মুনাফিক মুসলমান এবং মসজিদ —

— মুনাফিক মুসলমান এবং মসজিদ —-

মসজিদ এ যেরার বা ক্ষতির মসজিদ —
মহানবী (সাঃ) এর সময় মদীনার একটি বিখ্যাত ও শিক্ষনীয় ঘটনা হল , মসজিদ এ যেরার ঘটনা ।

কিছু মুনাফিক সাহাবী মুসলমান সিদ্বান্ত নিল যে , তারা মসজিদে কোবার পাশে আরেকটি মসজিদ তৈরী করবে । বাহ্যিকভাবে তারা প্রচার করবে যে , ইসলামের প্রচার করার জন্যই তারা এই মসজিদ তৈরী করেছে । কিন্ত তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল যে , এই মসজিদের নামে ধীরে ধীরে তারা এখানে আগত মুসল্লীদের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের মধ্যে বিভিন্ন ফেতনা ফ্যাসাদ , বিভেদ সৃষ্টি করবে এবং খুব সূক্ষভাবে ইসলামী শাসনের বিরোধীতা করবে ।

তারা মহানবী (সাঃ) এর নিকট আসল এবং নিজেদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকে এই ভাবে ব্যাখ্যা করে বলল যে , মসজিদে নবী থেকে বনী সালিম গোত্রের বসবাস বেশ দূর হয় যায় । বয়স্ক , দূর্বল লোকদের পক্ষে মসজিদে নবীতে যাতায়াত বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে যায় ।
আমাদের ইচ্ছে যে , মূলত বয়স্ক মুরুব্বীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে এই নতুন মসজিদটি তৈরী করব , যাতে তারা এখানে এসে আল্লাহর এবাদত বন্দেগী করতে পারেন । এছাড়াও ঝড় বৃষ্টির রাতে অনেকেরই মসজিদে নবীতে আসতে কষ্ট হয় । এ মসজিদটি তাদের নিকটে হওয়াতে এরকম বহু লোকেরই উপকার হবে ।
তারা নবীজী (সাঃ) এর কাছে কসম খেল যে , সৎ , নেক এবং ইসলামের খেদমত ভিন্ন তাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই ।
দয়াল নবী (সাঃ) গায়েবী এলমে সব কিছুই জানতেন । শুধুমাত্র উম্মতকে জ্ঞান দেবার উদ্দেশ্যে ওদেরকে অনুমতি দিলেন ।

নবম হিজরিতে তাবুকে যুদ্বের সময় মহানবী (সাঃ) তাবুক রওয়ানা হয় গেলেন ।
তাবুক থেকে ফিরে আসার পথে ঐ মুনাফিকগুলো নবীজী (সাঃ) এর নিকটে নিবেদন করল যে , আপনি দয়া করে নবনির্মিত মসজিদে নামাজ পড়াবেন এবং আপনার নামাজ পড়ানোর মাধ্যমে এই নতুন মসজিদটির শুভ উদ্বোধন হবে ।
আপনার নামাজ পড়ানোর মাধ্যমে এই মসজিদটি খুব সম্মাানের সাথে বিখ্যাত একটি মসজিদ হিসেবে স্বীকৃত পাবে ।

ঠিক ঐ মুহূর্তে হযরত জীব্রাইল (আঃ) পবিত্র কোরআনের আয়াত নিয়ে আসলেন ,

‘– আর যারা একটি মসজিদকে লক্ষ্য বানিয়েছিল অন্তর্ঘাতের জন্য এবং অবাধ্যতার জন্য , এবং বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য , এবং আচমকা আক্রমনের উদ্দেশ্যে তাদের মাধ্যমে যারা যুদ্ব করেছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্বে এর আগে , তারা অবশ্যই শপথ করবে , আমরা ভাল ছাড়া অন্য কিছুই চাই নি , এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে , নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী ।
(তুমি) সেখানে কখনও দাঁড়িও না ! যে মসজিদ খোদা সম্পর্কে সতর্কতার উপর প্রতিষ্ঠিত প্রথম দিন থেকেই , আর যোগ্য যে তুমি তাতে ( নামাজের জন্য) দাঁড়াবে –” ।
সুরা – তওবা / ১০৭ , ১০৮ ।

সাথে সাথে মহানবী (সাঃ) নির্দেশ দিলেন যে , ফেতনা সৃষ্টিকারী মসজিদের নামে এই আস্তানাটিকে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেবার জন্য । সে জায়গায় ময়লা আর্বজনা ফেলার স্থান তৈরী করা হল ।
এর ফলে মুনাফিকদের ভয়াবহ একটা ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেল ।

সুপ্রিয় পাঠক ,
নবীজী (সাঃ) এর জীব্বদশাতেই কিছু মুনাফিক মুসলমান মসজিদ বানিয়ে ইসলামের ক্ষতি করতে চেয়েছে ।
আর এখনতো ১৫০০ বছর পরের কথা ।
নিত্য নতুন কত টেকনিক আবিস্কৃত হয়েছে আমাকে ও আপনাকে বিভ্রান্ত করবার জন্য ।
কত বিশাল বিশাল টিভি চ্যানেল , কোরআন – হাদিস ফটাফট মুখস্ত ঝারছে , কত সুন্দর বেশভূষা ইত্যাদির আড়ালে মুনাফেকি কার্যকলাপ অতীতেও চলছে বর্তমানেও চলছে ।

সবচেয়ে বড় কথা হল , আমরা শুধু কোরআন আঁকড়ে ধরেছি ।
কিন্ত কোরআনের মূল চালিকা শক্তি আহলে বায়েত (আঃ) গনকে পরিত্যাগ করেছি ।
সুবিখ্যাত একজন বিশাল কুখ্যাত সাহাবী বলেছিলেন ,
” — রাসুল (সাঃ) মৃত্যু যন্ত্রনায় পাগলের প্রলাপ বকছে এবং ” হাসবুনা কিতাবাল্লাহ ” বা আমাদের কাছে কোরআন আছে , কোরআনই আমাদের জন্য যথেষ্ট —-“।

নবীজী (সাঃ) এর পবিত্র আহলে বায়েত (আঃ) গনকে পরিত্যাগ করে শুধুমাত্র কোরআনকে আঁকড়ে ধরা মুসলমান জাতি বর্তমানে পৃথিবীতে সব থেকে অসহায় , বোকা , দূর্বল , নিকৃষ্টমানের হাস্যকর জাতিতে পরিনত হয়েছে ।
খুব সহজেই গাদীর এ খুম পরিত্যাগকারী বৃহৎ মুসলিম জাতিকে হাজার বছর ধরে বিভ্রান্ত ও বোকা বানিয়ে রাখা সম্ভব ।

পাঠক ,
আসুন , আমরা সকলে মিলে নবীজী (সাঃ) এর পবিত্র অাহলে বায়েত (আঃ) গনকে আরও উত্তম রুপে চিনি ও জানি ।
যে জাতি আহলে বায়েত (আঃ) গনকে মূল্যায়ন করেছে তারা আজ সকল মুসলমানের মধ্যে জ্ঞান , বিজ্ঞানসহ সকল দিক থেকেই অগ্রগামী ।

— গোনাহ পরিচিতি
মূল – মোহসেন কারাআতী ,
অনুবাদে – সৈয়দা রেবেকা আলী ও নাসরিন সুলতানা ,
পৃষ্ঠা – ১৪৮ ছায়া অবলম্বনে ।

SKL