আল্লাহর মহান শপথ —

স্বয়ং আল্লাহর মহান শপথ —-

 

 

” — তাই আমি শপথ করি ,

ঐ স্থানগুলোর মাধ্যমে যেখানে তারাগুলো অস্ত যায় ।

এবং নিশ্চ য়ই এটি একটি মহান শপথ , যদি তোমরা জানতে ,

নিশ্চ য়ই এটি এক মর্যাদাপূর্ণ কোরআন , এক সুরক্ষিত কিতাবে ,

কেউ তাকে স্পর্শ করে না শুধুমাত্র পবিত্রগন ব্যাতীত —-” ।

সুরা – ওয়াক্বীয়া / ৭৫ , ৭৬ , ৭৭ , ৭৮ , ৭৯ ।

 

 

পাঠক ,

আপনার কিছুটা বাড়তি মনযোগ চাইছি , প্লীজ ।

উপরে উল্লেখিত আয়াতগুলির প্রথম আয়াতে মহান আল্লাহ স্বয়ং নিজে শপথ বা কসম নিচ্ছেন । শপথ সাধারনত অতি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন , খুবই মর্যাদাবান বিষয় , ব্যক্তিত্ব বা স্থানসমূহের বিষয় নেওয়া হয় থাকে ।

বলাই বাহুল্য যে , এখানে স্বয়ং আল্লাহ নিজে ঐ স্থানসমূহের শপথ বা কসম নিচ্ছেন যেখানে নক্ষত্র সমূহ অবতরন বা অস্ত যায় !

অবশ্যই এখানে প্রশ্ন জাগবে যে , সেই মহান এবং উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন স্থান কোনটা ?

সেই সাথে আল্লাহ নিজেই বলছেন যে , এই শপথটি অতি মহান এবং খুবই উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন । তাহলে ঐ স্থানটি অতি অবশ্যই খুবই উচ্চ মর্যাদাপূর্ন স্থান ।

 

পাঠক ,

আপনাকে মনে করিয়ে দেই যে , পৃথিবীতে এমন একটি গৃহ ছিল – যে পবিত্র গৃহে সম্মাানীয় ফরেশতাগন হরহামেশা পবিত্র কোরআনের ওহী নিয়ে নাজিল হতেন ।

এই পবিত্র গৃহে ফেরেশতাগন শুধু ওহী নিয়ে যাতায়াত করেই ক্ষান্ত হতেন না !

ঐ গৃহের বিভিন্ন গৃহস্থালী কাজগুলোও ফেরেশতাগন করে দিতেন ।

যেমন আটা পিষার চাকতি পিষে যব বা গমের আটা প্রস্তত করে দিতেন ।

ঐ গৃহের দোলনা দুলিয়ে দিয়ে বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দিতেন ।

ঈদের সময় ঐ গৃহের বাচ্চাদের জন্য আল্লাহর দরবার থেকে নতুন জামা নিয়ে আসতেন ।

পবিত্র গৃহের পবিত্র ব্যক্তিবর্গের জন্য পুতঃপবিত্রতার আয়াত নিয়ে আসতেন ।

এই একটি মাত্র গৃহ যে গৃহটি “চাদরের হাদিসের” জন্য বিখ্যাত ।

পৃথিবীতে একটি মাত্র গৃহ ছিল , যে গৃহে প্রবেশের জন্য নবীজী (সাঃ) এর অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল ।

পৃথিবীতে এই একটি মাত্র গৃহ যে গৃহের মহান মানুষগুলোকেই মহান আল্লাহ নবীজীর (সাঃ) পবিত্র আহলে বাইত (আঃ) হিসাবে নির্বাচিত করেছিলেন ।

পৃথিবীতে এই একটি মাত্র গৃহ যে গৃহের মানুষগুলোকেই মহান আল্লাহ তাঁর ইমামত পদ্বতির জন্য ইমাম হিসাবে মনোনীত ও নির্বাচিত করেছিলেন ।

 

লেখা দীর্ঘায়ীত না করে শুধু এইটুকুই বলছি যে —

এই পবিত্র গৃহের পবিত্র মানুষগুলোর জন্যই –

” ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায় হার কারবালাকা বাদ ” ।

 

কেয়ামত পর্যন্ত ইসলাম ধর্ম চিরকৃতজ্ঞ থাকবে এই পবিত্র গৃহের পবিত্র মানুষগুলোর নিকট ।

পবিত্র এই মানুষগুলোর আত্নত্যাগ এবং মহান কুরবানীর জন্য দুনিয়ায় এখনও ইসলাম মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে ।

 

যাইহোক ,

সর্বশক্তিমান আল্লাহ সেই পবিত্রতম স্থানটি সম্পর্কে শপথ করে আমাদের জানিয়ে দিলেন ঐ গৃহটির মান মর্যাদা সম্বন্ধে ।

 

 

সকলের নিকট বিনীত একটি জিজ্ঞাস্য —

স্বয়ং আল্লাহ যে স্থানটি নিয়ে শপথ করেন আমরা কি আজ পর্যন্ত সেই পবিত্র গৃহটির পবিত্র মানুষগুলোকে যথাযথ সম্মাান ও মূল্যায়ন করতে পেরেছি ?

প্রশ্নটি এজন্যই করলাম যে , ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে , রাসুল (সাঃ) এর ইন্তেকালের কয়েকটি দিন পরেই এ পবিত্র গৃহটিতে রাসুলেরই (সাঃ) নামধারী কিছু উম্মমত আগুন দিতে কোনরুপ দ্বিধবোধ করে নি ! পবিত্র মানুষগুলোকে চরম হেনস্তা করতেও ওদের বিবেক দংশিত হয় নি !

মানছি যে , ওদের কর্মের দায়ভার আমাদের নয় ।

সবশেষে শুধু এ প্রশ্নটি করেই বিদায় —

রাসুল (সাঃ) এর পবিত্র আহলে বাইত (আঃ) গনের চরম শত্রুগনকে আমরা কিভাবে রাঃআনহু বলছি ।

SKL