খোৎবা- ১৯

কুফার মসজিদের মিম্বার থেকে আমিরুল মোমেনিন খোৎবা প্রদান করছিলেন। এমন
সময় আশআব্দু। ইবনে কায়েস* বাধা দিয়ে বললো, “হে, আমিরুল মোমেনিন, এ
কথা আপনার অনুকূলে নয়, বরং আপনার বিরুদ্ধে যাবেই।” আমিরুল মোমেনিন রাগত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ তুমি কী করে জান কোন বিষয় আমার অনুকূলে আর কোনটি আমার প্রতিকূলে। আল্লাহ ও অভিশাপকারীদের অভিশাপ তোমার ওপর। তুমি তাতির পুত্র তাতি। তুমি একজন মোশরেকের পুত্ৰ এবং নিজেও একজন মোনাফিক। তুমি মোশারেক থাকাকালে একবার এবং ইসলাম গ্রহণের পর আরেকবার গ্রেফতার হয়েছিলে ; তোমার সম্পদ ও জন্ম পরিচয় তোমাকে রক্ষা করতে পারে নি। যে ব্যক্তি নিজের লোকজনকে তরবারির নিচে ঠেলে দিয়ে তাদের মৃত্যু ও ধ্বংসের ফন্দি আঁটে সে নিকটবতীগণের ঘূণা আর দূরবতীজনের অবিশ্বাসেরই যোগ্য।
১। আশআছ ইবনে কায়েসের আসল নাম সাদি কারিব এবং লকব আবু মুহাম্মদ। তার অবিন্যস্ত চুলের জন্য সে আশআছ নামেই সমধিক পরিচিত। নবুয়ত প্রকাশের পর সে একবার তার গোত্রের লোকজন নিয়ে মক্কায় এসেছিলো। রাসুল (সঃ) তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা সকলেই ইসলাম গ্ৰহণ না করে ফিরে গিয়েছিল। হিজরতের পর যখন ইসলাম প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল এবং দলে দলে লোক মদিনায়
আসছিলো তখন আশআছ বনি। কিন্‌দাহর সাথে রাসুলের কাছে হাজির হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছিল। বার” লেখেছেন যে, রাসুলের (সঃ) তিরোধানের পর এ লোকটি ইসলাম ত্যাগ করে মোশারেক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আবু বকরের খেলাফতকালে তাকে বন্দী করে মদিনায় আনা হলে সে পুনরায় ইসলাম গ্রহণ করেছিল। এবারও
তার ইসলাম গ্রহণ লোক দেখানো বই কিছু নয়। আবদুহ” লেখেছেন ঃ রাসুলের সাহাবিদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল যেমন ছিল, আলীর । সার্থীগণের মধ্যেও আশআছ তেমন ছিল । এরা দুজনই কুখ্যাত মোনাফিক ছিল ।
ইয়ারমুকের যুদ্ধে আশআছ তার একটা চােখ হারিয়েছিল। কুতীয়বাহ” তাকে একচােখওয়ালা লোকদের তালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। আশআছের গোত্রের লোকেরা তাকে নাম দিয়েছিল “উরফ-আন-নার” অর্থাৎ বিশ্বাসঘাতক। ইয়ামামার যুদ্ধে সে ফন্দি করে তার গোত্রকে খালেদ ইবনে অলিন্দ দ্বারা আক্রান্ত করিয়েছিল ! সে আবু বকরের বােন উম্মে ফারাওয়াহর তৃতীয় স্বামী হিসেবে তাকে বিয়ে করেছিল। ফরওয়াহর প্রথম স্বামী ছিল আল-আজদি এবং দ্বিতীয় স্বামী ছিল তামীম যারিমী। জীবনী গ্ৰন্থসমূহে দেখা যায় ফরওয়াহ অন্ধ ছিল এবং তার
