হজরত মোখতার’এর সংক্ষিপ্ত জীবন বিবরণি

নাম মোখতার বিন আবি উবাইদা বিন মাসউদ বিন ওমর বিন উমাইর বিন আউফ বিন ক্বাসী বিন হানবা বিন বাকর বিন হাওয়াযান। (তারিখে ইয়াকুবি, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৫৮) মোখতারের গোত্রের নাম সাকিফ যা ছিল সে যুগের প্রসিদ্ধ এবং বিস্তৃত একটি গোত্র যা হাওয়াযান থেকে তায়েফ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। (মোজামে কাবায়েলুল আরাব, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪৮) তার কুনিয়া বা উপনাম ছিল আবু ইসহাক (কামেল ইবনে আসীর, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৭১)

তার উপাধি ছিল কিসান যার অর্থ হচ্ছে চতূর বা বুদ্ধিমান। (কামুস, মোহাম্মাদ বিন ইয়াকুব ফিরুয আবাদী, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৫৭)

আসবাগ বনি নোবাতে নামক ইমাম আলী (আ.) এর একজন সাহাবী বলেনঃ ইমাম আলী (আ.) মোখতারকে কাইস উপাধিটি দান করেন। (রেজালে কাসী, প্রষ্ঠা ১২৭)

মোখতারের পিতার নাম আবু উবাইদা সাকাফি তিনি হজরত ওমরের খেলাফতের প্রথমভাগে তায়েফ থেকে মদীনাতে আসেন এবং সেখানেই জীবন যাপন শুরু করেন। (মুরুজুয যাহাব, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩১৫)

তাঁর পিতা হজরত ওমরের যুগে ইরানের সাথে যুদ্ধ কালিন সময়ে ছিলেন ইসলামের সেনা বাহিনীর প্রধান। (আল গারাত, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫১৭)

তাঁর মাতার নাম হচ্ছে দুমে। তিনি ছিলেন সে যুগের একজন পরিচিত নারী যার জ্ঞান, বিচার সহ অন্যান্য বিষয় ছিল বর্ণনা করার মতো। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ৩৫০)

তিনি নৈতিকতা, ভদ্রতার শিক্ষা আহলে বাইত (আ.) থেকে অর্জন করেন। (হায়াতিল ইমামিল হুসাইন, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৫৪)

 তিনি যুবক অবস্থায় তার বাবা এবং তার চাচার সাথে মিলে যুদ্ধ করার জন্য ইরাকে আসেন। মোখতার ইমাম আলী (আ.) এর সাথে ছিলেন এবং ইমাম (আ.) এর মৃত্যুর পরে কিছুদিন বাসরাতে চলে যান এবং সেখানে কিছুদিন জীবন যাপন করেন। (আল আলাম, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ৭০)

মোখতারের বংশধরগণ ছিলেন আহলে বাইত (আ.) এর  অনুসারী বা শিয়া। এক্ষেত্রে ইতিহাসে তাঁর বেশ কিছু পদক্ষেপকে উল্লেখ করা হয়েছে যা দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, তিনি ছিলেন প্রকৃত আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারী।

মুসলিম ইবনে আকিলকে সহায়তাঃ শেইখ মুফিদ এবং তাবারির বর্ণনামতে মুসলিম ইবনে আকিল কুফাতে আসেন এবং মোখতারের বাড়িতে অবস্থান করেন। মোখতার তাকে যথেষ্ট সম্মান প্রদর্শন করেন এবং তাকে সাহায্যে করার প্রতিশ্রুতি দান করেন। (আল ইরশাদ, পৃষ্ঠা ২০৫, তারিখে তাবারী, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৫৫)

বালাজুরি লিখেছেন মুসলিম ইবনে আকিল মোখাতরের বাড়িতে অবস্থান করে। কিন্তু যখন ইবনে যিয়াদ কুফাতে আসে তখন তিনি মুসলিমের জীবন রক্ষার্থে তাকে হানী বিন উরওয়া’এর বাড়িতে স্থানন্তর করেন। কেননা হানী বিন উরওয়া ছিল এমন একজন  ব্যাক্তিত্ব যাকে আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারীরা যথেষ্ট সম্মান করতো কেননা তিনি ছিলেন একজন বিস্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য ব্যাক্তি।

