চর্ম চক্ষু দিয়ে আল্লাহকে দেখা কি সম্ভব ?

মহান আল্লাহকে দেখা সম্পর্কিত —

” শরহে তায়াররুফ ” কিতাবে আছে —

হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আঃ) হচ্ছেন আধ্যাত্নবিদগনের মধ্যমনি ।

মারেফত ও হাকিকত সম্পর্কিত যে সকল বাণী তিনি উচ্চারন করেছেন , আর কেউ তা বর্ণনা করতে সক্ষম হবে না ।

মাওলা আলী (আঃ) একদিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে বললেন , ” হযরত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর উত্তরাধিকার এবং আধ্যাত্নজ্ঞান সম্পর্কে যার যা ইচ্ছা আমার সীমা থেকে জেনে নিতে পার ।
এ মজলিসেই দা’লাব ইয়ামনী নামে খ্যাত এক ব্যক্তি উপস্থিত ছিল ।

হযরত আলী (আঃ) তার সম্পর্কে বললেন , ‘ এ লোকটি অনেক লম্বা- চওড়া দাবি করে । তার দাবি আমার কখনও ভাল লাগেনি ।

দা’লাব মজলিসে দাঁড়িয়ে গেল এবং বলল , আমি একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে চাই ।

হযরত আলী (আঃ) বললেন , তুমি কেবল ফিকাহ্‌ ও জ্ঞান সম্পর্কিত প্রশ্ন করবে । পরীক্ষা- নিরীক্ষা সম্পর্কিত বিষয় জিজ্ঞাসা করবে না ।

দা’লাব বলল , আচ্ছা , বলুন তো দেখি আপনি আপনার পরওয়ারদেগারকে দেখেছেন ?

মাওলা আলী (আঃ) জবাবে বললেন , এটা কিরূপে সম্ভব যে , আমি পরওয়ারদিগারের এবাদত করব , অথচ তাঁকে দেখব না ?

দা’লাব বলল , আপনি তাঁকে কিরূপ পেয়েছেন ?

ইমাম আলী (আঃ) বললেন , চর্মচক্ষে তুমি তাঁকে দেখবে না । বরং অন্তর্চক্ষু ও বিশ্বাসের মাধ্যমে তাঁকে দেখতে পারবে । তিনি এক । তাঁর কোন শরীক নেই । তিনি দৃষ্টান্তবিহীন । কোন স্থান বিশেষে তিনি সীমাবদ্ধ নেই এবং তিনি কোন কালেরও অনুবর্তী নন । ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে তাঁকে চিনা যায় না এবং কোন মানুষ দ্বারা তাঁকে অনুমানও করা যায় না ।

দা’লাব এসব কথা শুনে চীৎকার করত অজ্ঞান হয়ে গেল ।
জ্ঞান ফিরে এলে সে বলল , এখন আমি আল্লাহ্‌র সাথে অঙ্গীকার করছি যে কাউকে পরীক্ষার ছলে কোন প্রশ্ন করব না ।

শাওয়াহেদুন – নবুয়ত ।

সুপ্রিয় পাঠক ,
আল্লাহর পরিচয় – এ সম্পর্কিত বিষয় আরও বিস্তারিত জানতে হলে পড়ুন –
নাহজ আল বালাঘা ,
মূল – হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ) ,
বাংলা অনুবাদ – জেহাদুল ইসলাম ।