চিঠি-১০

এ দুনিয়ার যা কিছু তোমাকে ঘিরে রেখেছে তা থেকে যখন তোমাকে সরিয়ে নেয়া হবে তখন তুমি কী করবে? দুনিয়া তার চাকচিক্য দিয়ে তোমাকে আকৃষ্ট করেছে এবং ভোগ-বিলাস ও আনন্দ-উল্লাস দিয়ে তোমাকে প্রতারিত করছে। দুনিয়া তোমাকে আহবান করেছে আর তুমি সে আহবানে উৎফুল্ল চিত্তে সাড়া দিয়েছে। দুনিয়া তোমাকে পরিচালিত করছে, আর তুমি দুনিয়াকে অনুসরণ করে চলছো। দুনিয়া তোমাকে আদেশ দিচ্ছে, আর তুমি সে আদেশ অবনত মস্তকে মেনে চলছো। সহসাই এক নকিব তোমাকে সব কিছু অবহিত করাবে যার হাত থেকে তোমাকে রক্ষা করার মতো কোন বর্ম নেই। সুতরাং দুনিয়ার ধান্দাবাজি থেকে দূরে সরে থাক, শেষ-বিচারের হিসাব-নিকাশের প্রতি খেয়ালি হও, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাক যা তোমাকে যে কোন মুহুর্তে পরাভূত করবে এবং যারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে তাদের কথায় কান দিয়ে না। আমার উপদেশ মেনে চলো; তোমার আরাম-আয়েশ ও বিলাসবহুল জীবন যাপনের ফলে তুমি যা ভুলে গেছ আমি শুধু তা তোমাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। শয়তান তার দৃঢ় মুষ্টিতে তোমাকে ঐটে ধরেছে, তোমার মাধ্যমে তার আকাঙ্খা পরিপূর্ণ করছে এবং তোমার আত্মা ও রক্তের যেরূপ নিয়ন্ত্রণ তোমার ওপর রয়েছে শয়তান তোমাকে তদ্ররূপ নিয়ন্ত্রণ করছে।
হে মুয়াবিয়া, কোন প্রকার অগ্রণী ভূমিকা ও বৈশিষ্ট্য ছাড়াই তুমি কখন জনগণের রক্ষাকর্তা (?) ও তাদের কর্মকান্ডের অভিভাবক (?) বনেছো? অতীতে দুর্ভাগ্যজনক ধ্বংস থেকে আমরা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আমি তোমাকে সর্তক করছি পাছে তুমি কামনা-বাসনার তাড়নায় আরো অধিক তাড়িত হও এবং তোমার বাতেন ও জাহের যেন ভিন্নধরনের না থাকে।
তুমি আমাকে যুদ্ধে আহ্বান করছে। জনগণকে এক দিকে সরিয়ে রেখে তুমি নিজে আমার মোকাবেলা করলে ভালো হয়। উভয় পক্ষের জনগণকে যুদ্ধ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আমার সম্মুখে চলে আসো। তোমার ও আমার যুদ্ধেই প্রমাণিত হবে কার হৃদয় মরচে পড়া এবং কার চোখ অজ্ঞতায় ঢাকা । মনে রেখো, আমি আবুল হাসান যে তোমার পিতামহকে (উতবা ইবনে রাবিআহ), তোমার ভ্রাতাকে (হানযালাহ ইবনে আবি সুফিয়ান), তোমার চাচাকে (অলিদ ইবনে উতবা) বদরের যুদ্ধে খন্ড বিখন্ড করে হত্যা করেছিলো। সে-ই তরবারিটি এখনো আমার কাছে আছে এবং আমি এখনো সে দিনের মতো একই মনোভাব নিয়ে শক্রির মোকাবেলা করি। আমি দ্বিনের কোন কিছুই পরিবর্তন করি নি এবং আমি কোন নতুন নবি নির্বাচন করি নি। নিশ্চয়ই, আমি দ্বিনের রাজপথে চলছি যা তুমি ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করেছে এবং জোর জবরদস্তির পথ বেছে নিয়েছে। তুমি প্রচার কর—তুমি উসমানের রক্তের বদলা নেয়ার জন্য বের হয়েছে। নিশ্চয়ই তুমি জান, কিভাবে উসমানের রক্তপাত ঘটেছিল। যদি তুমি উসমানের রক্তের বদলা নিতে চাও তবে যেখানে তার রক্তপাত ঘটেছে সেখানে বদলা নাও । আমি দেখতে পাচ্ছি যুদ্ধ যখন দাঁত কটমটিয়ে তোমার দিকে তাকায় তখন তুমি তেমন চিৎকার কর, বোঝার ভারে উট যেমন চিৎকার করে। আমি আরো দেখতে পাচ্ছি, তরবারির অবিরাম আঘাতে মৃতদেহ পড়তে দেখে তোমার দল হতবুদ্ধি হয়ে আমাকে কুরআনের* আহবান করছে। যদিও এসব লোক হয় অবিশ্বাসী, না হয় সত্যত্যাগী, না হয় বায়াত ভঙ্গকারী।
১। সিফফিনের যুদ্ধ যাত্রার আগে আমিরুল মোমেনিন মুয়াবিয়াকে এ পত্র লেখেছিলেন। এখানে অল্প কথায় তিনি সিফফিনের পূর্ণ দৃশ্য ব্যক্ত করেছেন। ইরাকিদের আক্রমণে সিরিয়া বাহিনী হতবুদ্ধি হয়ে পালিয়ে যাবার চিন্তা করছিলো। তখন রক্ষা পাবার জন্য বর্শার ডগায় কুরআন তুলে শান্তির জন্য চিৎকার করছিলো। হাদীদ*** লেখেছেনঃ আমিরুল মোমেনিনের এ ভবিষ্যদ্বানি থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট বুঝা যায় যে, তাঁর ইলমুল গায়েব অত্যন্ত প্রখর ছিল । এহেন ভবিষ্যদ্বানি প্রকৃতই একটা অত্যাশ্চার্য বিষয় (১৫শ খন্ড, * ケo-ケの/