মোখতার হজরত মুসলিমের কুফাতে আগমণের পর থেকে সে তার বাইয়াত গ্রহণের লক্ষ্যে কুফার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। কিন্তু হঠাৎ ইবনে যিয়াদের ছলনায় কুফার সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হলে তিনি আবার কুফাতে ফিরে আসেন। ইবনে যিয়াদ নির্দেশ জারী করে ইমাম হুসাইন (আ.) এর বাইয়াত গ্রহণকারী এবং তাদের সাহায্যেকারীরা যেন তার বাইয়াত গ্রহণ করে। আর যদি কেউ বাইয়াত গ্রহণ না করে তাহলে তাকে বন্দি করার নির্দেশ জারী করে। ইবনে কাসীর লিখেন যে যখন মুসলিম এবং হানী বিন উরওয়াকে গ্রেফতার করা হয় তখন মোখতার কুফাতে ছিল না বরং তিনি সৈন্য একত্রিত করার জন্য কুফার বাইরে গেছিল। কিন্তু যখন তিনি মুসলিম এবং হানী বিন উরওয়ার গ্রেফতারের খবর শুনতে পান তখন তিনি সৈন্যদেরকে নিয়ে তড়িৎ গতিতে কুফাতে আসেন। যখন তিনি কুফাতে প্রবেশ করেন তখন তিনি ইবনে যিয়াদের সৈন্য বাহিনীর মুখোমুখি হন এবং তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে লড়াই শুরু হয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে ইবনে যিয়াদের সৈন্য পক্ষের প্রধান মারা যায়। মোখতার তাদেরকে বলে তোমরা এখান থেকে সরে যাও দেখি অবস্থা কিরূপ হয়।(কামেল ইবনে আসীর, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৬৯)

ইবনে যিয়াদ মুসলিম এবং হানী বিন উরওয়ার মৃত্যুর পরে মোখতার কে সন্ধান করে কেননা তাকে আটকাতে পারলেই আর কুফাতে তেমন কোন সমস্যা থাকবে না। (তারিখে তাবারী, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৮১, কামেল ইবনে আসীর, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৬)

মোখতার বন্দি অবস্থায়ঃ

হানী বিন জাব্বা ইবনে যিয়াদের প্রতিনিধি আমরু বিন হারিসকে মোখতারের গুপ্ত ঠিকানা দেয়। যখন মোখতার আমরুর মাধ্যে ইবনে যিয়াদের দরবারে উপস্থিত হয় এবং যখন ইবনে যিয়াদ তাকে দেখে তখন বলে তাহলে তুমিই সে ব্যাক্তি যে মুসলিম ইবনে অকিলকে সাহায্যে করেছিলে? মোখতার বলে বলে যে আমি তখন শহরে ছিলাম না। (মাকতালে হুসাইন, পৃষ্ঠা ২৬৮-২৭০)

তখন ইবনে যিয়াদ তাকে কারাগারে বন্দি করার নির্দেশ জারী করে এবং ইমাম হুসাইন (আ.)’এর শাহাদত পর্যন্ত তাকে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়। (ইনসাবুল আশরাফ, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৭৬-৩৭৭, কামেল ইবনে আসীর খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১৬, মাকতালে আবি মেখনাফ, পৃষ্ঠা ২৭১, আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ২৪৯)

মোখতার যায়েদে বিন কাদামা’কে গোপনে তার বোনের স্বামী আব্দুল্লাহ বিন ওমর বিন খাত্তাব’এর কাছে প্রেরণ করে যেন সে ইয়াযিদের কাছে তার মুক্তর জন্য আবেদন জানায়। যেহেতু বণী উমাইয়ারা আব্দুল্লাহকে সমিহ করতো সেহেতু তার লিখা চিঠির কারণে মোখতারকে মুক্ত করার নির্দেশ জারী করে। ইবনে যিয়াদ ইয়াযিদের চিঠির কারণে তাকে মুক্ত করে দেয় কিন্তু তাকে বলে যে সে যেন কুফাতে না থাকে। মোখতার বলে আমি মক্কায় ওমরা করতে যাচ্ছি এবং এভাবে সে মক্কায় আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর’এর কাছে আসে।

কুফাতে ফিরে আসাঃ

মোখতার মক্কায় বেশ কিছুদিন থাকার পরে আহলে বাইত (আ.) এর সদস্যদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এক মহৎ উদ্দেশ্যে কুফার দিকে রওনা হয়।(বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ৩৫৬)

যখন মোখতার কুফার কাছে পৌছায় তখন সে কুফাতে প্রবেশের পূর্বে হাইরা নামক নদীতে গোসল করে এবং নতুন পোষাক এবং পরিপাটি অবস্থায় মসজিদে কুফাতে আসে এবং জনগণকে সুসংবাদ দেয়। (ইনসাবুল আশরাফ, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৭৯)

মোখতার শিয়াদের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিদের সাথে সাক্ষাত করে এবং তাদেরকে বাইয়াত এবং কিয়াম করার জন্য আহবান জানায়। (তারিখে তাবারী, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫৭৯, কামেল ইবনে আসীর, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৭২)

