মহানবী (সাঃ) ও অসমাপ্ত শেষ অসিয়তনামা —

— মহানবী (সাঃ) ও অসমাপ্ত শেষ অসিয়তনামা —-

প্রশ্ন –
রাসুল (সাঃ) কেন ওনার জীবনের অন্তিম সময় অসিয়তনামা লেখার ব্যাপারে আরও জোর তাকীদ দিলেন না ?

বিশ্লেষন মূলক জবাব –

মহানবী (সাঃ) ওনার জীবনের শেষের দিনগুলোয় বললেন ,
” আমাকে খাতা আর কলম দাও , আমি তোমাদের জন্য অসিয়ত লিখে দিয়ে যাব , যাতে করে আমার পরে তোমাদের কোন ক্ষতি না হয় ” ।
অনেকটা এরকমই ছিল মহানবী (সাঃ) এর শেষ ইচ্ছা বা আদেশ ।

কিন্ত ইতিহাস স্বাক্ষী যে ,
নবীজী (সাঃ) এর এই রকম মহামূল্যবান অভিপ্রায় সফল হল না , হযরত ওমরের প্রচন্ড বিরোধিতার জন্য ।

” মেজবাবু ” কিছুতেই নবীজী (সাঃ) কে ওনার শেষ ইচ্ছা পুরন করতে দিলেন না ।
রাসুল (সাঃ) মৃত্যু যন্ত্রনায় পাগলের প্রলাপ বকছেন এবং ” হাসবুনা কিতাবাল্লাহ ” বা আমাদের কাছে কোরআন আছে , কোরআনই আমাদের জন্য যথেষ্ট ।
হযরত ওমরের সেই বিখ্যাত উক্তি আজও ইতিহাসে বিদ্যমান ।
চীৎকার , চেচামেচী , হট্টগোল ইত্যাদি জঘন্য বেয়াদবীমূলক আচরনে নবীজী (সাঃ) ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে অসিয়ত না লিখেই ওমরসহ ওনার দলবলকে ঘর থেকে বের করে দিলেন ।

সূত্র – সহীহ বুখারী , ইসলামিক ফাউন্ডেশন , ১ম খন্ড , পৃ – ১১৫ / ৫ম খন্ড , পৃ – ২৯ / ৭ম খন্ড , হাদিস – ৪০৭৬ / ৯ম খন্ড , হাদিস – ৫১৫৪ / সহীহ বুখারী , ৩য় খন্ড , হাদিস – ১২২৯ ( করাচী মুদ্রন ) / সহীহ বুখারীর ছয়টি স্থানে বর্নিত – কিতাবুস জিহাদ ওয়াস সায়ীর অধ্যায় / কিতাবুল খামিস অধ্যায় / মারাযুন নবী (সাঃ) ওয়া ওয়াফাতুহু / কিতাবুল মারযা অধ্যায় / কিতাবুল ইলম অধ্যায় / সহীহ মুসলিম শরীফ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন , ৫ম খন্ড , পৃ – ৫৩ , ৫৪ , হাদিস – ৪০৮৬ – ৪০৮৮ / মিনহাজুস সুন্নাহ , ৩য় খন্ড , পৃ – ১৩৫ – ইবনে তাইমিয়া / কিতাব আল – মিলাল ওয়ান্নিহাল , বর হাশিয়াহ কিতাবুল ফাসলুল ইমাম ইবনে হাযম , পৃ – ২৩ / তোহফায় ইশনে আশারিয়া , ১০ম অধ্যায় , পৃ – ৫৯২ / আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াহা , ৫ম খন্ড , পৃ – ২০৮ এবং ৭ম খন্ড , পৃ – ৩৪৬ / ইমাম হাম্বল মুসনাদ , ৪র্থ খন্ড , পৃ – ৩৭২ / জনাব আল্লামা বাহরানী (রহঃ) তার গায়াতুল হারাম নামক গ্রন্থে সুন্নী ৮৯ টি হাদিস / মুসনাদে আহমাদ বিন হাম্বাল , খন্ড – ৩ , পৃ – ৩৬৪ (মিশর , ১৩১৩ হিজরী ) / হাদিসে কিরতাস এবং হযরত ওমরের ভূমিকা , আব্দুল করীম মুশতাক ।

