খেলাফত গ্রহণের কারণ ও শাসকের গুণাবলী হে জনমান্ডলী! তোমাদের হৃদয় ও মন দ্বিধা বিভক্ত। তোমাদের দেহ এখানে কিন্তু তোমাদের
বোধশক্তি এখানে অনুপস্থিত। আমি তোমাদের সত্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আর তোমরা তা থেকে এমনভাবে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে যেন ভেড়া-ছাগলের পাল সিংহের গর্জনে দৌড়ে পালায়। ন্যায়ের গুপ্তভেদ তোমাদের কাছে উন্মোচন করা কতই না শক্ত। সত্যের বক্রতাকে সোজা করতে আমার কতই না কষ্ট হচ্ছে।
হে আমার আল্লাহ! তুমি তো জান যে, আমরা যা করেছি তা ক্ষমতার লোভে বা এ অসার দুনিয়া থেকে কোন কিছু অর্জন করার জন্য করি নি। বরং আমরা চেয়েছিলাম তোমার দ্বিনের চিহ্ন টিকিয়ে রাখতে, তোমার নগরীসমূহকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, যাতে তোমার বান্দাদের মধ্যে যারা অত্যাচারিত তারা নিরাপদে থাকতে পারে এবং তোমার পরিত্যাক্ত আদেশাবলী প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। হে আমার আল্লাহ! আমিই প্রথম যে তোমার কাছে আত্মোৎসর্গ করেছে এবং তোমার ইসলামের কথা শুনা মাত্রই সাড়া দিয়েছে। রাসুল (সঃ) ব্যতীত আর কেউ সালাতে আমার অগ্রণী নয়।
হে আল্লাহ, তুমি নিশ্চয়ই জান, যে ব্যক্তি মুসলিমগণের মান-ইজ্জত, জীবন, বায়তুল মাল, আইন প্রয়োগ ইত্যাদি দায়িত্বে ও নেতৃত্বে থাকবে সে কৃপণ হতে পারবে না, যাতে জনগণের সম্পদের প্রতি তার লােলুপ দৃষ্টি পড়ে; সে অজ্ঞ হতে পারবে না, যাতে তার অজ্ঞতা জনগণকে বিপথগামী করে ফেলে; সে রূঢ় আচরণের হতে পারবে না, যাতে তার রূঢ়তা জনগণের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করে; সে ন্যায়ের পরিপন্থী কিছু করতে পারবে না, যাতে একদল অন্যদলের ওপর প্রাধান্য পায়; সে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুবাদে উৎকোচ গ্ৰহণ করতে পারবে না, যাতে অন্যের অধিকার খর্ব হয় এবং চূড়ান্ত না করে (কোন বিষয়) লুকিয়ে রাখতে ও রাসুলের সুন্নাহর প্রতি কোনরূপ উপেক্ষা প্রদর্শন করতে পারবে না যাতে জনগণ ধ্বংস হয়ে যায় ।