গর্ভে তিনটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল। তারা হলো— মুহাম্মদ, ইসমাঈল ও ইসহাক। হাদীদ”** আবুল ফারাজের উদ্ধৃতি দিয়ে যে বর্ণনা দিয়েছেন তাতে দেখা যায় আলীকে হত্যা করার বিষয়ে আশআছও সমভাবে জড়িত। তিনি লেখেছেন ঃ আলী নিহত হবার রাতে ইবনে মুলজাম। আশাআছ ইবনে কায়েসের কাছে এসেছিল । উভয়ে আলাদাভাবে মসজিদের এক কোণে চুপচাপ বসেছিল । হাজার ইবনে আদি তাদের পাশ দিয়ে যেতে যেতে শুনতে পেলো আশআছে মুল জামকে বলছে, “তাড়াতাড়ি কর; না হয় ভোরের আলো তোমার প্রতি নিৰ্দয় হতে পারে।” এ কথা শুনে হাজির আশআছকে বললো, ওহে এক চোখ লোক, তুমি আলীকে নিহত করার পরিকল্পনা করছে ৷ ” এ বলেই হাজির তাড়াতাড়ি আলীর দিকে এগিযে যেতে লাগল। কিন্তু ইবনে মুলাজাম হাজারের আগেই দৌড়ে গিয়ে আলীকে আঘাত করেছিল । এই আশআছের কন্যাই ইমাম হাসানকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছিল। মাসুদী” লেখেছেনঃ ইমাম হাসানের স্ত্রী জায়েদাহ বিনতে আশআছে মুয়াবিয়ার ষড়যন্ত্রে ইমামকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছিল ৷ এক লক্ষ দিরহাম ও ইয়াজিদের সাথে বিয়ে দেয়ার কথা বলে মুয়াবিয়া জায়েন্দাহকে প্রলুব্ধ করেছিল (২য় খন্ড, পৃঃ ৬৫০) / আশআছের পুত্র মুহাম্মদ মুসলিম ইবনে আকিলের সাথে কুফায় প্রতারণা করেছিল এবং কারবালায় ইমাম হুসাইনের হৃদয় বিদারক শাহাদাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিল। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাই ও ইবনে মাজাহ হাদিস গ্রন্থে আশআছের রিওয়াত গ্রহণ করা হয়েছে। ২। নাহরাওয়ানের যুদ্ধের পর একদিন আমিরুল মোমেনিন কুফার মসজিদে সালিসির কুফল সম্বন্ধে খোৎবা প্রদান করছিলেন। তখন একজন লোক (আশআছ) দাঁড়িয়ে বললো, “হে আমিরুল মোমেনিন, প্রথমে আপনি আমাদেরকে এ সালিসি মানতে নিবৃত্ত করেছিলেন, কিন্তু পরবতীতে আপনি নিজেই তা মঞ্জর করেছেন। আমরা বুঝতে পারছি না। আপনার এ দুটো অবস্থার কোনটি সঠিক ও শুদ্ধ।” এ কথা শুনে আমিরুল মোমেনিন তাঁর এক হাতের ওপর অন্য হাত দিয়ে তালি বাজিয়ে বললেন, “এটাই সে ব্যক্তির পুরস্কার যে দৃঢ় মতামত পরিহার করে; অর্থাৎ এটা তোমাদের কৃতকর্মের ফল কারণ তোমরা দৃঢ়তা ও সতর্কতা পরিহার করে সালিসির জন্য গো ধরেছিলো।” আমিরুল মোমেনিনের কথার মর্মার্থ বুঝতে না পেরে আশআছ বললো, “হে আমিরুল মোমেনিন, এতে আপনার নিজের ওপরই দোষ আসবে।” আশআছের এ কথার প্রেক্ষিতে আমিরুল মোমেনিন কর্কশভাবে বললেনঃ তুমি কি জান আমি কী বলছি? তুমি কি করে বুঝলে কোনটা আমার অনুকূলে আর কোনটা আমার প্রতিকূলে? তুমি তাঁতির পুত্র তাঁতি এবং মোশারেক দ্বারা লালিত পালিত। তুমি একজন মোনাফিক। তোমার ওপর আল্লাহ ও সারা জাহানের অভিশাপ। আশআছকে তাঁতি (হাইক) বলার অনেক কারণ টীকাকারগণ লেখেছেন। প্রথমত তার জন্মভূমির অধিকাংশ লোকের মতো আশআছ ও তার পিতা কাপড় বুনতো। এ পেশায় অত্যন্ত নিচ শ্রেণির লোকেরা নিয়োজিত ছিল। ইয়েমেনের অধিকাংশ লোক এ পেশায় নিয়োজিত ছিল। জাহীজ’ লেখেছেনঃ এ জনগোষ্ঠী সম্পর্কে আমি কী আর বলব, যাদের অধিকাংশই তাঁতি, মুচি, চামার, বানর পালক ও গাধার সওয়ার। মাথায় বুটিওয়ালা পাখী তাদেরকে খুঁজে বের করে, ইদুর তাদের চারপাশে অজস্র সংখ্যায় এবং তারা একজন নারী দ্বারা শাসিত (পৃঃ ১৩০)