” হযরত ওমরের বিরোধীতা এমন চরম পযায় উপনীত হয়েছিল যে , লেখনীর যে সরজ্ঞামগুলো রাসুল (সাঃ) এর খেদমতে পেশ করা হচ্ছিল , হযরত ওমর সেই সরজ্ঞামগুলো নবীজী (সাঃ) এর মুখের সামনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন ” ।
সূত্র – মুসনাদে আহমাদ বিন হাম্বল , খন্ড – ৩ , পৃষ্ঠা – ৩৬৪ (মিশর মুদ্রন , ১৩১৩ হিজরী ) / মারেফাতে ইমামত ও বেলায়েত , পৃ- ১৪২ ।

সুপ্রিয় পাঠক,
প্রশ্নটা এখানেই ,
মহানবী (সাঃ) কেন তখন হযরত ওমরের প্রবল বিরোধিতার মুখে জোর করে হলেও অসিয়ত লেখার কাজটি সমাপ্ত করলেন না ?

এ প্রশ্নের উত্তরটিও খুবই সুষ্পষ্ট –

কারন মহানবী (সাঃ) যদি এ পত্র বা অসিয়ত লেখার ব্যাপারে পীড়াপীড়ি বা জোর করতেন , তা হলে যে ” মেজবাবু ” বলেছিলেন , ” রোগযন্ত্রনা মহানবীর উপর প্রবল হয়েছে ” ,
তখন উনি এবং ওনার দলবল মহানবীর (সাঃ) সাথে বেয়াদবীর চরম ষ্পর্ধা প্রদশন করতেন এবং তাদের দলীয় লোকেরা জনগনের মধ্যে তা রটনা করে তাদের দাবি প্রমান করার চেষ্টা করতেন ।

অর্থাৎ তারা তখন বলে বেড়াতেন যে , রোগ যন্ত্রনায় নবীজী (সাঃ) যা কিছু লিখেছেন তা মোটেই যুক্তিগ্রাহ্য নয় । কারন তখন ওনার মাথার ঠিক ছিল না । (নাউযুবিল্লাহ ) ।

এ অবস্থায় মহানবীর (সাঃ) শানে বেয়াদবীপূর্ন আচরনের মাত্রা যেমন বৃদ্বি পেত ও অব্যাহত থাকত , তেমনি মহানবীর (সাঃ) পত্রের কার্যকারিতাও আর থাকত না ।

এ কারনেই কেউ কেউ যখন তাদের বেয়াদবী আর মন্দ আচরন লাঘব করার জন্য মহানবী (সাঃ) এর কাছে বলেছিলেন ,”আপনি কি ইচ্ছে করেন যে, আমরা কাগজ কলম নিয়ে আসি ? ”
মহানবী (সাঃ) এর পবিত্র চেহারা তখন প্রচন্ড উষ্মায় রক্তিম হয়ে গিয়েছিল এবং তিনি তাদের বলেছিলেন ,” এতসব কথাবার্তার পর তোমরা কাগজ কলম আনতে চাচ্ছ ! কেবল এ টুকু তোমাদের উপদেশ দিচ্ছি যে, আমার বংশধরদের সাথে সদাচরন করবে ” ।

একথা বলে তিনি উপস্থিত সকলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং আলী , আব্বাস ও ফযল ব্যতীত তারা সবাই সেখান থেকে উঠে চলে যায় ।
সূত্র – বিহারুল আনোয়ার , ২২তম খন্ড ,পৃ- ৪৬৯ এবং শেখ মুফিদ প্রনীত কিতাব আল ইরশাদ এবং তাবারসী প্রনীত আলামুল ওয়ারা ।

– চির ভাস্বর মহানবী (সাঃ) –
আয়াতুল্লাহ জাফর সুবহানী ,
পৃ ৪২২, ছায়া অবলম্বনে —।

বিঃদ্রঃ –
এ বিষয় বিস্তারিত জানতে হলে ,
পড়ুন —

– হাদীসে কিরতাস এবং হযরত উমর (রাঃ) এর ভূমিকা ,
লেখক – আব্দুল করিম মুশতাক ।
রেমন পাবলিশার্স
২৬ , বাংলাবাজার , ঢাকা ।

SKL