মূয়াবীয়া ইমাম আলী (আঃ) কে গালি দিত —

মুয়াবীয়া ইমাম আলী ( আঃ) কে গালি দিত ——

মহা মুনাফেক মুয়াবিয়া ইমামে হক খালিফায়ে রাসেদ নাফসে রসুল (সাঃ) মাওলা আলী (আঃ) কে গালি দিত ও গালি দেওয়ার প্রথা চালু করেছিল । এ বিষয় নিচে আলোচনা করা হল । সমস্ত রেফারেন্স আহলে সুন্নার কেতাব থেকে দেওয়া হয়েছে ।

আবারও উল্লেখ্য যে , সমস্ত রেফারেন্স আহলে সুন্নি রেফারেন্স থেকে দেওয়া হয়েছে ।

তবে রেফারেন্স এর পাতার বা খণ্ড এর নং প্রকাশকের ভিন্নতার কারনে কিছু বদলিয়ে যেতে পারে।

যে আলিকে গালি দিল সে রসুল পাক (সাঃ) কে গালি দিল ——

যে আমাদের রসূলকে (সাঃ) কে গালি সে হারামি, অবৈধ বীর্য পাতে অবৈধ গর্ভে জন্মান। ইসলামের শত্রু, মানবতার শত্রু।

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَدَلِيِّ قَالَ

دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ سَلَمَةَ فَقَالَتْ لِي أَيُسَبُّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ? فِيكُمْ قُلْتُ مَعَاذَ اللَّهِ أَوْ سُبْحَانَ اللَّهِ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ

اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ سَبَّ عَلِيًّا فَقَدْ سَبَّنِي

“আবি আব্দুল্লাহ জাদলি বলেছেন ‘ আমরা উম্মে সালামা (রাঃ) এর কাছে গেলাম, তিনি বললেন ‘তোমাদের মধ্য থেকে রসুল সাঃ কে গালি দিচ্ছো?’ আমারা বললাম ‘মায আল্লাহ , সুবহান আল্লাহ এই ধরনের কোন কিছু, তিনি ( উম্মে সালামা) বললেন আমি রসুল সাঃ কে বলতে শুনেছি ‘যে আলিকে গালি দেয় সে আমাকে গালি দেয়’”।

মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ২৫৫২৩
সুনান আল কাবির, ইমাম নাসাই, খণ্ড ৫, পাতা ১৩৩
ফাযাইলে সাহাবা, ইমাম হম্বাল, হাদিস নং ৯৭৭
মুসতাদাক ‘আলা সাহিহাইন তালখিয যাহাবি হাদিস নং ৪৬১৫
খাসাইশে আলী, ইমাম নাসাই
মাওযাম আল যাওয়াদ
কানযুল আমমাল। আরও অনেক কিতাবে।

মুয়াবিয়া আলী (আঃ) কে গালি দেওয়ার প্রথা চালু করেছে ।

সহিহ মুসলিম, ফাযাইলে আলী অধ্যায়ে।

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ قَالَا حَدَّثَنَا حَاتِمٌ وَهُوَ ابْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مِسْمَارٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَمَرَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ سَعْدًا فَقَالَ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسُبَّ أَبَا التُّرَابِ فَقَالَ أَمَّا مَا ذَكَرْتُ ثَلَاثًا قَالَهُنَّ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَنْ أَسُبَّهُ لَأَنْ تَكُونَ لِي وَاحِدَةٌ مِنْهُنَّ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ

হাদিসটা বড় এখানে প্রথম অংশের অনুবাদ দেওয়া হল।

“মুয়াবিয়া ইবনে সুফিয়ান সা’দকে ‘গভর্নর নিযুক্ত’ করে বললেন কি তোমাকে আবু তোরাবকে ( আলী) গালি দিতে বাধা দিচ্ছে? সে ( সা’দ) উত্তর দিল ‘তিনটে জিনিস যেগুলি আমি মনে রেখেছি রসুল (সাঃ) কে বলতে ফলে আমি তাকে (আলিকে ) গালি দেব না……………”।

উপরের হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে যে মুয়াবিয়া , সাদ ইবনে আবি ওক্কাস কে কিছু বলার নির্দেশ দিল কিন্তু সাদ তা বলতে অস্বীকার করে। ফলে মুয়াবিয়া জিজ্ঞেস করে কি তোমাকে আলী কে গালি দিতে বাধা দিচ্ছে? তার উত্তরে সাদ বলে যে তিনটি জিনিস যা সে রসুল সাঃ থেকে শুনেছে।