ইমাম জাফর সাদিকের সম্মুখে যখন বলা হয়েছিল যে, হাইক’ কে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তখন তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছিলেন, হাইক’ সে ব্যক্তি যে আল্লাহ ও রাসুলের বিরুদ্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে (খন্ড ১২, পৃঃ ১০১) { মূলত আমিরুল মোমেনিন। ‘হাইক’ বা “তাঁতি’ শব্দ দ্বারা মোনাফিক বুঝিয়েছেন। সেজন্যই তিনি আশআছের ওপর আল্লাহ ও অন্য সকলের অভিশম্পাত দিয়েছেন। মহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ আমরা মানুষের জন্য যে সব স্পষ্ট নিদর্শন ও হেদায়েত কিতাবে নাজেল করেছি তা যারা গোপন করে আল্লাহ তাদের লা’নত দেন এবং অভিশাপকারীগণও অভিশাপ দেয় (কুরআনR3 (ad) / এরপর আমিরুল মোমেনিন বললেন, “মোশারেক থাকাকালে বন্দী হবার অবমাননাকর অবস্থা তুমি মুছে ফেলতে পার নি। এমন কি ইসলাম গ্রহণের পরও বন্দী হবার কলঙ্কের ছাপ তোমাকে ত্যাগ করে নি।’ ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তার বন্দী হবার কাহিনী হলো-বনি মুরাদ যখন তার পিতা কায়েসকে হত্যা করলো তখন সে বনি কিনদাহ থেকে যোদ্ধা সংগ্রহ করে তাদের তিন দলে বিভক্ত করলো। এক দলের নেতৃত্ব সে নিজে গ্রহণ করলো, আরেক দলকে কাব ইবনে হানীর নেতৃত্বাধীন এবং অন্য দলকে কাশআম ইবনে ইয়াজিদ আল-আরকামের নেতৃত্বাধীনে দিয়েছিল। তারপর সে বনি মুরাদের সাথে যুদ্ধ করতে যাত্রা করলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে বনি মুরাদের পরিবর্তে বনি হারিছ ইবনে কাবকে আক্রমণ করে বসলো। ফলে কাব ইবনে হানী ও কাশআম ইবনে ইয়াজিদ নিহত হলো এবং সে জীবিত বন্দী হলো। সে তিন হাজার উট মুক্তিপণ দিয়ে পরবতীতে মুক্তিলাভ করলো । আশআছের দ্বিতীয়বার বন্দী হবার ঘটনা হলো— রাসুলের ইহধাম ত্যাগের পর খলিফা আবু বকরের একটা আদেশ বাতিলের জন্য হাদ্রামাউত অঞ্চলে বিদ্রোহ হয়েছিল। উক্ত আদেশে খলিফা হাদ্রামাউত অঞ্চলের গভর্নর জিয়াদ ইবনে লাবিদ আল-বায়াদি আল আনসারীকে লেখেছিলেন, সে যেন লোকদের কাছ থেকে তার বায়াত ও জাকাত আদায় করে। জিয়াদ জাকাত আদায় করতে গিয়ে শায়তান ইবনে হাজরের একটা মোটাতাজা ও সুন্দর উস্ট্রির ওপর লাফিয়ে ওঠে বসে পড়লো। শায়তান তার এ উস্ট্রিটি ছাড়তে চাইলো না এবং এটির বদলে যে কোন উস্ট্রি নিয়ে যেতে অনুরোধ করলো। কিন্তু জিয়াদ তাতে রাজি হলো না। শায়তান তার ভ্রাতা আদা ইবনে হাজারকে ডেকে পাঠালো। সে এসে জিয়াদের সাথে কথা বললো কিন্তু জিয়াদ কিছুতেই উস্ট্রিটির লাগাম থেকে হাত সরাতে রাজি হলো না। অবশেষে উভয় ভ্ৰাতা সাহায্যের জন্য মাসরুক ইবনে মাদি কারিবের কাছে আবেদন করলো। মাসরুকেও তার প্রভাব খাটিয়ে চেষ্টা করে উস্ট্রিটি জিয়াদের দখল থেকে ছাড়াতে ব্যর্থ হলো। এতে মাসরুক ভীষণ রাগান্বিত হয়ে গেল এবং উস্ট্রিটির বাঁধন খুলে দিয়ে তা শায়তানের হাতে দিয়ে দিল। মাসরুকের এহেন ব্যবহারে জিয়াদ অপমান বোধ করলো এবং রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে গেল। সে লোকজন সংগ্রহ করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলো। অপরদিকে বনি ওয়ালিয়াহ ও তাদেরকে