কিছু রম্য কথন — আবু হুরাইরা —

কিছু রম্য কথন —

আবু হুরাইরা খায়বার যু্দ্ধের সময় ইসলাম কবুল করেন ।
আবু হুরাইরার ইসলাম গ্রহনের পর রাসুল ( সাঃ) মাত্র তিন বছর বেচেঁ ছিলেন ।
সূত্র – বু, আ, ৩” ৩৩২৫ ।

ইসলাম গ্রহন করেই একজন নওমুসলিম ধর্মের বিষয় এতোটা অভিজ্ঞ হতে পারে না । তার ঈমান , তাকওয়া ইত্যাদি মোটামোটি একটা পর্যায় যেতে কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে ।

তাই আমরা ধরে নিতে পারি , আবু হুরাইরা (রাঃ) হাদিস শোনা ও বর্ননার জন্য মোট ২৪ মাস সময় পেয়েছিল । উনি মোট ৫৩৭৪ টি হাদিস বর্ননা করেছেন ।

অথচ যারা নবীজী (সাঃ) এর সাথে সারাটা জীবন কাটালেন , তাদের তরফ থেকে অতিনগন্য সংখ্যক হাদিস পাওয়া যায় ।

তাছাড়া ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে , আবু হুরাইরা ছিলেন মুয়বীয়ার খুবই ঘনিষ্ঠ একজন সহযোগী এবং মুয়াবীয়া কতৃক উনি গভর্নর পদে নিয়োগ পেয়ে খুবই শান শওকতের সাথে জীবন যাপন করেছেন ।

ইত্যাদি এই জাতীয় বিষয়গুলো নিয়ে আমার মহল্লাতে খুবই পরিচিত এক হুজুরের সাথে আড্ডা বা আলোচনা করছিলাম ।
দুজনেই সমবয়সী , উনি মাদ্রাসা লাইনে আর আমি হতভাগা কোনমতে দিন আনি দিন খাই – এই অবস্থা ।

যাইহোক ,
আমি হুজুরকে জিজ্ঞাসা করলাম , ” বিড়াল নিয়ে কাটে যার সারা দিন , বিড়ালের আব্বা যার পদবী , মহানবী (সাঃ) এর সান্নিধ্য পেলেন মোটে তিন বছর – এই রকম এক ব্যক্তির পক্ষে পাঁচ হাজারের উপর নবীজী (সাঃ) এর হাদিস লেখা কি করে সম্ভব ?
এর পিছনে মোজেজাটা কি ? ”

হুজুর বললেন , ” রহস্যতো একটা অবশ্যই আছে । ”

নড়েচড়ে বসলাম , ” হুজুর বলেন তো , বিষয়টা কি ? নবীজী (সাঃ) এর সাথে বহুদিন থাকার পরেও বহু সাহাবীর পক্ষেও এত বিশাল পরিমান হাদিস সংগ্রহ করা সম্ভব হয় নি । কিন্ত মাত্র তিন বছরেই এত বিপুল সংগ্রহ ! এ কোন পূন্যির ফল ? ”

হুজুর বললেন , ” তাহলে শোনেন , আবু হুরাইরা (রাঃ) থাকতেন মসজিদে নব্বীর সামনে ছোট্ট একটা কুটিরে । খুবই নবী প্রেমিক দিওয়ানা , ইসলামের খেদমতের আশায় ঘর বাড়ী ছেড়ে এখানেই সব সময় পড়ে থাকতেন । বড়ই অভাবী ছিলেন । ক্ষুধার যন্ত্রনায় প্রায়ই পেটে পাথর বেঁধে রাখতেন ।
একদিনের ঘটনা , মহানবী (সাঃ) এর এক ভক্ত নবীজী (সাঃ) কে কিছু পরিমান ছাগলের দুধ দিয়ে গেলেন ।
নবীজী (সাঃ) কিছুটা দুধ পান করলেন ।
এমন সময় অন্য একজন সাহাবী নবীজী (সাঃ) কে জরুরী একটা কাজের জন্য সালাম দিলেন । নবীজী (সাঃ) বাকি দুধটুকূ ওখানে রেখে ঐ সাহাবীর সাথে কথা বলার জন্য এগিয়ে গেলেন ।
প্রচন্ড ক্ষুধার্ত আবু হুরাইরা (রাঃ) আশে পাশে ডানে বায়ে দেখলেন যে , কেউ নেই । ধীরে ধীরে তিনি কাছে গেলেন এবং নবীজী (সাঃ) এর অর্ধেক খাওয়া দুধ নিমিষেই খেয়ে ফেললেন ।

ঠিক তখনই মহানবী (সাঃ) ওখানে এসে দেখলেন যে , সে বাকি দুধটুকু বিনা অনুমতিতেই পান করে ফেলেছে ।
দয়াল নবী (সাঃ) তখনই তাকে ” আবু হুরাইরা ” বলে ডেকে উঠলেন ।
সেদিন থেকেই তার নাম আবু হুরাইরা অর্থাৎ বিড়ালের আব্বা হয়ে গেল ।