এই একই ঘটনাকে হাফিয ইবনে হজর আস্কালানি তার সারাহ আল বুখারিতে ফাযাইলে আলী এর অধ্যায়ে লিখেছেন।

وعند أبي يعلى عن سعد من وجه آخر لا بأس به قال لو وضع المنشار على مفرقي على أن أسب عليا ما سببته أبدا

“ আবি ইয়ালা সাদের থেকে অন্য একটি সুত্রে বর্ণনা করেছেন যেটা ভুল নয় যে সাদ বলেছেন “ আমার ঘাড়ে যদি করাত রাখা হয় আলিকে গালি দিতে তবুও আমি আলিকে গালি দেব না’”।

নিচে আরও হাদিস দেওয়া হল যে মুয়াবিয়া, ইমাম আলী (আঃ) কে গালি দেওয়ার প্রথা চালু করেছিল তার গভর্নর দের দিয়ে।

ক) মুহিবুদ্দিন তাবারি রিয়াদুর নাদারা তে মানাকিবে আশায়েরা মুবাশসেরা অধ্যা য়ে।

খণ্ড ১ পাতা ২62

عن سعيد قال أمر معاوية سعدا أن يسب أبا تراب فقال أما ما ذكرت ثلاثا قالهن رسول الله صلى الله عليه وسلم

“সাইদ বর্ণনা করেছেন ‘মুয়াবিয়া, সাদকে নির্দেশ দিল আবু তোরাবকে গালি দিতে, ফলে সাদ উত্তর দিল ‘যে সমন্ধে তুমি ( মুয়াবিয়া) বলছ,(অথচ) রসুল (সাঃ) তিনটি জিনিষ বলেছেন……”।

আহলে সুন্নার ইমাম মুল্লা আলী কারী তার ‘মিরকাত সারাহ মিশকাত’ এ খণ্ড ১৭ পাতা ৪৯৩ তে এটা উল্লেখ করেছে।

খ) ইবনে কাসির আল বসরি সুম্মা দামেস্কি তার বেদায়া ওয়আন নেহায়াতে খণ্ড ৭ পাতা ৩৪১ এ লিখেছে। যে ঘটনাটা ইমাম মুসলিম তার সাহিহতে বর্ণনা করেছেন সেটাকে পরিষ্কার ভাবে লিখেছে।

وقال أبو زرعة الدمشقي : ثنا أحمد بن خالد الذهبي أبو سعيد ، ثنا محمد بن إسحاق ، عن عبد الله بن أبي نجيح ، عن أبيه قال : لما حج معاوية أخذ بيد سعد بن أبي وقاص فقال : يا أبا إسحاق ، إنا قوم قد أجفانا هذا الغزو عن الحج حتى كدنا أن ننسى بعض سننه ، فطف نطف بطوافك . قال : فلما فرغ أدخله دار الندوة ، فأجلسه معه على سريره ، ثم ذكر علي بن أبي طالب فوقع فيه ، فقال : أدخلتني دارك ، وأجلستني على سريرك ، ثم وقعت في علي تشتمه ؟

“ যখন মুয়াবিয়া হজ্জ এ গিয়েছিল সাদের হাত ধরে বলল ‘হে আবি ইসহাক আমার ঐ জনগণ যারা হজকে পরিত্যাগ করেছি যুদ্ধ বিগ্রহের জন্য এমনকি আমরা এর প্রায় সব নিয়ম ভুলে গিয়েছি, সুতারং আমারা আপনার তাওয়াফের অনুকরনে তাওয়াফ করেছি। যখন তারা হজ শেষ করল সে (মুয়াবিয়া) সাদের কাছে আলোচনা ঘরে তার সাথে গদির উপর বসল, তারপর সে (মুয়াবিয়া) আলিকে উল্লেখ করল ও লানত দিল, সাদ বলল ‘ যে তুমি আমাকে তোমার বাড়িতে এনে তোমার সোফাতে বসিয়ে আলিকে গালি দিতে শুরু করেছ”?

