কারবালার প্রথম যিয়ারতকারী জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী ছিলেন মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.), হযরত ইমাম আলী (আ.) ও তাঁর পরবর্তী চার ইমামের বিশিষ্ট সাহাবী। দ্বিতীয় ওকবার ঘটনাতে শিশু থাকাবস্থায় বাবার সাথে তিনিও সেই ৭০ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যারা আল্লাহর রাসুলের (সা.) হাতে বাইআত করেছিল।

তাছাড়া বাইআতে রেজওয়ানেও (শাজারা) অংশগ্রহণ করেছিলেন।

(আবুল কাসেম সুলায়মান ইবনে আহমাদ তিবরানী, আল মুজামুল কাবির, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৮০ ও ১৮১)

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী সম্পর্কে কাশ্শি বর্ণনা করেন: আলীকে (আ.) কেন্দ্র করে যে অগ্রগামী সৈনিকগুলো ছিল জাবের ছিলেন তাদের অন্যতম। তিনি ছিলেন দ্বিতীয় ওকবার ঘটনাতে সেই ৭০ জনের একজন ও রাসুলের (সা.) আসহাবদের মধ্যে বেঁচে থাকা সর্বশেষ সাহাবী এবং আহলে বাইতের (আ.) একজন অনুসারী। তিনি মাথায় কালো আমামা (পাগড়ী) বেঁধে মসজিদে বসে চিতকার করে বলতেন: ইয়া বাকেরুল ইল্‌ম (হে জ্ঞান বিশারদ)! এবং নিজের আসা বা লাঠির উপর ভর করে মদিনার অলিগলিতে ও তাদের বিভিন্ন মজলিস ও অনুষ্ঠানে বলে বেড়াতেন: আলী (আ.) মানব জাতিতে সর্বোত্তম আর যে কেউ মেনে নেবে না সে কাফের। হে আনসারগণ ! তোমরা তোমাদের সন্তানদের আলীর (আ.) প্রেমে লালন পালন কর, তাদের মধ্যে যে তাঁর প্রেমিক হবেনা তার বৈধতা সম্পর্কে তার মায়ের কাছে প্রশ্ন কর। তিনি বৃদ্ধ ছিলেন বলে হাজ্জাজও তাঁকে কিছু বলতোনা

(আবু জাফার মোহাম্মদ ইবনে হাসান তুসি, ইখতিয়ারু মারিফাতুর রিজাল, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩৮, হাদিস: ৭৮ এবং পৃষ্ঠা: ৪১ হাদিস: ৮৭ ও ৮৮ এবং পৃষ্ঠা: ৪৪, হাদিস: ৯৩ এবং পৃষ্ঠা: ১২৪-১২৫, হাদিস: ১৯৫)

আয়াতুল্লাহ খুই (রহ:) তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেন: জাবের ছিলেন আল্লাহর রাসুলের (সা.) একজন বিশিষ্ট সাথী এবং আমিরুল মুমেনিন হযরত আলীর (আ.) উত্তম সঙ্গী ও শোরতাতুল খামিসের একজন।

(মুজামুর রিজালুল হাদিস ওয়া তাফসিলু তাবাকাতুর রোওয়াত, ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩৩০)

জাবের তার জীবনে কতগুলো গাযওয়া বা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন ইতিহাসে তার একরকম কোনো তথ্য পাওয়া যায়না। তিবরানির মতে তিনি ১৩টি যুদ্ধে (গাযওয়া) অংশগ্রহণ করেছিলেন।

(আবুল কাসেম সুলায়মান ইবনে আহমাদ তিবরানী, আল মুজামুল কাবির, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৮২)

শেখ তুসি বলেন যে, জাবের বদর যুদ্ধ ছাড়াও আরও ১৮টি গাযওয়াতে মহানবীর (সা.) সাথে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

(রিজালুত তুসি, পৃষ্ঠা: ৩১ ও ৩২)

ইবনে আসিরের মতে: জাবের ১৭টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং বাবা বারণ করেছিলেন বলে বদর ও ওহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। কিন্তু কালবির মতে জাবের ওহুদের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ১৮টি যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং সিফ্ফিনের যুদ্ধেও আলীকে (আ.) সহযোগিতা করেছিলেন।

(উসদুল গাবা, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ২৫৭)

জ্ঞানগত পদমর্যাদার দিক দিয়ে যাহাবির দৃষ্টিতে তিনি সে যুগে মদিনার ফকিহ ও মুফতি ছিলেন।

(শামসুদ্দিন যাহাবি, সিয়ারু আলামুন নুবালা, ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৯০)

রাউয়ি হিসেবে জাবের এমন এক ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন যে, অনেকেই তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। অনেকের মতে তিনি ১৫৪০ টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।

(শামসুদ্দিন যাহাবি, সিয়ারু আলামুন নুবালা, ৩য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৯৪)

অতঃপর ৭৮ হিজরিতে ৯০ বছর বয়সে জাবের এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান।

(রিজালুত তুসি, পৃষ্ঠা: ৩২)

Source: http://www.hussainidalan.com