মোকাবেলা করার জন্য জড়ো হলো কিন্তু জিয়াদকে পরাজিত করতে পারে নি, বরং তার হাতে ভীষণ মার খেয়েছিল। জিয়াদ তাদের নারীগণকে নিয়ে গিয়েছিল এবং সমস্ত সম্পদ লুটপাট করে নিয়েছিল। দৈবক্রমে যারা বেঁচে গিয়েছিল তারা আশাআছের নিকট আশ্রয় গ্রহণ করেছিল। আশাআছ এক শর্তে তাদের সাহায্য করতে সম্মত হলো যে, তারা তাকে সে এলাকার শাসনকর্তা বলে স্বীকৃতি দেবে। জনগণ সেই শর্ত মেনে নিয়ে আশআছের অভিষেক উদযাপন করলো। এরপর আশআছ সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করে জিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যাত্রা করলো। অপরপক্ষে জিয়াদকে সাহায্য করার জন্য আবু বকর ইয়েমেনের প্রধান মুহাজির ইবনে আবি উমাইয়াকে পত্র দিয়েছিল। মুহাজির তার বাহিনীসহ জিয়াদের দিকে এগিয়ে যাবার সময় পথিমধ্যে যুরকান নামক স্থানে আশআছের বাহিনীর সাথে মুখোমুখি হয় এবং উভয় পক্ষে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। আশআছ বেশিক্ষণ টিকতে পারলো না। সে তার লোকজনসহ নুজায়ার নামক দুর্গে আশ্রয় গ্রহণ করলো। মুহাজিরও পিছু ধাওয়া করে দূর্গ অবরোধ করলো। আশআছ ভাবলো অস্ত্র আর জনবল ছাড়া এভাবে কতদিন সে দূর্গে আবদ্ধ হয়ে থাকবে। ফলে সে এক রাতে চুরি করে দূর্গের বাইরে এসে জিয়াদ ও মুহাজিরের সাথে দেখা করলো এবং তাদের সঙ্গে এ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলো যে, যদি তারা, তার পরিবারের নয় জনের নিরাপত্তা বিধান করে তবে সে দূর্গের ফটক খুলে দেবে। জিয়াদ ও মুহাজির এতে রাজি হলো। আশআছ উক্ত নয় জনের নাম লেখে তাদের হাতে দিল কিন্তু তার নিজের নাম লেখতে ভুলে গিয়েছিল। এদিকে সে দুর্গে ফিরে গিয়ে বললো যে, সে সকলের জীবনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। সে দুর্গের ফটক খুলে দেয়ার নির্দেশ দিল। যেইনা ফটক খোলা হলো অমনি জিয়াদের বাহিনী তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। দূর্গের জনতা বললো তাদের জীবনের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। জিয়াদের সৈন্যরা বললো আশাআছ যে নয় জনের নিরাপত্তা চেয়েছে সে নয় জনের তালিকা তাদের কাছে রয়েছে। এ দূর্গে আটশত লোক হত্যা করা হয়েছিল এবং বেশ কজন মহিলার হাত কেটে ফেলা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী নয় জনকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু আশআছের নাম তালিকায় না থাকায় তার বিষয়টি জটিল হয়ে পড়লো। অবশেষে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে এক হাজার নারী বন্দিনীর সাথে মন্দিনায় আবু বকরের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। পথিমধ্যে নারী-পুরুষ, আত্মীয়-স্বজন সবাই তাকে অভিশম্পাত দিয়েছিল এবং মহিলারা তাকে “উরফ-আন-নারী”(অর্থাৎ এমন বিশ্বাসঘাতক যে নিজের লোকদের তরবারির নিচে ঠেলে দেয়) বলে গালি দিয়েছিল। যাহোক মদিনায় পৌছার পর আবু বকর তাকে মুক্তি দিয়েছিল। এরপর সে আবু বকরের বোন উম্মে ফরওয়াহকে বিয়ে করেছিল।