গ) মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা খণ্ড ৭ পাতা ৪৯৬ ও ইবনে মাজা খণ্ড ১ পাতা ৪৫ এ বর্ণনা করেছেন।

عن سعد بن أبي وقاص قال قدم معاوية في بعض حجاته فدخل عليه سعد فذكروا عليا فنال منه فغضب سعد وقال تقول هذا

“হজ্জ থেকে ফেরার পথে সাদ, মুয়াবিয়া ও তার সাথীদের সাথে সাক্ষাৎ হয় এবং আলিকে উল্লেখ করে তখন মুয়াবিয়া আলিকে গালমন্দ করে, ফলে সাদ রাগান্বিত হয়ে বলে ‘তুমি এই রকম বলছ কেন’?

فنال منه)) أي نال معاوية من علي وتكلم فيه

এখন সাদ রাগান্বিত হল কেন? মুয়াবিয়া অবশ্যই আলী (আঃ) কে প্রশংসা করছিল না !

ঘ) তাবারি তার ইতিহাসে ৫১ হি এর ঘটনার পরিপেক্ষিতে লিখেছেন। (খণ্ড ১৮ পাতা ১২২ ইং অনুবাদ)

“ যখন মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান, মুঘিরা ইবনে শুবাহকে কুফার গভর্নর করলেন জুমাদা ৪১ এ ( সেপ্টেম্বর ২ অক্টবর ৩০ 66১), সে ( মুয়াবিয়া) তাকে ডেকে পাঠাল। আল্লাহের প্রশংসা করার পর বললঃ

‘আর অবশ্যই এক ধরয্যশীল লোককে অতিতে তিরস্কার করা হয়েছে…………বিজ্ঞজনকে আদেশ দেওয়া ব্যতীত এমন কাজ করে যেটা তুমি চাও। যদিও আমি তোমাকে বেশকিছু বিষয়ে উপদেশ দিতে চাই, কিন্তু সেগুলি কে নাইবা বললাম, রবং তোমার উপর ভরসা করলাম আমার খুশির বিষয় গুলিতে।……………। আমি তোমাকে তোমার একটা গুনের ব্যাপারে উপদেশ দিচ্ছি যে আলিকে গালমন্দ ও সমালোচনা করা থেকে বিরত হয়োনা আর উসমানের জন্য আল্লাহের রহমত বর্ষণের ও ক্ষমা প্রার্থনা করা থেকে বিরত হয়োনা।আলী এর সাহাবিদের উপর লজ্জাজনক আবস্থা চালু রাখো, তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখো ও তাদের কথা শুন না………”।

তাবারি তার ইতিহাসে উপরউক্ত খন্ডের ১৪৯ পাতায় লিখেছেন।

“মুয়াবিয়ার দুত তাদের কাছে এল এবং ছয় জনকে ছেড়ে দিতে বলল ও আট জনকে হত্যা করতে নির্দেশ দিল, আর বলল আমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তোমাদেরকে সুযোগ দিতে আলিকে ছেড়ে দিতে ও লানাত দিতে। যদি তোমরা এটা করো তবে আমরা তোমাদেরকে ছেড়ে দেব, আর যদি অমান্য করো তবে আমরা তোমাদেরকে হত্যা করবো”।

উপরের ইতিহাস থেকে এটা বোঝা যাচ্ছে যে মুয়াবিয়া কি নির্দেশ দিয়ে তার দুতকে পাঠিয়েছিল।

ঙ) ইমাম হাসান (আঃ) মুয়াবিয়াকে ইমাম আলী (আঃ) কে গালি দিতে নিষেধ করছেন ।

ইমাম হাসান (আঃ) ও মুয়াবিয়ার সাথে যখন চুক্তি হয় তখন তাতে একটা শর্ত ছিল যে ইমাম আলী (আঃ) কে গালি দিতে পারবে না।

আল কামিল ফিত তারিখ, ইবন আসির, খণ্ড ৩ পাতা ২৭২

“হাসান, মুয়াবিইয়ার থেকে যে পাঁচ মিলিয়ন কুফার বাইতুল মাল ও দারাবজারদ এর ট্যাক্স এবং আলিকে লানাত না দিতে দাবী করল, মুয়াবিয়া আলিকে লানাত দেওয়াকে মানলো না, ফলে সে ( হাসান) বলল তখন আলিকে না লানত দিতে যখন সে শুনতে পায়। মুয়াবিয়া এটাকে গ্রহণ করল কিন্তু এটা পূর্ণ করতে বিফল হল…………”।

