চোখের একফোটা নোনা জল

মানুষকে বেহেশতের দিকে নিয়ে যায় —- মহানবী (সাঃ) এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র সাইয়েদুশ শোহাদা ইমাম হুসাইন (আঃ) , কুলাঙ্গার ঈয়াযীদের কবল থেকে তাঁর নানার কষ্টার্জিত ইসলাম ধর্মকে বাঁচাতে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন । শুধু তিনি নিজে একা নন , বরং তাঁর সঙ্গি-সাথি , পরিবারবর্গ এমনকি ছয় মাসের শিশু আলী আসগর পুরো সষ্টিজগতে আল্লাহর দ্বীনকে রক্ষার্থে আত্মত্যাগের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন । এইরকম করুন মর্মান্তিক আত্মত্যাগ দেখে পুরো সৃষ্টিজগত শোকে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছিল । আর এজন্য ইসলামে ইমাম হুসাইনের (আঃ) তথা কারবালার মর্মান্তিক করুন হত্যাযজ্ঞের স্বরণে শোক , মাতম , আযাদারি পালনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । রাসূল (সাঃ) ও মাসুস ইমামগণের (আঃ) হাদীসে ইমাম হুসাইনের (আঃ) শোকে মাতম , আযাদারি ও শোকানুষ্ঠান পালনের জন্য বিশেষ সওয়াবের কথা বলা হয়েছে । বিশেষত ইমাম হুসাইনের (আঃ) করুন শাহাদাতের ঘটনার স্বরণে ক্রন্দন ও অশ্রু বিসর্জন সম্পর্কে , চতুর্থ ইমাম জয়নুল আবেদিন (আঃ) থেকে নিম্নের হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে – ” যদি কোন মুমিন ইমাম হুসাইনের (আঃ) শাহাদতের কথা স্বরণ করে ক্রন্দন করে , তাহলে এই ক্রন্দনের মধ্য দিয়ে তার চোখ থেকে যে অস্রু ঝড়বে , সেগুলোর প্রতিটি ফোটার জন্য আল্লাহ তায়ালা বেহেস্তে তার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করবেন এবং সেখানে সে চিরন্তন অবস্থান করবে ” । সূত্র – সওয়াবুল আমাল , ১ম খন্ড , পৃ. ১০৮ এবং মুনতাখাবুল মিযানুল হিকমাহ , পৃ. ২৮ । চতুর্থ ইমাম জয়নুল আবেদীন (আঃ) আরও বলেছেন যে , ” যদি কোন মুমিন ইমাম হুসাইন (আঃ) এর শাহাদাতের বিষয় কাঁদে এবং তার চোখ থেকে অশ্রু বয় এবং তার গাল দুটোর উপর পড়ে , তাহলে আল্লাহ তাকে বেহেশতের প্রাসাদগুলোতে বাস করতে দিবেন , যেখানে সে একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য বাস করবে । আর যদি আমাদের উপর যে নিপীড়ন ও নির্যাতন আমাদের শত্রুরা করেছে , সে জন্য একজন মুমিনের চোখ থেকে অশ্রু বয় এবং তার গালের উপর পড়ে , তাহলে আল্লাহ তাকে বেহেশতে একটি আসন উপহার দিবেন । এবং যে মুমিন অামাদের কারনে দুঃখ কষ্ট ভোগ করে এবং তার অশ্রু তার গালে ঝরে পড়ে , তাহলে আল্লাহ তার দুঃখকে তার চেহারা থেকে দূর করে দিবেন এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে তাঁর ক্রোধ থেকে দূরে সরিয়ে রাখবেন এবং তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন ” । সূত্র – শোকার্তের দীর্ঘশ্বাস “বইটির ১ম পর্বের ২৩ নং পাতা থেকে সংগৃহীত । অতএব , হে আযাদার , অন্তর দিয়ে শুধু কাঁদো আর কাঁদো । নয়ন দুটিকে পুরোটাই ভিজিয়ে ফেল নোনা জলে — হয়ত তুমি নিজেই জান না যে , ফারশে আযাতে তোমার ঠিক পাশে বসে , ফাতেমা যাহরা (সাঃআঃ) নিঁজেও ক্রন্দন করছেন ————– । ইয়া মজলুমা ইয়া ইমামা ইয়া হোসানিয়া – ইয়া হোসেন , ইয়া হোসেন (আঃ) ।