ঈয়াযীদ মোটেই দায়ী নন —- পর্ব – ০১

— ঈয়াযীদ মোটেই দায়ী নন —-
পর্ব – ০১ ।

ইদানীং অনেকেই বলে থাকেন যে , কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য ঈয়াযীদ মোটেই দায়ী নন ।
বেশ ভাল কথা ।
কথা বলার স্বাধীনতা সকলের আছে , হোক সে কথাটা খাঁটি সত্য অথবা ডাঁহা মিথ্যা ।

প্রিয় পাঠক ,
সংগত কারনে এখানে শীয়াদের রেফারেন্স দেয়া যাচ্ছে না ।
আসুন দেখে নেই ,
সুন্নি ভাইদের বিখ্যাত ইতিহাসবিদগনের কিতাব কি বলে –

পর্ব – ০১ ,
মদীনার গভর্নরের প্রতি ঈয়াযীদ ইবনে মূয়াবীয়ার নির্দেশ —
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে , ঈয়াযীদ কেবল তার নেতৃত্বকে মেনে নেয়ার সাপেক্ষেই ইমাম হোসেন (আঃ) কে হত্যা করা থেকে নিবৃ্ত্ত হত ।

এ প্রসংগে ঐতিহাসিক ইয়াকুবী লিখেছেন —
ঈয়াযীদ ইবনে মূয়াবীয়া মদীনার গভর্নর ওয়ালীদ ইবনে ওকবাকে এই মর্মে পত্র লিখে যে , ” যখন আমার পত্র তোমার হাতে পৌঁছাবে তখন হোসেন ইবনে আলী ও আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে ডেকে পাঠাও এবং তাদের কাছ থেকে যে কোন মূল্যে আমার অনুকুলে বাইয়াত গ্রহন কর । যদি তারা অস্বীকার করে তবে তাদের মস্তক বিছিন্ন করে আমার নিকট প্রেরন কর ” ।

ঈয়াযীদের এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে ওয়ালীদ ইমাম হোসেন (আঃ) কে তার প্রাসাদে ডেকে পাঠায় ।

ইমাম হোসেন (আঃ) তাঁকে হত্যা করা হবে – এই ষড়যন্ত্র আঁচ করে বনু হাশিমের যুবকদের সংগে করে নিয়ে প্রাসাদে যান ।
মদীনার গভর্নর ওয়ালীদ ইমাম হোসেন (আঃ) কে বাইয়াতের প্রস্তাব দিলে ইমাম হোসেন (আঃ) তার জবাবে বলেন যে , ” আমরা নবীর আহলে বায়েত , রেসালতের খনি , আমাদের গৃহে ফেরেশতাদের সদা যাতায়াত থাকত , রহমত অবতীর্ণের ক্ষেত্র , মহান আল্লাহ সকল কল্যানের শুরু করেছেন আমাদের থেকে এবং আমাদের মাধ্যমেই তার পরিসম্পাতি ঘটিয়েছেন । পক্ষা্ন্তরে ঈয়াযীদ হল দুস্কৃতিপরায়ন , মদ্যপায়ী , সে সম্মানীত ব্যক্তিদের হত্যাকারী এবং প্রকাশ্য পাপাচারী । সুতরাং আমার মত কেউ তার মত কারও হাতে বাইয়াত করতে পারে না ” ।

এরুপ জবাব শুনে ওয়ালীদ নিশ্চুপ থাকলেও তৃতীয় খলীফা মরহুম ওসমানের জামাতা মারওয়ান ইবনুল হাকাম তৎক্ষনাৎ ইমাম হোসেন (আঃ) কে হত্যার পরামর্শ দেয় ।

ইসলামের বিধান মতে এই হত্যাকান্ড জায়েজ নয় বলে মত দেয় ওয়ালীদ । এবং ইমাম হোসেন (আঃ) কে হত্যা করতে অস্বীকার করে ।

এই খবর ঈয়াযীদের নিকট পৌঁছালে সে ওয়ালীদকে লিখে পাঠায় –
” যখন আমার পত্র তোমার হাতে পৌঁছাবে তখন দ্বিতীয়বারের ন্যায় মদীনার জনগনের নিকট থেকে বাইয়াত নিবে এবং আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইরকে তার অবস্থায় ছেড়ে দাও । কারন সে আমাদের নিকট থেকে পালাতে পারবে না । কিন্ত হোসেনকে হত্যা করে তার মাথা আমার নিকট পাঠিয়ে দাও । যদি তুমি তা কর তাহলে তোমার জন্য উন্নত জাতের কিছু ঘোড়া ও মূল্যবান অনেক উপহার পাঠাব ” ।

কিন্ত ঈয়াযীদের এই পত্র ওয়ালীদের নিকট পৌঁছাবার পূর্বেই ইমাম হোসেন (আঃ) মদীনা ত্যাগ করেছিলেন ।

এর কিছুদিন পরে ঈয়াযীদ প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগে ওয়ালীদকে বরখাস্ত করে ।

একই ধারাবাহিকতায় ঈয়াযীদ ইমাম হোসেন (আঃ) এর দূত মুসলিম বিন আকীলের বিরুদ্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন না করার অভিযোগে কুফার তৎকালীন গভর্নর নোমান ইবনে বাশীরকে বরখাস্ত করে কুফার গভর্নর হিসাবে নির্দয় কঠোর স্বভাবের ওবায়দুল্লাহ ইবনে যীয়াদকে নিয়োগ দেয় ।

সূত্র – তারীখে ইয়াকুবী , ২য় খন্ড , পৃ – ২৪১ / ইবনে আসাম , আল ফুতুহু , ৩য় খন্ড , ৫ম অধ্যায় , পৃ – ১০ – ১১ – ১৫ – ১৮ / মাকতালুল হুসাইন , খারেযমী , ১ম খন্ড , পৃ – ১৮৪ / তারীখে তাবারী , ৪থ খন্ড , পৃ – ২৫১ / ইবনে আসির , আল কামিল ফিত তারিখ , ৩য় খন্ড , পৃ – ২৬৪ / অাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া , ৮ম খন্ড , পৃ – ১৫৭ – ১৫৮ / আল আখবারুত তোওয়াল , পৃ – ১৫ – ১৮ / ইবনে আসাম , আল ফুতুহু , ৩য় খন্ড , ৫ম অধ্যায় , পৃ – ২০৮ ।

ইনশা আল্লাহ ,  আসছে ,
পর্ব – ০২ —
ইমাম হোসেন (আঃ) এর উক্তি – ” আমাকে তারা হত্যা করবেই ” ।

ইমাম হুসাইন (আঃ) এর হত্যায় ঈয়াযীদের ভূমিকা ,
সংকলনে – আবু যাহরা ,
প্রকাশনায় – আশেকানে আহলে বাইত , বাংলাদশ ,
পৃষ্ঠা – ৩ , ৪ থেকে সংকলিত ও সংগৃহীত ।

SKL