চ) ইমাম যাহাবি তার ‘আল আবার ফি খবর’ এর খণ্ড ১ পাতা ১৮ এ উল্লেখ করেছেন

ثم كتب إلى معاوية على أن يسلم إليه بيت المال وأن لا يسب عليًا بحضرته وأن يحمل إليه خراج فسا ودارابجرد كل سنة

“ অতপর সে(হাসান) মুয়াবিয়াকে লিখল কুফায়ের বাইতুল মাল দিতে, আলিকে লানত না দিতে আর দারাবজারদের ট্যাক্স প্রত্যেক বছর তাকে দিতে”।

ছ) তাবারি তার তারিখ এ লিখেছেন

“ হাসান, মুয়াবিয়ার সাথে শান্তি চুক্তির শর্ত করে যে তার বাইতুল মাল আরও দারাবজারদের ট্যাক্স এবং আলিকে যেন গালমন্দ না করা হয় যেটা তার কানে আসে।

খণ্ড ১৮ পাতা ৫

ইমাম যাহাবি তার ‘সিয়ার আলাম আন নাবুলা’তে ও লিখেছেন

“……তার (হাসানের) সামনে যেন আলিকে লানত না করে”।

জ)ইবনে কাসির তার ‘আল বিদায়া ও আন নিয়াতে’ খণ্ড ৮ পাতা ১৭ উল্লেখ করেছেন।

فاشترط أن يأخذ من بيت مال الكوفة خمسة آلاف ألف درهم، وأن يكون خراج دار أبجرد له، وأن لا يسب علي وهو يسمع

“হজরত হাসান এই শর্তে খিলাফাতের দাবী পরিত্যাগ করতে রাযী হলেন যে, তাকে কুফার বাইতুল মাল থেকে পঞ্চাশ লক্ষ দিরহাম দিতে হবে, আবজারাদ অঞ্চলের খাজানা দিতে হবে আর আলির প্রতি কোন #গালমন্দ যে না করা হয় যেটা তার কানে আসে”।

http://islamport.com/d/3/tkh/1/16/230.html

মুয়াবিয়ার নাপাক বীর্যে লালিত নাসিবিগণ ইবনে কাসিরের এই বর্ণনাকে বিভিন্ন অনলাইন এডিশন থেকে তুলে দিয়েছে। যেমন মহা নাসিবি প্রপাগ্নডা সাইট www.al-eman.com থেকে। যদিও এটা হার্ড কপিতে এখন পাওয়া যায় এবং আরও কিছু সুন্নি অনলাইন লাইব্রেরিতেও পাওয়া যায়।

মুয়াবিয়া আলী (আঃ) কে গালি ও লানত দিত এই গুলি হাদিস ও তারিখের কিতাব সমূহে প্রচুর বর্ণনা হয়েছে। আমি নিচে আরও দুটি রেফারেন্স উল্লেখ করলাম যেখান মুসলিম শরিফের হাদিস (যেটা আগেই দেওয়া হয়েছে) এর আলোচনা করেছে।

১) কুরতুবি তার “আল মুফহাম’ এর খণ্ড ২০ পাতা ২৫ এ লিখেছেনঃ

وقول معاوية لسعد بن أبي وقاص : ما منعك أن تسب أبا تراب ؛ يدل : على أن مقدم بني أمية كانوا يسبون عليا وينتقصونه

“মুয়াবিয়া, সাদকে যেটা বলেছিল ‘কি তোমাকে আলিকে গালমন্দ করতে বিরত করছে’? তা থেকে বোঝা যায় যে বানী উমাইয়ার প্রথম জেনারেশন আলিকে গালমন্দ করত”।

২)নাসিবিদের সর্দার ইবনে তাইমিয়া তার “মিনহাজ আস শুন্না” এর খণ্ড ৫ পাতা ৪২ এ উল্লেখ করেছেন

وأما حديث سعد لما أمره معاوية بالسب فأبى

“সাদ সমন্ধে যে হাদিস, যাতে মুয়াবিয়া তাকে লানত দিতে বলে কিন্তু সে না করে”।

( পরবর্তীতে বানী উমায়াদের গালিদেওয়ার প্রথাকে উল্লেখ করা হবে)

সবিনয় অনুরোধ , লেখাটির প্রতিটি রেফারেন্স আহলে সুন্নাত থেকে নেয়া । অতএব দয়া করে আগে পড়ুন ।

SKL