পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তিন ওয়াক্তে আদায় —

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি বা একসাথে জোহর-আসর , মাগরীব-এশা আদায় প্রসংগে ——

ফজর , জোহর , আসর , মাগরীব ও এশা এই ওয়াজীব নামাজগুলো আহলে সুন্নাত জামাতের অধীন ভাই বোনেরা আলাদা আলাদা সময় আদায় করে থাকেন । এই নিয়মটা অতি অবশ্যই সঠিক । কারন মহানবী ( সাঃ) এই নিয়মের ব্যাপারে কোথাও কোন প্রকার নিষেধাজ্ঞা জারি করেন নি ।
অপর দিকে বার ইমামীয়া শীয়া মাযহাবের অধীন ভাই বোনেরা সুবেহ সাদিকের সময় ফজর নামাজ আদায় করে থাকেন । দুপুর বেলা জোহর নামাজ আদায় করে ঐ একই বৈঠকে আসর নামাজ আদায় করেন । একই ভাবে সন্ধাবেলায় মাগরীব নামাজ আদায় করে ঐ একই বৈঠকে এশার নামাজ আদায় করে থাকেন ।
শীয়া মাযহাবের এই রকম একত্রে নামাজ আদায় করার নিয়ম বেশীর ভাগ সুন্নি ভাই বোনদের কাছে ভুল বা বাতিল বলে মনে হয় ।
শীয়া বা সুন্নি সকলেই কিন্ত একই নবীর উম্মত ।
তো এখানে যদি কেউ মহানবীর (সাঃ) সুন্নাত বা নিয়ম অনুসরন করে থাকে , তাহলে তাকে কি ভুল বা বাতিল বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার অবকাশ আদৌ থাকে কি !

এবার আসুন , জেনে নেয়া যাক, এই রকম একত্রে নামাজ আদায় করার নিয়মের বিষয় স্বয়ং মহানবীর (সাঃ) হাদিসগুলো ।
” মহানবী (সাঃ) কোন প্রকার ভয় ভীতি , বৃষ্টিজনিত কারন , সফরজনিত কারন ছাড়াই জোহর ও আসরের নামাজ একত্রে এবং মাগরীব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করেছেন ।
সাঈদ ইবনে যুবাইর বলেন , ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করা হলো , এরুপ করার পিছনে ওনার (মহানবী) কি উদ্দেশ্য ছিল ?
তিনি বললেন , ওনার উম্মতের যেনো কোন কষ্ট না হয় ।
তারপর আমি আবু হুরায়রা (রাঃ) এর কাছে এসে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম ।
তিনি ইবনে আব্বাসের বিবরণটির সত্যতা স্বীকার করলেন । ”

উপরে উল্লেখিত হাদিসের মূল বিষয়বস্তু অন্য যেসব হাদিসগুলোতে বিদ্যমান , সেগুলোর রেফারেন্স নিম্নে দেওয়া হল ,
সহীহ বুখারী, ১ম খন্ড , পৃষ্ঠা ২৫৯ , আধুনিক প্রকাশনী
সহীহ বুখারী শরীফ , ২য় খন্ড , পৃষ্ঠা ২১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
সহীহ মুসলিম শরীফ , ৩য় খন্ড , পৃষ্ঠা ২৫, ২৭ , ২৮ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
জামে আত তিরমিযী , ১ম খন্ড , পৃষ্ঠা ১৬৫ , বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার
মুয়াত্তা ইমাম মালিক (রহঃ) ১ম খন্ড , পৃষ্ঠা ১৫৯ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
সহীহ মুসলিম ৩য় খন্ড , হাদিস নং ১৫০৮ – ১৫১১ , ১৪৯৯, ১৫০০- ১৫০৭ , বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ।
এছাড়াও পবিত্র কোরআনে সুরা ইসরা বা বনি ইসরাঈলের ৭৮ নং আয়াতে তিন ওয়াক্ত এর কথা বলা আছে ।
উপরের হাদিসগুলোতে একত্রে আদায় করার বিধানই বিদ্যমান ।
কিন্ত তাই বলে পাঁচ বারেও আদায় করা যায় ।
তবে একত্রে আদায় করলে সাধারনত কোন নামাজই কাযা হওয়ার সম্ভবনা একেবারেই থাকে না । তাছাড়া একত্রে আদায় করলে প্রাত্যাহিক কাজেও অনেক সুবিধা পাওয়া যায় ।
মোট কথা একত্রে আদায়ের সুবিধা সকল দিক থেকেই বিদ্যমান ।
এবং এই সুযোগ স্বয়ং মহানবী (সাঃ) নিজে পালন করে আমাদের দান করে গেছেন ।
শীয়া মাযহাবের অনুসারিগন এই সুবিধাটারই সদ্বব্যবহার করে থাকেন ।
তো আপনিই বা কেনো এই রকম ভালো একটা সুন্নাত হেলায় হারাবেন !

SKL