হজরত মুসলিম ইবনে আকিল (আ.)এর সন্তানদ্বয়ের হত্যাকারির শেষ পরিণাম

হজরত মুসলিম (আ.)এর ‍দুই সন্তান মোহাম্মাদ ও ইব্রাহিমের কবর কারবালা থেকে প্রায় ২৫ কি:মি: দূরে মুসাইয়েব নামক শহরে অবস্থিত। মরহুম সাদুক (রহ.) তিনি বর্ণনা করেছেন একটি মত অনুযায়ি আশুরার ঘটনার পরে হজরত মুসলিম (আ.)এর দুই সন্তানকে কুফায় সৈন্যরা তাদেরকে বন্দি করে ইবনে যিয়াদের কাছে নিয়ে আসে। তখন ইবনে যিয়াদ

তাদেরকে কারাগারে কষ্টের মধ্যে রাখার নির্দেশ দেয়। কারাগারে সারা দিন রাতে তাদেরকে শুধুমাত্র দুই টুকরা যবের রুটি দেয়া হতো। একদিন তারা পরামর্শ করে যে কারা রক্ষিকে তাদের পরিচয় দিবে যেন তাদের খাবারের মাত্রাটা কিছুটা হলেও বাড়িয়ে দেয়। যখন কারারক্ষি তাদের কাছে খাবার দেয়ার জন্য আসে তখন তারা বলে: হে কারারক্ষি তুমি কি মোহাম্মাদ (সা.) কে চিন? জাফর বিন আবি তালিবকে চিন? তখন কারারক্ষিরা তাঁদের প্রসংশা করে এবং যখন বাচ্চারা বলে যে আমরা হচ্ছি হজরত মুসলিমের সন্তান। তখন সে তাদেরকে আদর করে এবং তাদেরকে বলে আমি তোমাদের জন্য কারাগারের দরজা খুলে রাখছি তোমরা রাত হলে উক্ত পথ দিয়ে বাহির হয়ে যাবে রাতে পথ চলবে এবং দিনে নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখবে। কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরে এক রাতে তারা এক ‍বৃদ্ধার ঘরে আশ্রয় নেয় এবং তাকে নিজেদের পরিচয় দেয়। তখন উক্ত বৃদ্ধা তাদেরকে বলে: তোমরা এখান থেকে চলে যাও কেননা আমার জামাই হচ্ছে একজন অসৎ লোক সে কারবালাতে এজিদের পক্ষ নিয়ে ইমাম হুসাইন (আ.) এর বিরূদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। তারা উক্ত বৃদ্ধাকে বলে: আমরা ঘরে এক কোণায় নিজেদেরকে লুকিয়ে রাখব। অপর দিকে যখন ইবনে যিয়াদ হজরত মুসলিমের দুই সন্তানের পলায়ণের খবর শুনতে পায় তখন সে উক্ত কারারক্ষিকে হত্যা করে এবং হজরত মুসলিমের দুই সন্তানকে আটক করার জন্য দুই হাজার দিরহাম ঘোষণা দেয়। উক্ত ঘোষণাটি শোনার পরে বৃদ্ধার জামাই হারেস বিন উরওয়া বাচ্চা দুটিকে আটক করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। যখন সে ক্লান্ত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। তখন বৃদ্ধা তাদেরকে অন্ধকারে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু যখন বাচ্চা দুটি ঘুমিয়ে পড়ে তাদের ঘুমের শব্দের কারণে হারেস বুঝতে পারে যে তাদের বাড়িতে আরো কেউ আছে যা সে জানে না। অবশেষে সে তাদেরকে খুঁজে বাহির করে এবং তাদের হাত পাকে বেধে রাখে। সকাল হলে সে তার দাশকে নির্দেশ দেয় সে যেন উক্ত সন্তান দুটিকে ফুরাতের কিনারায় নিয়ে