একটি মহান আধ্যাত্মিক সফর — মদীনা থেকে কারবালা । পর্ব – ০১ –

একটি মহান আধ্যাত্মিক সফর —
মদীনা থেকে কারবালা ।
পর্ব – ০১ ।

লেখাটি শুরুর পূর্বে দুটি কথা পাঠকদের উদ্দেশ্য বিনীত নিবেদন এই যে ,
আমি সহ আমরা অনেকেই কারবালা ঘটনার পূর্নাঙ্গ সঠিক ইতিহাস জানি না ।

বিশেষ করে ইমাম হোসেন (আঃ) কবে কোন তারিখে সংগী সাথী এবং পরিবার পরিজন নিয়ে ইরাকের কুফা নগরীর উদ্দেশ্যে প্রিয় জন্মভূমি মদীনা ছেড়ে রওয়ানা হলেন ।
দীর্ঘ এই সফরে পথিমধ্যে ওনাদেরকে কারা কিভাবে কারবালা নামক স্থানে এনে চর্তুদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলেছিল । ওনারা তখন না পারছিলেন সামনে অগ্রসর হতে , না পারছিলেন অন্য কোথাও চলে যেতে ।
শর্ত দেওয়া হয়েছিল – হয় ঈয়াযীদের প্রতি আনুগত্য বা বাইয়াত গ্রহন কর নতুবা মৃত্যুকে বেছে নাও !

যাইহোক ,
এই লেখার উদ্দেশ্য হল যে , কুফা নগরীতে যাওয়ার জন্য ইমাম হোসেন (আঃ) তার সংগী সাথী এবং পরিবার পরিজন নিয়ে ২৮শে রজব ৬০ হিজরীতে মদীনা ত্যাগ করেন । ওনাদের যখন কারাবাল নামক স্থানে এনে চর্তুদিক থেকে ঘেরাও করে ফেলা হল সেদিনটি ছিল ০৩রা মহরম ৬১ হিজরী ।
দীর্ঘ এই সফরে ইমাম হোসেন (আঃ) এর কাফেলা কোন কোন এলাকা অতিক্রম করেছিলেন এবং ঐ সকল এলাকাতে সংঘটত বিশেষ বিশেষ ঘটনা সমূহ এই লেখাতে সংক্ষিপ্ত ভাবে বর্ননা কর হল ।

লেখাটি অত্যন্ত দীর্ঘ হওয়াতে বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক পর্বে দেয়া হল ।
আজ থাকছে প্রথম পর্ব ।
আজকের পর্বে থাকছে মদীনা এবং মক্কা এলাকার বিশেষ ঘটনা সমূহ ।

তৃতীয় ইমাম হুসাইন (আঃ) এর মদীনা থেকে কারবালার সফর ছিল একটি আধ্যাত্মিক সফর।
তিনি উক্ত সফরে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করেন এবং উম্মতে মোহাম্মাদীকে সত্যর পথে আহবান জানান ।
নিন্মে বিভিন্ন স্থানের নাম এবং সেখানে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করা হল —

মদীনা —
২৮শে রজব ৬০ হিজরীতে ইমাম হোসেন (আঃ) তাঁর আধ্যাত্মিক সফর শুরু করেন ।
সে সময় মদীনার গর্ভণর ছিল ওয়ালিদ বিন আতিক্বা । মূয়াবীয়ার মৃত্যুর পরে ঈয়াযীদের দরবার থেকে গর্ভনর ওয়ালিদ বিন আতিক্কাকে কঠোর ভাবে নির্দেশ দেয়া হয় যে , সে যেন ইমাম হুসাইন (আঃ) এর কাছ থেকে যে কোন মূল্যে বাইআত গ্রহন করে ।
ইমাম হুসাইন (আঃ) তার জবাবে বলেন , ঈয়াযীদ হচ্ছে একজন ফাসিক , মদ্যপায়ী ব্যাক্তি , সে অবৈধ ভাবে বিভিন্ন নির্দোষ মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে । আমি কখনই তার বাইআত গ্রহন করব না ।
যখন মারওয়ান বিন হাকাম ইমাম হুসাইন (আঃ) এর কাছে ঈয়াযীদের বাইআতের জন্য কথা বলে , তখন ইমাম হুসাইন (আঃ) তার জবাবে বলেন , হে খোদার শত্রু ! আমাকে তোমরা ছেড়ে দাও । কেননা আমি রাসুল (সাঃ) থেকে শুনেছি যে , তিনি বলেছেন , আবু সুফিয়ানের সন্তানদের জন্য মুসলমানদের খেলাফতকে তিনি হারাম বলে ঘোষনা দিয়েছেন । তিনি যদি মূয়াবীয়াকে মেম্বারের উপরে দেখতেন তাহলে তিনি তাকে সেখান থেকে নীচে নামিয়ে দিতেন । কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে রাসুল (সাঃ) এর উম্মতেরা তা দেখেছে এবং তারা কিছুই বলেনি । সুতরাং আল্লাহ তাদের উপর ঈয়াযীদ নামক একজন ফাসেককে তাদের শাসক করে দিয়েছেন ।

