সর্বশেষ বারতম ইমাম মাহদী (আঃ) এর জন্ম —

ইমাম মাহদী (আঃ) এর জন্ম —

নাম – হযরত ইমাম মোহাম্মাদ (আঃ) ।
উপাধী – মাহদী ।
পিতা – হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আঃ)
মাতা – নারজিস খাতুন ।
জন্ম তারিখ – ১৫ ই শাবান , ২৫৫ হিজরী , ১লা আগষ্ঠ , ৮৬৯ খ্রীষ্টাব্দ ।
জন্মস্থান – ইরাকের সামেরা শহর ।

স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী অদৃশ্যকাল – একাদশ ইমাম অর্থাৎ ওনার পিতা হযরত ইমাম হাসান আসকারী (আঃ) এর শাহাদাতের পর ২৬০ হিজরী সন থেকে ৩২৯ হিজরী সন অর্থাৎ প্রায় ৬৯ বছর হচ্ছে ওনার স্বল্পমেয়াদী অদৃশ্যকাল ।
আর এরপর থেকেই এখন পর্যন্ত ইমাম মাহদী (আঃ) এর আবির্ভাব করা পর্যন্ত সময়কালটিই হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী অদৃশ্যকাল ।

দীর্ঘকালীন অদৃশ্য থাকার মূল কারন – নিরাপত্তাজনিত কারনে হযরত ঈসা (আঃ) কে ঠিক যে কারনে মহান আল্লাহ অদৃশ্য হেফাজতে রেখেছেন ঠিক ঐ একই নিরাপত্তাজনিত কারনে সর্বশেষ ১২ তম ইমামকেও আল্লাহ অদৃশ্য হেফাজতে রেখেছেন ।

হযরত ইমাম মুহাম্মাদ তকী আল জাওয়াদ ( আঃ ) এর কন্যা হাকিমাহ বলেন , ইমাম হাসান আসকারী ( আঃ ) তাকে বলেন , ” ফুপি আম্মা আজকে ১৫ ই শাবান আমাদের সাথে ইফতার করবেন এবং আল্লাহ তাঁর বরকতময় হুজ্জাতকে দুনিয়াতে প্রেরন করবেন । ”

আমি বললাম , ” এই বরকতময় নবজাতকের জননী কে ? ”

ইমাম হাসান আসকারী ( আঃ ) বললেন , ” নারজীস । ”

আমি বললাম , ” আমি তো কোন আলামত দেখতে পাচ্ছি না । ”

ইমাম ( আঃ ) বললেন , ” কল্যান এর মধ্যেই নিহিত , যা বলেছি তা ঘটবেই ইনশা আল্লাহ । ”

আমি তখন নারজীসকে বললাম ” হে আমার কন্যা আজ রাতে আল্লাহপাক তোমাকে এমন এক সন্তান দান করবেন যে দুনিয়া আখেরাতের সর্বশেষ নেতা । ”

অতঃপর মধ্যরাতে উঠে তাহাজ্জুতের নামাজ পরে নারজীসকে লক্ষ্য করে দেখি ও ঘুমাচ্ছে ।
কিন্ত বাচ্চা হওয়ার কোন লক্ষন দেখলাম না । কিছুক্ষন পরে দেখলাম নারজীস নামাজ পড়ছে কিন্ত বাচ্চা হওয়ার কোন আলামত না দেখে ভাবলাম ইমাম হয়ত বুঝতে পারেন নি ।

এমন সময় ইমাম ওনার শোবার ঘর থেকে উচ্চস্বরে বললেন ” ব্যস্ত হবেন না সময় ঘনিয়ে এসেছে ।”
আমি নারজীসকে জিজ্ঞেস করলাম , ও বললো কিছু ব্যাথা অনুভব করছি ।
আমি বললাম এটা তারই আভাস ।
অতঃপর আমি আর নারজীস সামান্য ঘুমিয়ে পড়লাম , জেগে দেখি সেই নয়ন জুড়ানো চোখের মনি জন্মগ্রহন করেছে এবং সেজদা করছে ।

তাকে কোলে নিয়ে দেখলাম পুরোপুরি পাক ও পবিএ , শরীরে বিন্দুমাএ ময়লা নেই ।

এমন সময় ইমাম হাসান আসকারী ( আঃ ) বললেন , ” ফুপি আম্মা আমার সন্তানকে আমার কাছে নিয়ে আসুন । ”
তিনি শিশুটিকে বুকে জড়িয়ে এবং নিজের জিহবাকে তার মুখে দিলেন এবং চোখে কানে হাত বুলালেন এবং বললেন , আমার সাথে কথা বল হে আমার পুত্র ।
অতঃপর পিতা পুত্র ( আঃ ) সকল ইমাম ( আঃ ) গনের উপর দরুদ পাঠ করলেন ।
ইমাম হাসান আসকারী ( আঃ ) বললেন , ” একে তার মায়ের কাছে নিয়ে যান , সে তার মাকে সালাম করবে , তারপর আমার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে আসুন । ”
অতঃপর মা ও পুএের সালাম বিনিময়ের পর আবার তার পিতার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে গেলাম ।
——— বিহারুল আনোয়ার খন্ড ৫১ পৃঃ ২ । ——–

ইয়া ইমামুজ্জামান ( আঃ ) অনুগ্রহ করে আপনি তাড়াতাড়ি আগমন করুন ।
চরম অশান্ত এই পৃথিবীতে আপনি ছাড়া কেউই শান্তির সুবাতাস ফিরিয়ে আনতে পারবে না ।
দয়া করুন, হে ইমামুজ্জামান (আঃ) ।

SKL