কুফার প্রায় সকলেই মোখতারের কাছে বাইয়াত করে  এবং ইমাম হুসাইন (আ.) এর রক্তের বদলা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। (তারিখে তাবারী, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫৮০, কামেল ইবনে আসীর, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৭২)

মোখতারের কুফায় আগমনের খবর বন্ধু শত্রু সকলের কাছে পৌছে যায়। যখন কুফার আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইরের কর্তৃক নির্ধারিত খলিফা আব্দুল্লাহ ইবনে মুতি’এর কাছে খবরটি পৌছায় তখন সে আবার মোখতারকে গ্রেফতার করে কারাগারে বন্দি করে দেয়। তাওয়াবিনরা যখন কিয়াম করে তখনও মোখতার কুফার কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছিল। (কামেল ইবনে আসীর, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৭৩)

তখন মোখতার আবার তার বোন জামাই আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরের কাছে চিঠি লিখে যেন তাকে মুক্ত করা হয়। তখন আবার আব্দুল্লাহ বিন ওমরের চিঠির মাধ্যেমে সে কয়েক মাসের মধ্যেই মুক্তি পাই। কিন্তু এবার তাকে কিছু শর্ত দেওয়া হয়। মোখতার মুক্ত হওয়ার পরে ঠান্ডা মাথায় কিয়ামের পরিকল্পনা করতে থাকে।

মোখতারের কিয়ামের উদ্দেশ্যেঃ

মোখতার শিয়াদের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিত্বদের সাথে সাক্ষাত করে এবং তাদেরকে বলে যে আমাকে হজরত আলী (আ.) এর সন্তান মোহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়া অনুমতি দিযেছেন যে, আমি যেন আহলে বাইত (আ.) এর অত্যাচারী এবং ইমাম হুসাইন (আ.) এর হত্যাকারীদের কাছ থেকে প্রতিশোধ প্রগণ করি । এখন তোমরাই হচ্ছো সে প্রথম দল যাদেরকে আমি কিয়ামের দাওয়াত দিচ্ছি। (তারিখে তাবারী, খন্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫৮০, কামেল ইবনে আসীর, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৭২)

মোখতার বলে আমি আহলে বাইত (আ.) এর  নামকে জীবীত করতে এবং ইমাম হুসাইন (আ.) এর রক্তের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য এসেছি।। (আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া, ইবনে কাসীর, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ২৭০)

তিনি কারাগার থেকে তাওয়াবীনের সদস্যদের চিঠি লিখেন এবং তাদের বিদ্রোহের প্রশংসা করেন এবং বলেন যে, তোমরা অটল থাক আমি অতি দ্রুত কারাগার থেকে মুক্ত হব এবং তোমাদের শত্রুদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিব। (তারিখে তাবারী, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৭, কামেল ইবনে আসীর, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২১১)

কিছু লোক মোখতারের কথা ‍শুনে মক্কা এবং মদীনায় যায় এবং সেখানে মোহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়া এবং ইমাম সাজ্জাদ (আ.) এর কাছে যায় এবং বলে যে মোখতারআমাদেরকে আপনাদের নামে জিহাদের জন্য আহাবন জানাচ্ছে এক্ষেত্রে আমরা কি করতে পারি। মেহাম্মাদ ইবনে হাফিয়া তাদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন এ কাজে তাকে সাহায্যে করা তোমাদের জন্য ওয়াজিব। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪৫, পৃষ্ঠা ৩৬৫)

শিয়াদের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গরা কুফা এবং মদীনাতে ফিরে আসে এবং মোখতারের আহবানে সাড়া দেয়। (তারিখে তাবারী, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৫, কামেল ইবনে আসীর, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২১৫)

শিয়াদের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গরা ইব্রাহিম বিন মালিকে আশতারের কাছে এবং তাকে ইমাম হুমাইন (আ.) এর রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আহবান জানায় এবং তাকে যখন মোহাম্মাদ ইবনে হানাফিয়ার সত্যায়িত চিঠিটি তাকে দেখানো হয় তখন সে রাজি হয়। (ইনসাবুল আশরাফ, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৮৬, তারিখে তাবারী, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৬)

মোখতারের কিয়ামের শ্লোগান হচ্ছে ইয়া লাসারাতিল হুসাইন।(তারিখে তাবারী, খন্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩২, কামেল ইবনে আসীর, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২৬)

