বার ইমামীয়া শীয়া সম্প্রদায়ের জন্ম ইতিহাস এবং শীয়া শব্দটির অর্থ কি —

শীয়া সম্প্রদায়ের সৃষ্টির ইতিহাস ও শীয়া শব্দের অর্থ কি —

কেউ কেউ না জেনে শুনে অথবা ইচ্ছে করেই এমন ধারনা পোষন করে থাকেন যে , সাফাভি রাজত্বের পর থেকে শীয়াদের উদ্ভব , ইতিপূর্বে তাদের কোন ইতিহাস ছিল না ।

কিন্ত ইসলামের হাদিসগ্রন্থ সমূূহের উপর সামান্য অধ্যয়ন করলেই এ ধারনা পুরোপুরি পাল্টে যাবে ।

” খায়রুল বারিয়্যার ” —
আয়াতের প্রেক্ষিতে বর্নিত হাদিস সমূহের আরবী অংশ অধ্যয়ন করলে দেখতে পাই যে , মহানবী (সাঃ) এর আমলে উনি স্বয়ং নিজেই সর্বপ্রথম আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ) এর অনুসারীগনকে এ নামে অভিহিত করেন ।

অতএব শীয়া সস্প্রদায়ের জন্ম হওয়ার ইতিহাস ইসলামের ইতিহাসের সাথেই সংযুক্ত । মহানবী (সাঃ) এর ওফাতের পর তা সৃষ্টি হয় নি ।

অতএব ,
যারা না জেনে শুনে অথবা শুধুমাত্র আক্রোশের বশবর্তী বা ইচ্ছাকৃৃত ভাবে শীয়াদের উপর এমন উদ্ভট অভিযোগ করে থাকেন অথবা অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ের অবতারনা করে থাকেন , তারা আরব কবির এই কথার অন্তভুক্ত হবে ,
যদি সে সব আলেমগন উল্লেখিত হাদিস সমূহ জ্ঞাত না হয় থাকে তাহলে তা এক প্রকার মুসিবত ও বিপদ , আর যদি জ্ঞাতসারেই এরুপ বলে থাকেন তাহলেে মুুসিবত ও বিপদ আরও কয়েকগুন বেড়ে যায় ।
কারন তারা আলেম হওয়ার দাবি করেন , কিন্ত কোথায় কি হাদিস আছে তাই জানে না ।
হে আল্লাহ ,আমাদের সকলকেই এহেন সাম্প্রদায়িক বিষবাস্প থেকে রক্ষা করুন ,
ঈলাহী আমিন ।

‘ শীয়া ‘ কথাটির আভিধানিক অর্থ —

এই শব্দটিকে আমরা তিন ভাবে পর্যালোচনা করব ,
প্রথমে আমরা এই শব্দটির আভিধানিক অর্থ পর্যালোচনা করব , অতঃপর পবিত্র কোরআনে এ শব্দটির প্রয়োগ ও সবশেষে যে সব হাদিস সমূহে সত্যিকার শীয়াদের পরিচিত করিয়েছেন তা উল্লেখ করব ।

” শীয়া ” শব্দের আভিধানিক অর্থ হল অনুসারী বা অনুসরক ।

পবিত্র কোরআনে ” শীয়া ” শব্দের প্রয়োগ – চারটি স্থানে ব্যবহ্রত হয়েছে ,

কোরআন মজিদে এসেছে —
وَإِنَّ مِن شِيعَتِهِ لَإِبْرَاهِيمَ
” — ইন্না মিন শীয়াতিহি লা ইব্রাহিমা — ” ।
সুরা সাফফাত / আয়াত ৮৩ ।
অর্থাৎ – ইব্রাহিম ছিলেন তার একজন শীয়া বা অনুসারী ।

এই আয়াতে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে হযরত নূহ (আঃ) এর শীয়া বা অনুসারী বলা হয়েছে ।
অর্থাৎ তিনি হযরত নূহ (আঃ) এর পথ ও চিন্তাধারাকে অনুসরন করে সামনে এগিয়ে যান ।
অবশ্য অন্য রেওয়াতে ভিন্ন বর্ননা এসেছে ।

“—-দুই ব্যক্তিকে দেখতে পেল যারা ঝগড়া ও মারামারি করছিল , তাদের একজন ওনার শীয়া ও অন্যজন তার দুশমন , সে তার দুশমনের মোকাবিলায় তার (মুসার) কাছে সাহায্য চাইল —–” ।
সুরা – কেসাস ,আয়াত , ১৫ ।

এই আয়াতে ঐ লোকটিকে হযরত মুসা (আঃ) এর শীয়া বা অনুসারী বলা হয়েছে ।

উপসংহার ,
উপরোক্ত আয়াত সমূহে ” শীয়া ” শব্দটি নবী রাসুলদের অনুসারী হিসেবে ব্যবহ্রত হয়েছে ।

হাদিস সমূহে ” শীয়া ” শব্দের প্রয়োগ –

রাসুল (সাঃ) বলেছেন , “ সুসংবাদ ! হে আলী , নিশ্চয়ই তুমি এবং তোমার শীয়া বা অনুসারীগন জান্নাতে প্রবেশ করবে ”।

