মৃত্যু সম্পর্কে সতর্কাদেশ
আমরা আল্লাহর প্রশধ্বংসা করি যা তিনি দিয়েছেন তার জন্য, যা তিনি নিয়ে যাচ্ছেন তার জন্য, যা তিনি আমাদের ওপর আপতিত করেন তার জন্য এবং আমাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। যা কিছু গুপ্ত তা তিনি অবহিত এবং যা কিছু দৃষ্টির আড়ালে তা তিনি দেখেন। মানুষের অন্তরে যা লুকিয়ে আছে তা তিনি জানেন এবং চোখ যা আড়াল করতে চায় তা তার অজ্ঞাত নয়। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি। তিনি ছাড়া আর কোন মান্বুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি। আমরা এ সাক্ষ্য দিচ্ছি গোপনে ও প্রকাশ্যে-হৃদয়ে ও মুখে।
আল্লাহর কসম, এটাই বাস্তবতা— কৌতুক নয়; এটাই সত্য, এতে মিথ্যার লেশ মাত্র নেই। এটা মৃত্যু ব্যতীত আর কিছু নয়। মৃত্যুর আহবান সতত উচ্চারিত হচ্ছে এবং টানা হেঁচড়াকারী (মৃত্যুদূত।) দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসছে। তোমরা আত্মপ্রবঞ্চনায় জড়িয়ে পড়ো না (অথবা অধিকাংশ লোক তোমাকে প্রবঞ্চনা করবে না)। তোমরা দেখেছাে তোমাদের পূর্বে এ পৃথিবীতে বহু লোক বাস করতো। যারা সম্পদের পাহাড় গড়েছিল, দারিদ্রকে ভয় করতো, সম্পদের কুফল থেকে নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করতো, যাদের কামনা-বাসনা ছিল অসীম এবং যারা মৃত্যু থেকে দূরে সরে থাকতে চেয়েছিল। তারপর দেয়া হয়েছিলো এবং তাদের নিরাপদ স্থান থেকে তাদেরকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিলো। তারাও কাফনে আবৃত হয়েছিল—মানুষ তাদের সরিয়ে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলো—তাদেরকে কফিনে করে কাধে বহন করে নিয়েছিলো ।
তোমরা কি তাদের দেখ নি যারা অসীম আকাঙ্খা করতো, সুদৃঢ় ইমারত গড়তাে, সম্পদ স্তুপীকৃত করতো। কিন্তু তাদের প্রকৃত ঘর হয়েছিলো কবর এবং তাদের সমুদয় সঞ্চয় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছিলো। তাদের ধন-সম্পদ। পরবতী আপনজন ভোগ করেছিলো। তারা এখন আর কোন সৎ আমল বৃদ্ধি করতে পারছে না বা কোন মন্দ আমলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারছে না। সুতরাং যে ব্যক্তি নিজের হৃদয়কে আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকার জন্য অভ্যস্ত করে সে অগ্রণী মর্যাদা প্রাপ্ত হয় এবং তার আমল জয়যুক্ত হয়। এর জন্য নিজকে প্রস্তুত কর, জান্নাতের জন্য সম্ভব সব কিছু করা। নিশ্চয়ই, এ পৃথিবী তোমার চিরস্থায়ী আবাসস্থল নয়। কিন্তু এটা সৃষ্টি করা হয়েছে। যাত্রা পথের সরাইখানা হিসাবে যেন তোমরা তা থেকে সৎ আমলারূপী রসদ সংগ্রহ করে চিরন্তন আবাসস্থলে যেতে পার। এখান থেকে প্রস্থানের জন্য সদা-সর্বদা প্রস্তুত থেকে এবং যাত্রার জন্য বাহন সংগ্রহ করে রেখো।