” কাফের ” — কথাটির ব্যবহার —

— কা–ফে–র —- কা-ফে-র —- কাফের ——

— ” কাফের ” —
এই শব্দটির সাথে সেই ছোট বেলা থেকেই খুবই পরিচিত , এবং তা অবশ্যই নেতিবাচক অর্থে । সোজা ভাবে বলতে গেলে এই ” কাফের ” শব্দটিকে আমরা গালি হিসেবে জানি ।

“কাফের” – এই শব্দটি হচ্ছে একটি আরবী শব্দ যেটা পবিত্র কোরআনে ব্যবহ্রত হয়েছে ।

এর বাংলা মানে হল – অস্বীকারকারী , অবিশ্বাসী বা মানি না ।
যাকে ইংরেজীতে Deny , Disagree , Refuse বলে ।

সহজ কথায় ,
আপনার যে কোন কথা , মতামত বা দর্শন আমি মানি না বা অস্বীকার বা অবিশ্বাস করি ।
এবং আমি আপনার ঐসব কথা মানতে বাধ্যও নই ।
কেননা সেই স্বাধীনতা আমার আছে । এটা খুবই যৌক্তিক কথা এবং ন্যায়সংগতও বটে ।

কেননা যে কোনও মিথ্যা , অযৌক্তিক কথা না মানা বা অস্বীকার করাই শ্রেয় ।
আল্লাহও তাই করতে বলেছেন ।

যুগে যুগে প্রত্যেক নবী রাসুলগন আল্লাহ কতৃক মনোনীত ইসলাম ধর্ম ছাড়া অন্য সকল ধর্ম বিনয়ের সহিত যুক্তি সহকারে মেনে নিতে অস্বীকার করেছেন ।

সেই হিসেবে ওনারা ঐ সকল ধর্মের কাফের ।
যে রকমভাবে হযরত মুসা (আঃ) ফেরআউনের কাফের ছিলেন ।

আবার একই ভাবে একজন অমুসলিমের কাছে একজন মুসলমান হচ্ছেন কাফের ।
কারন এখানে উভয় উভয়ের ধর্মকে মানছেন না বা অবিশ্বাস করছেন ।
এবং বিচার করার বিবেক বুদ্ধির এই স্বাধীনতা খোদ আল্লাহ সব মানুষকে দিয়েছেন ।

আরও সহজ করে বলতে গেলে , একজন ডায়াবেটিস রোগী চা এর সাথে চিনি মেশাবেন না । অর্থাৎ এখানে ঐ চিনিটা হচ্ছে চা এর কাফের ।

একটু ভাবুনতো সুপ্রিয় পাঠক ,
এইরকম একটা যৌক্তিক শব্দকে আমরা গালি হিসেবেই সব ক্ষেত্রেই অযৌক্তিক ভাবে ব্যবহার করে চলেছি সেই ছোটবেলা থেকে !

মহান আল্লাহ কতৃক নিষেধকৃত যে কোন কিছুর অমান্যকারী বা ঐ জিনিষের কাফের হলে আল্লাহও এইরকম কাফেরকে ভালবাসবেন ।

আবার আল্লাহ কতৃক মনোনীত ও অনুমোদিত যে কোন কিছু না মানা অর্থাৎ এই জাতীয় কাফেরদের উনি কখনই ক্ষমা করবেন না ।

সংক্ষেপে , এই হল কাফের শব্দটির ব্যবহার !
অথচ আমরা সবসময়ই এই শব্দটিকে গালি হিসেবেই ব্যবহার করে গেলাম ।

যাইহোক , আশা করি বিষয়টি নিয়ে নতুন করে একটু ভেবে দেখবেন , প্লীজ ।

SKL