মুখতারের সহায়তায় এগিয়ে আসেন ইরাক ও ইরানের বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ এবং বিপ্লবী মুসলমান। তারা মুখতারের নেতৃত্বে কুফা দখল করেন এবং ইরাক ও ইরানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলও তাদের দখলে আসে। এ সময় হিজাজ ও মক্কা ছিল আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইরের দখলে এবং তার বাহিনীর সঙ্গে উমাইয়াদের যুদ্ধ চলছিল ইসলামী জাহানের কর্তৃত্ব নিয়ে।
তৃতীয় শক্তি মুখতার উমাইয়াদের হামলা প্রতিহত করেন এবং রণ-নিপুণ বীর যোদ্ধা ইব্রাহিম ইবনে মালিক আশতারের সহায়তা নিয়ে কারবালার প্রধান ঘাতকদের হত্যা করতে সক্ষম হন। কুফায় নিযুক্ত ইয়াজিদের কুখ্যাত গভর্নর ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ এবং হাসিন ইবনে নুমাইরসহ কারবালার প্রধান নরপিশাচদেরকে তাদের মহাপাপের শাস্তি হিসেবে হত্যা করা হয়। মুখতারের ন্যায়বিচারবোধ ছিল এতটা শানিত যে তিনি কারবালার গণহত্যার অন্যতম প্রধান আসামী তথা নিজের ভগ্নীপতি ওমর ইবনে সা’দকেও মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই দেননি।
ওমর ইবনে সাদ ছিল কারবালায় ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর অবরুদ্ধ পরিবারের বিরুদ্ধে কাপুরুষোচিত যুদ্ধ ও সন্ত্রাসী হামলায় অংশগ্রহণকারী ত্রিশ হাজার ইয়াজিদী সেনার প্রধান কমান্ডার। মহাপাপী শিমার, খুউলি ও হারমালার মত ঘাতকদেরও হত্যা করেন বিপ্লবী নেতা মুখতার এবং তাঁর বাহিনী। মুখতার নিজে ইমাম হুসাইন (আ.)’র ছয় মাসের শিশু আলী আসগর (রা.)-কে হত্যাকারী নরপিশাচ হারমালাকে হত্যা করেন এক বীরত্বপূর্ণ অভিযানে।
কুফায় মুখতারের শাসন টিকে ছিল দেড় বছর। কুফাবাসীদের প্রতারণামূলক চরিত্র ও অসহযোগিতার শিকার হয়ে মহান বীর মুখতারও শাহাদত বরণ করেন মুসাব ইবনে যুবাইরের বাহিনীর সঙ্গে ভাগ্য-নির্ধারণী এক অতি অসম লড়াইয়ে। হিজাজ থেকে আসা যুবাইরের বাহিনীর সঙ্গে লড়াই না করার জন্য মুখতারের অন্যতম প্রধান সেনাপতির কাপুরুষোচিত সিদ্ধান্ত এবং সিরিয়ার দিকে অভিযান চালানোর পক্ষপাতী ইব্রাহিম ইবনে মালিক আশতারের অনুপস্থিতি- এ দুটি বিষয় কাল হয়ে দাড়ায় মুখতার বাহিনীর জন্য। ফলে মুখতারের হাজার হাজার সেনা নিষ্ক্রিয়ভাবে বসে থাকে এবং মুখতার ও তাঁর অনুগত মাত্র ১০/১২ জন সেনা যুদ্ধে অংশ নেন হাজার হাজার শত্রু সেনার মোকাবেলায়।
মুখতারের প্রধান সেনাপতি ভেবেছিল হিজাজের বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ না করায় তাদের প্রাণ ভিক্ষা দেবে যুবাইর। কিন্তু বিনা যুদ্ধে আত্মসমর্পণকারী মুখতারের ওই বিশ্বাসঘাতক সেনাপতিসহ প্রায় সাত হাজার সেনার সবাইকে জবাই করা হয়েছিল মুসাব ইবনে যুবাইরের নির্দেশে। যুবাইরের (আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইরের ভাই) এ নির্মম আচরণ প্রভাব ফেলেছিল তার বাহিনীর মধ্যেও। উমাইয়াদের নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ের সময় যুবাইরের বাহিনীর কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা যুবাইরকে পরিত্যাগ করে। ফলে মুখতারের হত্যাকারী মুসাব ইবনে যুবাইরও নির্মমভাবে নিহত হয়েছিল।
যুবাইর বাহিনী আহত বীর মুখতারকে হত্যা করেছিল কুফার মসজিদের মিম্বরের পাশে যেখানে ইমামতি করতেন ও খুতবা দিতেন আমীরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আ.)। মুখতার নিজেই শহীদ হওয়ার জন্য এই পবিত্র স্থানটি বেছে নিয়েছিলেন।