খোৎবা- ১৭

অযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক মানুষের মধ্যে ন্যায়ের বিধান প্রয়োগ সম্পর্কে
মানুষের মধ্যে দুব্যক্তিকে’ আল্লাহ অতিশয় ঘূণা করেন। এদের একজন হলো সে যে আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করতে ব্যস্ত থাকে। সে ব্যক্তি সত্যপথ থেকে সরে চলে এবং মিথ্যা কোন কিছু উদ্ভাবন করে তা বলে বেড়াতে আনন্দ পায়। সে ব্যক্তি মানুষকে ভুল পথের দিকে আমন্ত্রণ জানায়। যারা তার প্রতি অনুরক্ত হয় তাদের জন্য সে অত্যন্ত ক্ষতিকর। সে নিজেই তার পূর্ববতীগণের নির্দেশিত পথ থেকে সরে গিয়ে বিপথে পরিচালিত। কাজেই সে জীবদ্দশায় তার অনুসারীদের গোমরাহির দিকে পরিচালিত করে এবং মৃত্যুর পর নিজের ও অনুসারীদের পাপের বোঝা বহন করে। অপর ব্যক্তি সে যাকে মূর্খতা ও অজ্ঞতা ঘিরে আছে। সে অজ্ঞদের মাঝেই চলাফেরা করে এবং সে অমঙ্গল বিষয়ে জ্ঞানহীন ও শান্তিপূর্ণ অবস্থার সুবিধা সম্পর্কে অন্ধ। সাধারণ মানুষ তাকে পন্ডিত মনে করে কিন্তু আসলে সে তা নয়। সে অতি প্রত্যুষে এমন কিছু সংগ্রহে করতে বেরিয়ে পড়ে যার প্রাচুর্য থেকে স্বল্পতা অনেক ভাল। সে দূষিত পানি দ্বারা তৃষ্ণা নিবারণ করে এবং যা অর্জন করে তা অর্থহীন। জনগণের কাছে যা বিভ্রান্তিকর বলে মনে হয় তার সমাধান দেয়ার দায়িত্ব নিয়ে সে বিচারকের আসনে বসে। যদি কোন দ্ব্যর্থক সমস্যা তার সামনে তুলে ধরা হয় তবে সে তার মনগড়া খোড়া যুক্তি দাঁড় করিয়ে তার ভিত্তিতে রায় প্রদান করে। এভাবে সে ন্যায়-অন্যায় ও সত্য-মিথ্যা না বুঝে মাকড়সার জালের মতো সন্দেহ ও ভ্রান্তির জালে জড়িয়ে পড়ে। যখন সে সঠিক কাজ করে তখন সে ভয় করে পাছে ভুল হয়ে গেল। কিনা। আবার যখন সে ভুল করে তখন মনে করে সে ঠিকই করেছে। সে জাহেল, অজ্ঞতার মাঝেই ধ্বংস খুঁজে বেড়াচ্ছে এবং সে এমন বাহনের সওয়ার যা লক্ষ্যহীনভাবে অন্ধকারে চলছে। মজবুত দাঁত দ্বারা সে কখনো জ্ঞানকে আঁকড়ে ধরে নি। সে হাদিসকে এমন বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে দেয় যেন বাতাস শুকনো পাতাকে ছড়িয়ে ফেলে। আল্লাহর কসম, যেসব সমস্যা তার কাছে আসে সেগুলোর সমাধান দেয়ার মতো যোগ্যতা তার নেই এবং যে মর্যাদাকর অবস্থানে তাকে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে তার উপযুক্ত সে নয়। যা সে জানে না তা জানা দরকার বলেও সে মনে করে না। এ কথা সে অনুভব করতে পারে না যে, যা তার নাগালের বাইরে তা অন্যের নাগালের মধ্যে থাকতে পারে। যে বিষয় তার কাছে অস্পষ্ট মনে হয় সে বিষয়ে সে নিশ্চচুপ থাকে কারণ সে নিজের অজ্ঞতা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল । হারানো জীবনগুলো তার অন্যায় রায়ের বিরুদ্ধে চিৎকার দিচ্ছে এবং সম্পদরাজী (যা অন্যায়ভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে) তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ ভরে বিড়বিড় করছে। যে সব লোক জীবনে অজ্ঞ ও মৃত্যুতে বিপথগামী তাদের বিরুদ্ধে আমি আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ
করি। তাদের কাছে কুরআন অপেক্ষা মূল্যহীন আর কিছু নেই—কুরআনের আয়াত যথাস্থান থেকে সরিয়ে ফেলা অপেক্ষা মূল্যবান কিছু নেই— ধার্মিকতা অপেক্ষা খারাপ কিছু নেই-পাপ অপেক্ষা সুনীতিসম্পন্ন কিছু নেই।
১। আমিরুল মোমেনিন দুশ্রেণির লোককে আল্লাহর অপছন্দনীয় ও জনগণের মধ্যে নিকৃষ্ট মনে করেছেন।
প্রথমত যারা মৌলিক বিষয়ে বিপথগামী এবং মন্দ বা পাপ ছড়াবার কাজে ব্যস্ত। দ্বিতীয়ত যারা কুরআন ও সুন্নাহকে পরিত্যাগ পূর্বক নিজের ইচ্ছামতো বিধি-নিষেধ জারি করে। তারা তাদের অনুরাগীর একটা পরিমন্ডল তৈরি করে নেয় এবং তাদের নিজেদের বানানো ধমীয় বিধান জনপ্রিয় করে তোলে। এসব লোকের বিপথগামিতা ও ভ্রান্তি তাদের নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিপথগামিতার যে বীজ তারা বপন করে তা প্ৰকান্ড গাছে পরিণত হয়ে ফল দেয় এবং বিপথগামীদের আশ্রয় প্রদান করে। এভাবে বিপথগামীর সংখ্যা বেড়েই চলে। যেহেতু এসব লোক ভ্রান্তি ও বিপথ সৃষ্টির হতো সেহেতু অন্যদের পাপের বোঝা এরাই বহন করবে। কুরআন বলেঃ
এবং নিশ্চয়ই তার তাদের পাপের বোঝা বহন করবে এবং নিজেদের বোঝার সাথে অন্যের বোঝাও। (২৯:১৩)