হযরত আলী (আঃ) হলেন মহান আল্লাহর নাফস —

পবিত্র কোরআনে হযরত আলী (আঃ) কে আল্লাহর নাফস ঘোষনা করা হয়েছে ।

“—- মানুষের মধ্যে এমনও মানুষ আছে যে নিজের নাফসকে আল্লাহর রাস্তায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার জন্য বিক্রয় করে দেয় । আল্লাহ এই ধরনের বান্দাকে ভালবেসে থাকেন — “।
সুরা – বাকারা /২০৭ ।

আল্লাহর হুকূমে রাসুল (সাঃ) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করার প্রস্তুতি নিলেন , তখন হযরত আলীকে (আঃ) নিজের স্থানে স্থলাভিষিক্ত করেন , যেনো ওনার কাছে গচ্ছিত আমানতগুলো মানুষদেরকে পৌছে দেন ।
নবীজী (সাঃ) যখন রাত্রে রওয়ানা দিবেন , তখন হযরত আলীকে (আঃ) আদেশ করলেন তিনি যেনো নবীজীর (সাঃ) বিছানায় শায়িত থাকেন ।
নবীজী (সাঃ) হযরত আলীকে (আঃ) বললেন , হে আলী , আমার সবুজ চাদরটা গায়ে দিয়ে আমার বিছানায় শুয়ে থাক ।
হযরত আলী (আঃ) বললেন , ইয়া রাসুল আল্লাহ , আমি আপনার বিছানায় শায়িত হলে আপনার জীবন কি রক্ষা পাবে ও নিরাপদে মদীনায় পৌছুতে পারবেন ?
নবীজী শুধু বললেন , হ্যা ।

একথা শুনে হযরত আলী (আঃ) শোকরনা সেজদা সেরে নবীজীর আদেশমতো নবীজীর (সাঃ) বিছানায় শায়িত হলেন , নবীজীর (সাঃ) স্থলাবর্তী হিসাবে ।
ঠিক তখনই মহান আল্লাহ নিজের দুই ফেরেশতা জীব্রাঈল ও মিকাঈল (আঃ) কে বললেন যে , ” আমি তোমাদের দুইজনের মধ্যে ভাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করলাম । তোমাদের মধ্যে একজনের আয়ু অন্যজনের আয়ু হতে বৃদ্বি করে দিলাম । এখন কে নিজের জীবন অপরের জন্য উৎসর্গ করবে ” ?
ঐ দুই ফেরেশতা নিজের জীবনকেই প্রাধান্য দিল ।
রাব্বুল আলামীন তখন ঐ দুই ফেরেশতাকে বললেন , ” পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখো , তোমরা কি আলী ইবনে আবু তালিবের মত হতে পার না ? আমি আলী ও রাসুলের মধ্যে ভাতৃত্ব স্থাপন করেছি । রাসুলের বিছানায় এখন আলী শায়িত আছেন , নিজের জীবনটা রাসুলের জন্য বিসর্জন দেওয়ার জন্য সম্পূর্ন প্রস্তত । তাই তোমরা উভয় পৃথিবীতে গিয়ে আলীর জীবন হেফাজত কর “।
কারন সেই সময় রাসুলের গৃহের চর্তুদিকে চল্লিশ জন কাফের উম্মুক্ত তলোয়ার হাতে রাসুলকে (সাঃ) হত্যার জন্য প্রস্তত ছিল ।
উভয় ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরন করে , আলীর (আঃ) মাথার কাছে হযরত জীব্রাঈল (আঃ) এবং পায়ের কাছে মিকাঈল (আঃ) দাড়ালেন ।
জীব্রাঈল (আঃ) বললেন , ” ধন্যবাদ ইয়া আলী ইবনে আবু তালিব , আপনার সমকক্ষ আর কেইবা হতে পারে , মহান আল্লাহ আপনাকে নিয়ে ফেরেশতাদের সম্মুখে গর্ব করেছেন এবং এরই প্রেক্ষিতে আল্লাহ উপরোক্ত আয়াত নবীজীর উপর নাজিল করেছেন “।

সূত্র – তাফসীরে দুররে মানসুর ,খন্ড-৩, পৃ-১৮০ , মুসতাদরাকে হাকেম ,খন্ড-৩ পৃ-৪ , মুসনাদে হাম্বাল , খন্ড-১, পৃ- ৩৪৮ , কোরআনুল কারিম , পৃ-৫২৯ ( মহিউদ্দিন খান ) সহ প্রায় ৫০ টি গ্রন্থের খন্ড ও পৃষ্ঠা নাঃসহ রেফারেন্স দেয়া যাবে ।

নবীজীর (সাঃ) তথা ইসলামের সকল দুর্দিনে আবু তালিবের সন্তান হযরত আলীই (আঃ) একমাত্র সাহায্যকারী , ঠিক যেমন মুসার (আঃ) কাছে তারই ভ্রাতা হারুন (আঃ) ।
আমরা কি আজ পর্যন্ত পেরেছি সেই আলীকে (আঃ) সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে !!

—মারেফাতে ইমামত ও বেলায়েত ,
সংকলনে – নাজির হোসাইন ,
পৃ-৩২ ছায়া অবলম্বনে ।

SKL