারে। কেয়ামত উপস্থিত হবার আগেই তার ভয়ে ভীত হওয়া উচিত। জীবনের ক্ষণস্থায়ীত্বের কথা স্মরণ রাখা দরকার। আরো মনে রাখা দরকার যে, পরকালে পাড়ি জমাবার জন্য মানুষ এখানে কিছুকাল অবস্থান করছে। এ পট পরিবর্তন ও অবধারিত প্রস্থানের জন্য প্রত্যেকেরই কিছু করা দরকার। সে ব্যক্তি আশীৰ্বাদপুষ্ট, যার হৃদয়ে ধাৰ্মিকতা রয়েছে, যে তার পথ প্রদর্শককে মান্য করে এবং সেসব লোককে প্রতিহত করে যারা তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। সে ব্যক্তি আশীৰ্বাদপুষ্ট, যে সেসব লোকের সাহায্যে নিরাপত্তার পথ ধরে চলে যারা তাকে হেদায়েতের আলোর সন্ধান দেয়। সে ব্যক্তি আশীৰ্বাদপুষ্ট, যে নেতার আদেশ মান্য করে নিরাপত্তার পথে চলে, হেদায়েতের দরজা বন্ধ হবার আগেই সেদিকে দ্রুত অগ্রসর হয় এবং তওবার দরজা খোলা থাকতেই পাপ বিদূরিত করে। নিশ্চয়ই, তাকে সত্য পথে ও সিরাতুল মােস্তাকিনে পরিচালিত করা হয়েছে।