কেন জয়নাব (সা.আ.)এর স্বামী কারবালাতে উপস্থিত ছিলেন না?

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর এ তাইয়ার ছিলেন রাসুল (সা.) এর প্রবীনতম সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ছিলেন প্রথম মুসলমান যিনি হাবাশায় জন্মগ্রহণ করেন এবং যখন তিনি হেজাজের ফিরে আসেন তখন তিনি রাসুল (সা.)’এর খেদমত করতে থাকেন। তাঁর বাবার মৃত্যুর পরে তিনি আব্বাস বিন আব্দুল মোত্তালেবের কাছে লালিত পালিত হন। (আল গারাত, পৃষ্ঠা ৩৮৫ )

তিনি রাসুল (সা.) এর ওফাতের পরে হজরত আলী (আ.) এর খেদমত করেন এমনকি তিনি সিফফিনের যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেন।(ওয়াকেয়াতুস সিফফিন, পৃষ্ঠা ৩৭৩)

একবার মাবিয়া হজরত ইমাম হাসান ও হুসাইন (আ.) কে বিভিন্নভাবে অপমান করার চেষ্টা করে তখন তিনি মাবিয়ার লোকজনের সামনে তার কথার বিরোধিতা করেন এবং ইমাম হাসান ও হুসাইন (আ.) এর পক্ষপাতিত্ব করেন।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর কারবালাতে উপস্থিত না থাকার জন্য যে সকল দলিল উপস্থাপন করা  হয় তা নিন্মে উল্লেখ করা হলো

১- আমরা যদি এ সম্পর্কে আরো গবেষণা করি তাহলে দেখেতে পাব যে, হজরত আব্দুল্লাহ ইমাম হুসাইন (আ.) কে কুফার দিকে সফর করতে নিষেধ করেন কেননা তিনি কুফাবাসীদের চরিত্র সম্পর্কে অবগত ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি বুঝতে পারেন যে, ইমাম তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি অটল তখন তিনি তার প্রাণ প্রিয় স্ত্রী এবং সন্তানকে ইমাম (আ.) এর সাথে সফর করার নির্দেশ দান করেন। হজরত আব্দুল্লাহ জানতেন না যে ইমাম হুসাইন (আ.) আর সফর থেকে ফিরে আসবেন না। তা নাহলে হয়তো তিনিও হয়তো ইমাম (আ.) এর সাথে সফর করতেন। (আল ইরশাদ, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬৮- ৬৯)

২- অনেকে মনে করেন যে হজরত আব্দুল্লাহ’এর কারবালা সফরে ইমাম হুসাইন (আ.) সাথে না যাওয়ার অরেকটি কারণ হচ্ছে যে ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁকে নির্দেশ দেন যেন তিনি মদীনাতে থাকেন  এবং বণী হাশিমদের রক্ষণাবেক্ষণের দ্বায়িত্ব পালন করেন। (দায়েরাতুল মাআরেফ তাশাইয়ু, খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ৮৩)

৩- অনেকে মনে করেন যে সে সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৭০ বছর এবং  তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং এ কারণেই তিনি মদীনাতে থেকে যান।(ফারহাঙ্গে আশুরা, পৃষ্ঠা ২৯৮- ২৯৯)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর খুব বৃদ্ধ হয়ে গেছিলেন। উক্ত দলিলটিও সঠিক না কেননা হাবীব ইবনে মাযাহির, মুসলিম ইবনে আওসাজ ছিলেন বৃদ্ধ এবং হজরত ইমাম সাজ্জাদ (আ.) ছিলেন অসুস্থ কিন্তু তারা কারবালার ময়দানে উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং উক্ত দলিলটিও সঠিক না।

 ৪- তিনি অন্ধ ছিলেন। যদিও উক্ত দলিলটি ঠিক না কেননা যখন কারবালার বন্দিরা মদীনাতের ফিরে আসে তখন হজরত আব্দুল্লাহ হজরত জয়নাব (সা..আ.) কে দেখে চিনতে পারেন নি।

যাইহোক হজরত জাফর বিন আব্দুল্লাহ ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যাক্তি যিনি ইসলামের স্বার্থে অনেক শ্রম এবং অর্থ দান করেছেন। আর তাই কারবালাতে তার উপস্থিত না থাকার বিষয়টিকে নিয়ে তার ঈমানের প্রতি সন্দেহ করতে পারিনা। কেননা সুপরিচিত অনেক ব্যাক্তিও কারবালাতে উপস্থিত ছিলেন না। ইতিহাসে এমন কিছু ব্যাক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে যারা জনগণের মাঝে পরিচিত ছিলেন কিন্তু কারবালাতে উপস্থিত ছিলেন না। আর এ কারণেই কারবালাতে উপস্থিত না থাকলে যে, কোন ব্যাক্তির সত্যবাদিতা এবং দূর্বল ঈমানের পরিচয় প্রমাণের জন্য যথেষ্ট না । এমন অনেকেই ছিলেন যারা ইমাম হুসাইন (আ.) এর সাথে শাহাদত বরণ করার মতো সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। আর এ কারণেই যদি কেউ কারবালাতে উপস্থিত হতে পারেনি তাদেরকে সন্দেহের চোখে দেখার কোন কারণ নেই।

আল্লামা হিল্লি এ সম্পর্কে লিখেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর এর মতো যারা কারবালাতে উপস্থিত ছিলেন না তাদের ঈমানের প্রতি সন্দেহ করা মোটেও ঠিক না।

আল্লামা মাজলিসি আল্লামা হিল্লি’এর কথার প্রসঙ্গ তুলে বলেছেন যে, শিয়া প্রমাণিত হওয়ার জন্য ঈমানের রুকুনের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে যেমন ব্যাক্তি তৌহিদ, আদল, নবুওয়াত, ইমামত এবং কেয়ামতের উপরে ঈমান রাখে কিনা? মোহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়া এবং আব্দুল্লা হচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম যাদের ঈমান ছিল অটল।(বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪২, পৃষ্ঠা ১০৯, ১১০)

এস, এ, এ
http://www.tvshia.com/bn/content/16196