সুত্র – তারিখে দামেস্ক (ইবনে আসাকির,খন্ড-২,পাতা-৪৪২ , হাদিস # ৯৫১ / নুরুল আবসার (শিবলাঞ্জী) ,পাতা-৭১,১০২ / ইয়া নাবিউল মুয়াদ্দাহ,পাতা-৬২ / তাতহিরাতুল খাওয়াস (ইবনে জাওজী আল হানাফী) ,পাতা-১৮ / তাফসীরে ফাতহুল কাদীর(আল শাওকানী),খন্ড-৫,পাতা-৪৭৭ / তাফসীরে রুহুল মায়ানী আলুসী,খন্ড-৩০,পাতা-২০৭ / ফারাইদ সিমতাইন(ইবনে শাব্বাঘ),খন্ড-১,পাতা-১৫৬ / তাফসীরে দুররে মানসুর,খন্ড-৬,পাতা-১২২ / মানাকিব(ইবনে আল মাগাজেলী),পাতা-১১৩ / মুখতাসার তারিখে দামেস্ক,খন্ড-৩,পাতা-১০ / মিয়ান আল ইতিদাল,খন্ড-২,পাতা-৩১৩ / আরজাহুল মাতালেব,পাতা-১২২,১২৩,৮৭৭(উর্দু) / তাফসীরে তাবারী,খন্ড-৩০,পাতা-১৪৭ / ফুসুল আল মাহিম্মা,পাতা-১২২ / কিফায়াতুল তালেব,পাতা ১১৯ / আহমাদ ইবনে হাম্বাল,খন্ড-২,পাতা-৬৫৫ / হুলিয়াতুল আউলিয়া,খন্ড-৪, পাতা – ৩২৯ / তারিখে বাগদাদ,খন্ড-১২,পাতা-২৮৯ / আল তাবরানী মুজাম আল কাবির,খন্ড-১,পাতা-৩১৯ / আল হায়সামী মাজমা আল জাওয়াইদ,খন্ড-১০,পাতা-২১-২২ / ইবনে আসাকীর তারিখে দামেস্ক,খন্ড-৪২,পাতা-৩৩১ / আল হায়সামী আল সাওয়ায়িক আল মুহারিকা,পাতা-২৪৭ / মুয়াদ্দাতুল কুরবা,পাতা-৯২ / তাফসীরে ফাতহুল বায়ান,খন্ড-১০,পাতা-২২৩(নবাব সিদ্দিক হাসান খ ভুপালী,আহলে হাদিস) / তাফসীরে ফাতহে কাদীর,খন্ড-৫,পাতা-৬৪,৬২৪ / সাওয়ারেক আল মুহারেকা( ইবনে হাজার মাকিক),পাতা-৯৬ / শাওয়াহেদুত তাঞ্জিল,খন্ড-২,পাতা-৩৫৬ / মুসনাদে হাম্বাল,খন্ড-৫,পাতা-২৮ / নুজহাত আল মাজালিস,খন্ড-২,পাতা-১৮৩ / মানাকেব(আল খাওয়ারেজমী),খন্ড-৬, পাতা -৬৩ ।

একদা আলী ( আঃ ) ওনার এক সহযোগী ” নউফ বোকালি” কে ওনার শীয়াদের সম্পর্কে বললেন , আমার শীয়ারা রাত্রিবেলায় আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকে ও দিনের বেলাতে সিংহ পুরুষের মতো ইসলাম রক্ষার্থে অবস্থান করে ।

আরেকটি হাদিসে শীয়াদেরকে এভাবে পরিচিত করান হয়েছে ,
আমাদের শীয়ারা চার চক্ষুবিশিষ্ট ।
দুটি চক্ষু অন্যান্য মানুষের মত নাকের উপর এবং বাকি দুটি তাদের অন্তরে অবস্থিত । অর্থাৎ তারা অন্য লোকদের মত বোকা নয় বরং তারা অত্যন্ত চালাক , বুদ্বিমান , জ্ঞানী , যুদ্ব বিদ্যা ও কাজ কর্মে পারদর্শী ।

ষষ্ঠ ইমাম জাফর সাদিক (আঃ) বলেন , আমাদের প্রকৃত শীয়ারা নৈশ ইবাদতে মগ্ন , চালাক ও বুদ্বিমান , গোনাহগার ও ভুলকারিদের জন্য ক্ষমাশীল , অভাবীদের জন্য দানশীল , নিজের সুখে অন্যদেরকেও শরীক করে , যুদ্বের ময়দানে সিংহপুরুষ ।

সুপ্রিয় পাঠক ,
আশা করি ” শীয়া ” শব্দটি সম্বন্ধে একটা পরিষ্কার ধারনা পেলেন ।

তবে অবাক একটা ব্যাপার না বলে পারছি না ।
পবিত্র কোরআনে কোথাও ” সুন্নি ” শব্দটি পেলাম না ।
আপনারা যদি কেউ পেয়ে থাকেন , দয়া করে জানাতে ভুলবেন না ।

SKL