এখন মূল রহস্যটা হচ্ছে যে ,
নবীজী (সাঃ) এর পবিত্র মুখের স্পর্শ পাওয়া দুধ পান করাতেই আবু হুরাইরার এই রকম সৌভাগ্য হয়েছে । নবীজী (সাঃ) এর প্রতিটি কথা বা বানী নবীজী (সাঃ) এর মুখের ছোঁয়া পাওয়া ঐ দুধ পানের বদৌলতে সে মুখস্ত রাখতে পারত । এটা তার প্রতি আল্লাহর বিশেষ এক রহমত । ”

যাইহোক , হুজুরের বর্ননাকৃত এই ঘটনা আমার মূল বিষয় নয় ।

আমি বিনয়ের সাথে হুজুরকে অন্য আরেক বিশ্লেষনধর্মী কিছু কথা বললাম যে ,

যে ব্যক্তি শুধু একদফা মহানবী (সাঃ) এর বাসি কিছু দুধ পান করে এত বিশাল সৌভাগ্যের অধিকারী হতে পারে –
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি জন্মের পর সর্বপ্রথম রিজিক হিসাবে মহানবী (সাঃ) এর পবিত্র জিহ্বা চুষতে পারে তাঁর তরফ থেকে একশটির বেশী হাদিস পাওয়া যায় না কেন ?

হুজুর কিছু বলি শোনেন ,
রাগ করবেন না , প্লীজ ।

মসজিদ মসজিদই , মসজিদ কখনই ক্বাবা নয় —
মসজিদ অবশ্যই পবিত্র কিন্ত মর্যাদার দিক থেকে ক্বাবার সমান নয় —
মসজিদ আর ক্বাবায় জন্মগ্রহনকারী এক নয় —

সাহাবী সাহাবীর জায়গায় মর্যাদাবান , আহলে বায়েত (আঃ) এর মর্যাদা সাহাবী থেকেও অনেক উচুতে –

সাহাবী রাসুল (সাঃ) এর বাসী দুধ পান করতে পারে কিন্ত নবীজী (সাঃ) এর পবিত্র মুখের পবিত্র লালা মুবারক চুষতে পারে না —

সাহাবী নামাজের সময় নবীজী (সাঃ) এর পেছনে দাঁড়াতে পারে কিন্ত সাহাবী সেজদারত অবস্থায় নবীজী (সাঃ) কাঁধে চড়তে পারে না —

নবীজী (সাঃ) কে সাহাবী তাদের ঘাড়ে উঠাতে পারে কিন্ত সাহাবী নিজে নবীজী (সাঃ) এর ঘাড়ে উঠতে পারে না —

সাহাবী অবশ্যই জান্নাতী হতে পারে কিন্ত সাহাবী কখনই জান্নাতের সর্দার হতে পারে না —

সাহাবী মুমিন হতে পারে কিন্ত সাহাবী কখনই আমিরুল মুমিনিন হতে পারে না —

সাহাবী নিজের মেয়েকে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর ঘরে দিতে পারে কিন্ত কখনই মুহাম্মাদ (সাঃ) নিজের কন্যাকে নিতে পারে না —

এই পর্যায় হুজুর আমাকে থামতে বললেন ।
তাহলে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন ?

আমি বললাম , হুজুর পবিত্র কোরআনে কোথায় বলা আছে যে , তোমরা সাহাবীদের নিকট থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহন কর ?
মহানবী (সাঃ) নিজে বলে গেছেন , আমার পরে তোমাদের মাওলা , অভিভাবক , ইমাম হচ্ছে আমার এই রক্তজ আহলে বায়েত (আঃ) গন ।
তাহলে হুজুর , কেন আমরা আহলে বায়েতকে পরিত্যাগ করে অন্য কারও কাছ থেকে ইসলাম নেব ?

হুজুর কিছুক্ষন নীরব থেকে বললেন , আজানের সময় হয়ে গেছে , আজ আর নয় , নামাজের সময় হয়ে গেছে , চলেন মসজিদে যাই ।

আমি বললাম , ” হুজুর , নামাজ তো শিমারও পড়তো ! কিন্ত আহলে বায়েত (আঃ) গনকে ছেড়ে এই ইবাদত কি আল্লাহ কবুল করবেন ? ”

হুজুর এবার কিছুটা রাগ করে বললেন , ‘ আপনারা শীয়ারা বড়ই ত্যান্দোর ! আপনাদের সাথে কথায় পেরে ওঠা অসম্ভব । ”
আমি বললাম , ” এত রাগ করেন ক্যান ? কথাগুলি কি অযৌক্তিক বা অসত্য বললাম ? ”
হুজুর বললেন , ” এখানে তো কেউ নেই এখন , কথা কিন্ত আপনার ন্যায্য ও সঠিক , তয় এহন এগুলা বাদ দেন , লন মসজিদে যাই ।”

কি আর করা — দুই মুসলিম ভাই মসজিদ পানে চললাম ——

SKL
.