রাসুল (সঃ) প্রেরণ প্রসংগে
আল্লাহ রাসুলকে (সঃ) সমুজ্জ্বল আলো, সুস্পষ্ট দলিল, উন্মুক্ত পথ ও হেদায়েত সম্বলিত কিতাবসহ। প্রেরণ করেছিলেন। তাঁর গোত্র ছিল সর্বোৎকৃষ্ট এবং তাঁর সাজোরাহ সর্বোত্তম যার শাখাগুলো সুষমতা সম্পন্ন ও যাতে ঝুলন্ত ফল প্রচুর। তার জন্মস্থান মক্কা এবং তার হিজরতের স্থান তায়েবাহ (মদিনা), যেখান থেকে তাঁর সুনাম সুউচ্চতা লাভ করে ও তাঁর কণ্ঠস্বর চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
আল্লাহ্ তাঁকে পর্যাপ্ত ওজর, দৃঢ় প্রত্যয় উৎপাদক বক্তব্য এবং সংশোধনমূলক ঘোষণা সহকারে প্রেরণ করেছিলেন। মহিমান্বিত আল্লাহ তার মাধ্যমে সেই পথ প্রকাশ করেছিলেন যা মানুষ পরিত্যাগ করেছিল এবং সেই সব বিদা’ত ধ্বংস করেছিলেন যা মানুষ উদ্ভাবন করেছিল। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর আদেশনিষেধের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। এখন যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বিীন গ্ৰহণ করলে তার কার্পণ্য সুনিশ্চিত, তার ছড়ি (ভর দেয়ার লাঠি) ভেঙ্গে যাবে, তার ভাগ্য মারাত্মক হবে, তার পরিণাম হবে দীর্ঘস্থায়ী শোক ও কঠিন শাস্তির।
দুনিয়া থেকে শিক্ষা গ্ৰহণ
আমি আল্লাহকে বিশ্বাস করি, সে বিশ্বাস তার প্রতি সেজদাবনত হওয়ার। আমি তার হেদায়েত প্রার্থনা করি যা তার জান্নাতের দিকে নিয়ে যায় এবং তাঁর সন্তুষ্টির স্থানে নিয়ে যায়। আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিচ্ছি, হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করে কাজ কর এবং তার অনুগত হও। কারণ এটা তোমাদের আগামীকালের মুক্তি ও অনন্ত শান্তির উপায়। তিনি তোমাদের সতর্ক (শাস্তি সম্বন্ধে) করেছিলেন এবং বিশদভাবে তা করেছিলেন। তিনি তোমাদের প্রনােদিত করেছিলেন (সৎকাজের প্ৰতি) এবং সম্পূর্ণরূপে তা করেছিলেন। তিনি দুনিয়ার বর্ণনা করেছেন, এটা তোমাদের কাছ থেকে যেভাবে কেটে পড়ে, এর ধ্বংসাবশেষ ও এর হাত বদল সম্বন্ধে বলেছেন। সুতরাং দুনিয়ার আকর্ষণ থেকে দূরে সরে থাক। কারণ এর কিছুই তোমার সাথি হবে না। এ ঘর (দুনিয়া) আল্লাহর অসন্তুষ্টির অতি নিকটবতী এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি থেকে অনেক দূরে।
সুতরাং হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমাদের চোখ বন্ধ কর এবং দুনিয়ার আকর্ষণ ও ভাবনা থেকে নিজকে মুক্ত রােখ। কারণ এ থেকে তোমাদের আলাদা হয়ে যেতে হবে, তা তোমরা নিশ্চিতভাবেই জন এবং এর পরিবর্তনশীল অবস্থার কথাও জান। তোমরা আন্তরিকতার সাথে দুনিয়াকে ভয় কর এবং তোমাদের পূর্বে যাদের পতন ঘটেছে তাদের থেকে শিক্ষা গ্ৰহণ করা। তাদের সকল জোড়া বিনষ্ট হয়ে গেছে, তাদের চোখ ও কান ধ্বংস হয়ে গেছে, তাদের সম্মান ও মর্যাদা উঠে গেছে এবং তাদের আরামআয়েশ ও ঐশ্বর্য নিঃশেষ হয়ে গেছে। তাদের সন্তান-সন্ততির নৈকট্য এখন দূরবর্তিতায় পরিণত হয়েছে এবং তাদের স্বামী-স্ত্রীর সঙ্গ বিচ্ছেদে পরিণত হয়েছে। এখন আর তারা একে অপরের ওপর দম্ভোক্তি করে না, সন্তান জন্ম দেয় না, একে অপরের সাথে সাক্ষাত করে না এবং প্রতিবেশী হিসাবে বসবাসও করে না। সুতরাং হে আল্লাহর বান্দাগণ, তোমরা সেই ব্যক্তির মতো ভয় কর যে আত্মনিয়ন্ত্রিত, যে তার কামনাবাসনাকে প্ৰদমিত করতে পারে এবং যে তার প্রজ্ঞা দ্বারা উপলব্ধি করতে পারে। নিশ্চয়ই, বিষয়টি তোমরা স্পষ্ট বুঝেছো; ঝান্ডা দন্ডায়মান, উপায় সমতল এবং পথ সোজা।