ইমাম হুসাইন (আঃ) ৬০ হিজরী ২৮শে রজব রাতে তার নিজেদের আত্মীয়স্বজন এবং সঙ্গি সাথীদের নিয়ে মদীনা থেকে মক্কার দিকে রওনা হন ।

ইমাম হুসাইন (আঃ) মদীনা থেকে বাহির হওয়ার সময় দুটি ওসিয়ত করেন –
১) – আমার মদীনা থেকে বাহির হওয়ার উদ্দেশ্যে হচ্ছে শুধুমাত্র রাসুল (সাঃ) এর উম্মতের হেদায়াতের জন্য আমি আমার নানা হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এবং আমার বাবা হযরত আলী (আঃ) এর ন্যায় আর্দশ অনুযায়ি জনগণকে সৎ কাজের উপদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করব ।

২) – তারাই নিজেরদের মুসলমান বলে দাবী করতে পারবে যারা মানুষকে খোদার পথে দাওয়াত দেয় এবং সৎকর্ম করে । যারা আমাকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে তারা রাসুল (সাঃ) থেকে কখনও পৃথক হবে না এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার আল্লাহর কাছে রয়েছে ।

ঘটনাস্থল – মক্কা –
৩রা শাবান থেকে ৮ই জিলহজ্ব ৬০ হিজরীতে ইমাম হুসাইন (আঃ) মক্কাতে পৌছান এবং সেখানে আব্বাস বিন আব্দুল মোত্তালিবের ঘরে অবস্থান করেন । মক্কার জনগন এবং হাজীরা তাঁর সাথে সাক্ষাত করার জন্য ভীড় জমায় ।
ইমাম হুসাইন (আঃ) কুফাবাসীদের কাছ থেকে ১২ হাজার চিঠি আসার পরে মুসলিম বিন আক্বিলকে ১৫ই রমজান নিজের প্রতিনিধি হিসেবে কুফাতে প্রেরণ করেন ।
ইমাম হুসাইন (আঃ) মুসলিমের চিঠির উপরে ভিত্তি করে এবং মক্কাতে রক্তপাত হারাম বলে তিনি হজ্ব ছেড়ে দিয়ে ওমরাহ করেন এবং ৮ই জিলহজ্ব তিনি মক্কা থেকে ইরাকের কুফার দিকে রওনা হন ।
তিনি মক্কা ছেড়ে আসার পূর্বে জনগনের উদ্দেশ্যে বলেন যে , আমরা রাসুল (সাঃ) এর আহলে বাইতগন খোদার সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্ট । যারাই তাদের নিজের রক্তকে খোদার পথে এবং আমাকে সাহায্যে করার কাজে উৎসর্গ করতে চায় তারা যেন আমার সাথে এই আধ্যাত্মিক সফরে অংশগ্রহন করে ।

প্রথম পর্বের এখানেই সম্পাতি ।
আগামী ২য় পর্বে থাকছে সাফফা নামক স্থানের ঘটনা সমূহ , ইনশা আল্লাহ ।

ততক্ষনে ভাল ও সুস্থ থাকুন –

SKL