যায় এবং তাদেরকে হত্যা করে। হারেসের দাশ তাদেরকে চিনতে পারে সে ফুরাত নদিতে ঝাপ দেয় এবং পালিয়ে যায়। তখন হারেস নিজেই তরবারি দ্বারা মুসলিমের বড় সন্তানকে হত্যা করতে উদ্যত হয়। তখন তাঁরা হারেসকে মিনতি করে বলে আমাদেরকে হত্যা করো না। বরং আমাদেরকে দাশরূপে বিক্রয় করে দাও অথবা ইবনে যিয়াদের কাছে পাঠিয়ে দাও হয়তো সে আমাদের প্রতি দয়ার দৃষ্টিতে দেখবে। যখন হারেস তাদের কথাকে মেনে নেয় তখন তারা হারেসকে বলে আমাদেরকে অনুমতি দাও যেন আমরা দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে পারি। নামাজান্তে হারেস মুসলিমের বড় সন্তান মোহাম্মাদকে তরবারির এক কোপে শহিদ করে তখন ইব্রাহিম ভাইয়ের রক্তে নিজেকে লুটিয়ে দেয় এবং বলে আমি চাই রক্ত মাখা অবস্থায় রাসুল (সা.) এর কাছে উপস্থিত হতে। হারেস তাকে বলে তুমি চিন্তা করো না আমি তোমাকে সেখানেই পাঠাবো যেখানে তুমি যেতে চাও। অতঃপর তরবারির আরেক কোপে সে ইব্রাহিমকেও শহিদ করে দেয় এবং তাদের কাটা মাথাকে ঘোড়ার পিঠে রাখা বস্তার মধ্যে ঢুকিয়ে দেয় এবং তাদের দেহকে ফুরাতের নদিতে ফেলে দেয়। সে পুরষ্কার পাওয়ার লোভে উক্ত মাথা দুটিকে নিয়ে ইবনে যিয়াদের দরবারে উপস্থিত হয়। ইবনে যিয়াদ হারেসের কাছে ঘটনাটি শোনার পরে বুঝতে পারে যে সে চাইলে ঐ বাচ্চাদেরকে ইবনে যিয়াদের কাছে উপস্থিত করতে পারতো। তখন ইবনে যিয়াদ তার সেনাদেরকে নির্দেশ দেয় তারা যেন হারেসকে উক্ত স্থানে নিয়ে যেয়ে যেখানে সে মুসলিমের দুই সন্তানকে হত্যা করেছিল এবং তাকে হত্যা করে। হারেসকে হত্যা করার পরে তার কাটা মাথাকে ইবনে যিয়াদের সামনে উপস্থিত করে। ইবনে যিয়াদ হারেসের মাথাকে কিছুক্ষণ অবলোকন করে অতঃপর কুফার বাচ্চাদের কাছে দিয়ে দেয় তারা হারেসের মাথাকে উদ্দেশ্যে করে পাথর নিক্ষেপ করে এবং বলতে থাকে হারেস রাসুল (সা.) এর বংশধরকে হত্যা করেছে।

অন্য এক মত অনুযায়ি হজরত মুসলিম (আ.)এর বাচ্চারা কারবালাতে বন্দি হয় অথবা তার পিতার সাথে কুফাতে আসে। উক্ত বিষয়টি নিয়ে এতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

তবে যদি তারা কুফাতে বন্দিরূপে থাকতো তাহলে অবশ্যই ইবনে যিয়াদ তাদেরকে কারবালার বন্দিদের সাথে শামে প্রেরণ করতো। যেহেতু তারা তাদের পিতার সাথে কুফায় এসেছিল সেহেতু ইতিহাসের কোথাও এজিদের দরবারে অথবা শামের কারাগারে হজরত মুসলিম (আ.)এর দুই সন্তানের কথা উল্লেখিত হয়নি। সুতরাং এটাই প্রমাণিত হয় যে হজরত মুসলিম (আ.) এর দুই সন্তান তার সাথেই ছিল এবং কুফাতেই তাদেরকে শহিদ করা হয়।

সূত্র: আমালি শেইখ সাদুক (রহ.)।
এস, এ, এ
http://www.tvshia.com/bn/content/16572