খোৎবা-২২০

আল্লাহর জেকের সম্বন্ধে আমিরুল মোমেনিন নিম্নোক্ত আয়াতদ্বয় পাঠ করলেনঃ
সেসব গৃহে, যাকে সমুন্নত করতে এবং যাতে তাঁর নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, সকাল ও সন্ধ্যায়। তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে; সেসব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে এবং সালাত কায়েম ও যাকাত আদায় থেকে বিরত রাখে না, তারা ভয় করে সেদিনকে যেদিন তাদের অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে (কুরআন-২৪ ? ৩৬-৩৭) এরপর আমিরুল মোমেনিন বললেনঃ মানুষ বধিরতা সত্ত্বেও শুনতে পায়, অন্ধত্ব সত্ত্বেও দেখতে পায় এবং অদম্যতা সত্ত্বেও অনুগত হয়। যে সময়গুলোতে কোন নবি ছিলেন না সে সময়গুলোতে আল্লাহ তাঁর অসীম রহমতে এ ধরনের লোকের এলাহামের দ্বারা মনের মাধ্যমে গোপনে কথা বলতেন। তারা তাদের জাগ্ৰত কান, চক্ষু ও হৃদয়ের সাহায্যে অন্যদেরকে আল্লাহর জেকেরের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন এবং নির্জন স্থানের পথের দিশারীর মতো অন্যদেরকে আল্লাহর ভয় স্মরণ করিয়ে দিতেন। যে কেউ মধ্যপথ অবলম্বন করতো তারা তার পথের প্রশধ্বংসা করতো এবং তাকে হেদায়েতের স্রোতধারা প্ৰদান করতো। আর যদি কেউ ডানে ও বায়ে যেতো তারা তার পথের নিন্দা করতো এবং ধ্বংস সম্বন্ধে তাকে ভয় দেখাতো। এভাবে তারা অন্ধকারের প্ৰদীপ ও বিভ্রান্তির দেশনা হিসাবে কাজ করেছিল। কিছু কিছু লোক আছে যারা জাগতিক কর্মকান্ডের পরিবর্তে আল্লাহর জেকেরে এমনভাবে মগ্ন যে, ব্যবসা-বাণিজ্য কোন কিছুই তাদেরকে এ ধ্যান থেকে ফিরিয়ে আনতে পারছে না। তারা আল্লাহর জেকেরে জীবন কাটিয়ে দেয়। তারা গাফেলগণের হৃদয়ে আল্লাহ্ কর্তৃক ঘোষিত হারাম বিষয়াবলী সম্পর্কে সতর্কাদেশ ঢুকিয়ে দেয়। তারা নিজেরা ন্যায়বিচার করে এবং অন্যদেরকেও ন্যায়বিচার করার আদেশ দেয়। তারা নিজেদেরকে হারাম বিষয় থেকে বিরত রাখে এবং অন্যদেরকেও বারণ করে। তাদের অবস্থা এমন যেন তারা এ পৃথিবী ভ্ৰমণ শেষ করে পরকালে পাড়ি জমিয়েছে এবং এ পৃথিবীর বাইরে যা আছে তারা যেন তা দেখতে পায়। ফলে কবরের সংকীর্ণ ফাঁকে দীর্ঘ অবস্থানে ও বিচার দিনে যা ঘটবে সে বিষয়ে তারা অবগত আছে। সুতরাং পৃথিবীর মানুষের জন্য এসব বিষয়ের পর্দা তারা অপসারণ করে দেয় যেন মানুষ তা দেখতে পায় যা তারা দেখেছিল এবং মানুষ তা শুনতে পায় যা তারা শুনেছিল। যদি তোমরা মনের মধ্যে তাদের প্রশধ্বংসনীয় অবস্থা ও সুপরিচিত আসনের ছবি আঁক তবে দেখতে পাবে তারা তাদের আমলের রেকর্ড খুলে বসে আছে এবং ছোট-বড় সব কিছুর হিসাব মিলিয়ে দেখছে যে, যা তাদেরকে আদেশ করা হয়েছে তার কতটুকু করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং যা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে তার কতটুকুতে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের কোন খারাপ আমল থাকলে তার ভার তারা নিজেদের পিঠেই অনুভব করে এবং এ ভার বহনে নিজেকে খুব দুর্বল মনে করে। এতে তারা ভীষণভাবে কাঁদতে শুরু করে এবং কেঁদে কেঁদে একে অপরের কাছে বলাবলি করে। তারা আল্লাহর দরবারে বিলাপ করে নিজের দোষ স্বীকার করে এবং খালেছ অন্তরে তওবা করে। এরা হলো হেদায়েতের প্রতীক ও অন্ধকারের প্রদীপ । ফেরেশতাগণ এদের চারদিকে ঘিরে থাকে, এদের ওপর শান্তি নেমে আসে, আকাশের দরজা। এদের জন্য খোলা থাকে এবং যে স্থানের বিষয়ে আল্লাহ। এদেরকে অবহিত করেছিলেন সে স্থান সম্মানিত অবস্থায় এদের জন্য নির্ধারিত থাকে। তারা আল্লাহকে ডাকে এবং ক্ষমার হাওয়ায় নিশ্বাস গ্রহণ করে। তারা আল্লাহর নেয়ামতের চির-মুখাপেক্ষী এবং তার মহত্ত্বের কাছে হীনাবস্থায় থাকে। তাদের শোকের দৈর্ঘ্য তাদের হৃদয়কে ব্যথাতুর করেছে এবং তাদের কান্নার দৈর্ঘ্য তাদের চোখকে ব্যথাতুর করেছে। আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রতিটি দরজায় তারা আঘাত করে। তারা তাঁরই কাছে যাচনা করে- দান যাকে নিঃস্ব করে না এবং যার কাছে যাচনা করে কেউ নিরাশ হয় না। সুতরাং তোমরা নিজের জন্যই নিজের হিসাব মিলিয়ে নাও, কারণ অন্যের হিসাব মিলিয়ে দেখার জন্য অন্য একজন রয়েছেন।