কে এই ইমরান —

— সুরা আল ইমরান —

পবিত্র কোরআনের ৩য় নাঃ সুরা ।

কে সেই ” ইমরান ” ?

“—- আদমকে , নূহকে ও ইবরাহীমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে আল্লাহ বিশ্বজগতে মনোনীত করিয়াছেন — ”
“—– ইহারা একে অপরের বংশধর । আল্লাহ সবশ্রোতা , সবজ্ঞ —– ” ।
সুরা – আল ইমরান , ৩৩,৩৪ ।

আলে ইবরাহীম অর্থাৎ ইবরাহীমের বংশধর ও আলে ইমরান অর্থাৎ ইমরানের বংশধর থেকেই মহান আল্লাহ মহানবীর ( সাঃ ) ওফাতের পর সমগ্র জ্বীন ও মানবজাতি সহ সমগ্র সৃষ্টিকুলের হেদায়েত বা পরিচালনার জন্য ১২ জন পবিত্র ইমামগনকে ( আঃ ) মনোনীত করেছেন ।
ওনাদেরকে মনোনয়ন করার আগে মহান আল্লাহ ইবরাহীম ও ইমরানকে মনোনীত করেছেন ।
তো এই প্রসংগে হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর পরিচয় তুলে ধরার এখানে অপেক্ষা রাখে না ।

তবে যার নামে এই সুরার নামই রাখা হয়েছে ” ইমরান ” , সেই হযরত ইমরানের সম্পর্কে কিছু কথা বলার অবকাশ আছে ।

এখন মূল প্রশ্ন —
কে সেই ” ইমরান ” ??

যাঁকে এবং যাঁর বংশধরকে স্বয়ং মহান আল্লাহ নিজে মনোনীত করেছেন !

সমগ্র ইসলামের ইতিহাসে তিনজন ” ইমরানই ” বিখ্যাত এবং বিশেষ মান মর্যাদার অধিকারী ।

প্রথম — ” ইমরান ” হচ্ছেন হযরত মুসা (আঃ) এর পিতা । যিনি হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর বংশধর । কাজেই তিনি তো মনোনীত আছেনই এবং ওনার বংশধর সেই ধারাভুক্ত । কাজেই তাকে বা তার বংশধরকে আবার মনোনয়নের প্রয়োজন হয় না ।

দ্বিতীয় — ” ইমরান ” হচ্ছেন হযরত মরিয়ম (আঃ) এর পিতা । সেই সুত্রে তিনি হযরত ঈসা (আঃ) এর নানা । তিনিও হযরত ইবরাহীমের বংশধর । আর তিনি কোন পুত্র সন্তান রেখে যান নি । হযরত মরিয়ম (আঃ) হচ্ছেন ওনার কন্যা সন্তান । হযরত ঈসা (আঃ) এর মাতা তিনি । তিনিও ইবরাহীম (আঃ) এর বংশধর । কাজেই তিনিও মনোনীত । এবং হযরত ঈসা (আঃ) অবিবাহিত ছিলেন বিধায় পুত্র বা কন্যা সন্তানের কোন প্রশ্নই আসে না । তথা ওনার বংশধরের কোন অস্তিত্ব নেই ।

এখন সর্বশেষ ও তৃতীয় —–
” ইমরান ” হচ্ছেন মহানবী (সাঃ) এর চাচা , যিনি আবু তালিব নামে সর্বাধিক পরিচিত ।
এই আবু তালিবেরই প্রকৃত নাম হচ্ছে ” ইমরান ” ।
প্রচলিত নাম হচ্ছে আবু তালিব বা তালিবের পিতা ।
ওনার জৈষ্ঠ পুত্রের নাম হচ্ছে তালিব । তাই ওনাকে ডাকা হতো আবু তালিব ।
একমাত্র তিনি ব্যতীত আর কোন উল্লেখযোগ্য ” ইমরান” অদ্যবধি ইসলামের ইতিহাসে খুজে পাওয়া যায় নি ।

সুতরাং মহান আল্লাহ কতৃক মনোনীত ও ঘোষিত ” আলে ইমরান ” ( ইমরানের বংশধর ) , এই হযরত আবু তালিব (আঃ) ছাড়া আর কে হতে পারে ?

আমীরুল মুমিনীন ওয়া ইমামুল মোত্তাকীন হযরত আলী ( আঃ ) ওনারই সুযোগ্য সন্তান ।
যার জন্মই হয়েছিলো পবিত্র কাবা ঘরের অভ্যন্তরে । এবং এই মহা সৌভাগ্য এখন পর্যন্ত এই পৃথিবীতে আর কারও হয় নি ।
জান্নাতবাসীদের সর্দার তথা ২য় ও ৩য় ইমাম , ইমাম হযরত হাসান ( আঃ ) এবং ইমাম হযরত হোসেন (আঃ) এই আবু তালিব বা ইমরানের পৌত্র ।

হযরত ইমাম হোসেন (আঃ) এর বংশ থেকে শেষ যামানার ইমাম হযরত ইমাম মাহদী (আঃ) পর্যন্ত যে নয়জন আল্লাহর মনোনীত ইমাম আগমনের সংবাদ বা ঘোষনা মহানবী (সাঃ) দিয়েছেন , তারা সকলেই , ” আলে ইমরান ” তথা আবু তালিবের বংশধর ।

এই বংশধরকেই আল্লাহ পবিত্র কোরআনে পুত পবিত্র বলে ঘোষনা দিয়েছেন ।
মাসুম বা নিষ্পাপ ব্যক্তি ছাড়া কোন লোককে মনোনীত করা আল্লাহর বিধানে নেই । সেই হিসেবে অতি অবশ্যই হযরত আবু তালিব বা ইমরান (আঃ) আল্লাহর মনোনীত একজন মাসুম বা নিষ্পাপ ব্যক্তি । এবং এই বংশধরকে আল্লাহ মহব্বত ও সম্মান ও আনুগত্য করার আদেশও দিয়েছেন ।

রাসুলে খোদা বলেন , ” যে আলীকে ভালোবাসে ও আনুগত্য করে সে পবিত্র আত্মার অধিকারী ” ।
( তিরমিযি ) ।
আর আবু তালিব হচ্ছেন আলী (আঃ) এর জন্মদাতা পিতা । তাহলে তিনি কতো পবিত্র হবেন তা কি ভেবে দেখার দাবি রাখে না ?
যার ঔরস থেকে আল্লাহ কতৃক মনোনীত ইমামতের ধারা শুরু হলো , সেই আবু তালিব বা ইমরানকে একদল মুসলিম নামধারী জ্ঞানপাপীরা ” কাফের ” বা “মৃত্যুর আগ পর্যন্র ঈমান আনে নি ” এই জাতীয় ভয়ংকর জঘন্য কথা বলতে অন্তর কাপে না !

যাইহোক ,
সুপ্রিয় পাঠক ,
আশা করি সুরা আলে ইমরানের , ইমরান ব্যক্তিটি কে – প্রকৃত পরিচয় পেয়েছেন  ।

—শেষ নবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) ও ইসলামের ইতিহাস —
ডঃ এস,এম, ইলিয়াছ —
পৃ – ২৯ ছায়া অবলম্বনে ।

SKL