জামাতে নামাজ পড়ানোর সময় ইমাম সাহেব কেন নীচু স্থানে দাড়ান —

জামাতে নামাজ পড়ানোর সময় ইমাম সাহেব কেন নীচু স্থানে দাড়ান ?

ইসলামিক বিধান অনুযায়ী নামাজ সঠিক হওয়ার শর্ত সমূহের মধ্যে নামাজে ইমামের দাড়ানোর স্থান কোনোক্রমেই মামুম বা মুক্তাদিদের চেয়ে উঁচু স্থানে হলে চলবে না। (
সূত্র – আল উরওয়াতুল ওসকা, ১ম খন্ড / ফি শারায়েতেল জামা’আত, পৃষ্ঠা: ৭৭৭, ফসল (অধ্যায়): ৪৬ / তাউযিহুল মাসায়েল, মাস’আলা নম্বর: ১৪৩৩ / ওসায়েলুশ শিয়া, ৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৪৬৩ / বিস্তারিত জানতে হলে, জাওয়াহেরুল কালাম, ১৩তম খন্ড, পৃষ্ঠা: ১৬৫ ।

আর তাই সারা বিশ্বে সকল মাযহাবেই জামাত বড় হলে দুতালা তিনতালাতে মামুম বা মুক্তাদিদের দেখা যায় । কিন্তু নিম্ন স্থানে মামুমদের দেখা যায় না। ইমাম মামুমদের চেয়ে নিম্ন স্থানে দাড়ালে কোনো অসুবিধা নেই ।

কিন্তু আমরা অনেক জামাতের মেহরাবে দেখতে পাই যে , ইমাম সাহেব একটি কবরের মত গর্তে দাড়িয়ে নামাজ পড়াচ্ছেন তার কারণ কি ?
যদিও বিভিন্ন ধর্মে মেহরাবের কথা বর্ণনা করা হয়েছে যেমন , ইহুদিদের মেহরাব ছোট একটি কক্ষের মত মাটি থেকে উচু স্থানে তৈরি করা হয়ে থাকে । সুরা সাদের আয়াত নম্বর: ২১শেও তা পাওয়া যায় ।
সূত্র: ইন্টারনেট ।
মেহরাব আরবি حرب শব্দ থেকে গৃহীত আর মেহরাবের অর্থ হচ্ছে হরব বা যুদ্ধ করার স্থান বা রণক্ষেত্র ।
অর্থাৎ এ স্থানে নামাজি শয়তান এবং নাফসে আম্মারার সাথে যুদ্ধ করে । আর মেহরাবে গর্তটা হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্রের Rifle-pit পরিখা বা দূর্গের ন্যায় । যেখানে দাড়িয়ে ইমাম বা নামাজি শয়তান ও নফসের সাথে যুদ্ধ করে । আর নামাজি এ দূর্গের মাধ্যমে অহঙ্কারি বা ইমাম হয়ে যাওয়াতে গর্বিত না হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করে এবং নিজেকে খাটি বান্দা বা মাটির মানুষ হিসেবে গঠন করে আল্লাহর মুখোমুখি  বিনয়ের সাথে নতজানু হয় । যদিও বলা হয়ে থাকে যেহেতু বড় জামাতে মুসল্লিদের মধ্যে সামঞ্জস্যতা বজায় রাখার জন্য যারা মসজিদের বাহিরে বা গলিতে রাস্তায় জামাতে শরিক হচ্ছেন তারা যাতে ইমামের দাড়ানোর স্থান থেকে নীচে না হয়ে যায় তাই ইমামের দাড়ানোর স্থানকে নীচু করে দেয়া হয় । এতে সকলের ক্ষেত্রে নামাজে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না । নয়তো ইমামের নীচে দাড়ালে নামাজ সঠিক হবে না যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি ।
অবশ্য একটি কথা না বললেই নয় যে , ক্ষুদ্রতম জ্ঞানের অধিকারী আমার জানা মতে রাসুলের (সাঃ) সময় মেহরাব ছিল কি না তার সঠিক তথ্য পাওয়া যায়না । তবে ইমামের জন্য দিক নির্দিষ্ট করে দেয়ার চিহ্নের কথা এসেছে।
অবশ্য রাসুলের (সাঃ) সময়ে মেহরাবের বিষয়টি আহলে সুন্নতের হাদিসে এসেছে ।
সূত্র – সুনানে বাইহাকি, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩০ এ বর্ণনা করা হয়েছে:
“رسول الله(ص) نهض الی المسجد فدخل المحراب ثم رفع یدیه بالتکبیر”.
সম্ভবত কোন কোন মতে জামাতে ইমামের নীচু জায়গাতে দাড়ানোটা জামাতে নামাজ পড়ানোর মুস্তাহাব কাজসমূহের অন্তর্ভূক্ত ।
ওল্লাহু আ’লাম ।

SKL