বাদুরের আশ্চর্যজনক সৃষ্টি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠিত প্ৰশধ্বংসা আল্লাহর যিনি এমন যে, তার সম্বন্ধে জ্ঞানের বাস্তবতা বর্ণনা করা সম্ভব নয়। তার মহত্ত্ব বর্ণনা করতে গেলে মানুষের বুদ্ধি-জ্ঞান স্থবির হয়ে পড়ে। সুতরাং মানুষ তার রাজ্যের সীমাপরিসীমা নির্ধারণ করতে পারে না। তিনিই আল্লাহ—মহাসত্য—সত্যের মহাপ্রকাশ। চোখ যা দেখে তা অপেক্ষা তিনি অধিক সত্য—অধিক স্ব-প্রকাশ। বুদ্ধি দ্বারা তাকে উপলব্ধি করা যায় না, কারণ তাতে সীমা নির্ধারণের প্রশ্ন আসে এবং সীমা নির্ধারণ করলেই তাকে গুণের আকারে আবদ্ধ করা হবে। ধারণা দিয়ে তাঁকে বুঝা যায় না, কারণ তাতে তাঁর গুণাগুণ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং সেক্ষেত্রে তার প্রতি গুণসম্পন্ন দৈহিক অবস্থা আরোপ করা হয়। তিনি সৃষ্টিকে অস্তিত্ত্বে এনেছেন। কিন্তু সেজন্য কোন নমুনার প্রয়োজন হয় নি, কোন উপদেষ্টার পরামর্শের প্রয়োজন হয় নি এবং কোন সাহায্যকারীর সাহায্যের প্রয়োজন হয় নি। তাঁর নির্দেশেই সৃষ্টি সম্পন্ন হয়েছে এবং আনুগত্যের নিদর্শন স্বরূপ আনত হয়েছে। সৃষ্টি তাঁর প্রতি সাড়া দিয়েছে এবং তাঁকে অস্বীকার করে নি। সৃষ্টি তাঁর আদেশ মান্য করেছে এবং তাতে দ্বিরুক্তি করে নি । তাঁর মাহাত্ম্যপূর্ণ ও আশ্চর্যজনক সৃষ্টির গভীর তাৎপর্যের একটা উদাহরণ (যা তিনি আমাদেরকে দেখিয়েছেন) হলো বাদুর যারা দিবালোকে নিজেদেরকে গোপন করে রাখে। অথচ দিবালোক অন্যসব কিছুকে দৃশ্যমান করে, যারা রাত্রিকালে বের হয়। অথচ রাত জীবন্ত সব কিছুকে গােপন করে। কিরূপে সূর্যের আলো এদের চোখে ধাঁধা লাগিয়ে দেয় এবং পথ চলার জন্য ও গন্তব্যস্থলে পৌছার জন্য এদের সূর্যের আলোর প্রয়োজন হয় না। আল্লাহ বাদুরকে সূর্যের উজ্জ্বল আলোতে চলাফেরা থেকে বিরত করেছেন এবং দিনের বেলায় বাইরে যাবার পরিবর্তে গোপন স্থানে থাকতে বাধ্য করেছেন। ফলে দিনে এরা চোখের পাতা বন্ধ করে রাখে। এবং রাতকে প্ৰদীপ হিসাবে কাজে লাগিয়ে জীবিকার অন্বেষণে বেরিয়ে পড়ে। রাতের অন্ধকার তাদের দৃষ্টিশক্তিতে কোন বাধার সৃষ্টি করতে পারে না এবং অন্ধকারের গাঢ়ত্ব এদের চলাফেরা বন্ধ করতে পারে না। যখনই সূর্য তার ঘোমটা খোলে ও ভোরের রশ্মি দেখা দেয় অমনি গিরগিটি গর্তে ঢোকে। আর বাদুর চোখের ওপরে চোখের পাতা টেনে দেয় এবং রাতের অন্ধকারে যা সংগ্রহ করেছে তা দিয়ে জীবন ধারণ করে। তিনিই মহিমান্বিত যিনি রাতকে তাদের জীবিকা সংগ্রহের জন্য দিন করেছেন এবং দিনকে তাদের বিশ্রামের জন্য রাত করেছেন। তিনি বাদুরকে মাংশল পাখা দিয়েছেন যাতে তারা প্রয়োজনে উড়ে ওপরে ওঠতে পারে। পাখাগুলো কানের অগ্রভাগের মতো দেখায় যাতে কোন পালক ও হাড় নেই। অবশ্য পাখার শিরাগুলো পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। তাদের দুটি পাখা আছে যা এমন পাতলা নয় যাতে উড়তে উল্টে যাবে। আবার এমন পুরুও নয় যাতে ভারী অনুভূত হবে। যখন তারা উড়ে তখন তাদের বাচ্চা তাদেরকে আঁকড়ে ধরে রাখে এবং তাদের সাথে আশ্রয় নেয়, যখন তারা নিচে নেমে আসে তখন নিচে নামে ও যখন তারা ওপরে ওঠে তখন ওপরে ওঠে। বাচ্চগুলোর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শক্ত হয়ে নিজে নিজে উড়ে ওপরে ওঠার ও নিজের বাসস্থান চেনার পূর্ব পর্যন্ত বাদুর তাদের বাচ্চাকে ত্যাগ করে না। তিনিই মহিমান্বিত যিনি কারো দ্বারা পূর্বে প্রস্তুতকৃত কোন নমুনা ছাড়াই সব কিছু সৃষ্টি করেছেন।