শয়তান

শয়তান

রুপা পারভীন/পাপিয়া

শুরু করছি সেই মহান প্রভুর নামে যে সুন্দর করে পবিত্র রুহকে আমাদের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তার উপাসনার জন্য আমাদের মনের প্রথম অবস্থা পবিত্রতা। সেখানে থাকে সৃষ্টি কর্তার জন্য ভালবাসা। কিন্তু কিছু, অপবিত্র ব¯তু আছে যে গুলো চায় সব সময় আমাদের মনের পবিত্রতাকে নষ্ট করতে। তাই সেই অপবিত্রতা থেকে আমাদের উচিৎ নিজেদেরকে বাঁচিয়ে রাখা। যদি সে গুলো থেকে আমরা বাঁচতে চাই তাহলে আমাদের সে গুলো সম্পর্কে জানা দরকার,

আর যদি না জানি তাহলে কোনদিনই সম্ভব নয় সেগুলো থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা।

তাই সর্ব প্রথমে জানাচ্ছি সর্ব খারাপ এবং নষ্টের ও কুসচিৎ এর মূলে রয়েছে একটা বড় নাম সেটা হচ্ছে শয়তান। আর এই শয়তান সম্পর্কে আমাদের জানা উচিৎ।

নিম্নে জানিয়ে দিচ্ছি শয়তান সর্ব প্রথমে কোন কাজ গুলো করেছে ঃ

১. শয়তান সর্ব প্রথমে ১ রাকাত নামাজ ৪ হাজার বছর লম্বা করে পড়েছে।

২. শয়তান সর্ব প্রথমে কান্না করেছে।

৩. শয়তান সর্বপ্রথম অহংকারী।

৪. শয়তানই সর্বপ্রথমে মিথ্যা চারী।

৫. শয়তানই প্রথম শিশা বানানোর পদ্ধতি মানুষকে জানালো।

৬. শয়তান মানুষকে সর্বপ্রথমে সাবান বানানোর কথা বলেছে।

আরো অনেক আশ্চর্য কাজ শয়তান করেছে এবং কেন শয়তান এই কাজগুলো করেছে এবং কখন করেছে সেই সম্পর্কে জানানো হবে।

আমরা এখন জানবো শয়তান এই কাজগুলো কেন প্রথমে করেছিল কারণ সব কিছু করার পিছনে কোন না কোন কারণ বা উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকে। তাই শয়তানের এই কাজগুলোর পেছনে কি কারণ বা উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে তা আমরা দেখবো। তবে শয়তান যে সব সময়ই খারাপ কাজ করেছে এমন নয়। শয়তান কিছু ভাল কাজ ও করেছে।

সে সম্পর্কে নিম্নে কিছু তথ্য দেয়া হলঃ

শয়তান সর্ব প্রথমে কান্না করেছে এবং নওহা পড়েছে কারণ বেহেস্তের প্রতি ভালবাসার জন্য। শয়তান প্রথমে বেহেস্তে ছিল এবং যখন মহান আল্লাহ প্রথম মাটি দিয়ে হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন সবাই আল্লাহর আদেশে আদম (আঃ) কে সেজদা করলো কিন্তু সে সেজদা করলো না, আল্লাহর আদেশ অমান্য করলো। তখন আল্লাহ শয়তানকে বেহেস্তের সমস্ত সুখ-শান্তি থেকে বিচ্ছিন্ন করলেন, তাকে বেহেস্ত থেকে বের করে দিলেন। শয়তান বেহেস্তের সুখ-শান্তির কথা মনে করে কান্না করলো এবং নওহা পড়লো।

উপরের ঘটনা অনুযায়ী বোঝা যায় যে, শয়তানই সর্ব প্রথমে অহংকার করেছে যে, সে আগুনের তৈরি আর আদম (আঃ) মাটির তৈরি এবং শয়তান সর্ব প্রথমে সেই আদম (আঃ) কে সেজদা না করে আল্লাহর আদেশ অমান্য করলো এবং প্রতিবাদকারী হিসেবে গণ্য হল । ও অহংকারী হল ।

শয়তান সর্ব প্রথমে হযরত সোলাইমান (আঃ) কে শিশা বানানোর পদ্ধতি দিয়েছিল। যখন সোলাইমান (আঃ) বিলকিসের জন্য কি করবে চিন্তায় ছিলেন, তখন বিলকিস সোলাইমান (আঃ) এর কাছে আসলেন। এখানে এই কাজের পিছনে শয়তানের উদ্দেশ্য ছিল বিলকিসকে ভয় দেখানো এবং ধোকা দেওয়া। সে সোলাইমান (আঃ) কে বলল গর্ত করতে এবং তার মধ্যে পানি রেখে তার উপরে শিশা রাখতে যাতে বিলকিস সেখান থেকে যেতে ভয় পায় এবং পরে ধোকা খায়। কিন্তু শয়তানের এই বুদ্ধির ফলে তেমন কোন লাভ হয়নি।

শয়তান মানুষের কানে মানজানীক অগ্নিপিণ্ড নিক্ষেপের ধনু বানানোর বুদ্ধি দিল। সেটা দিয়েছিল হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এর সময় নমরুদকে, যাতে করে সেই বিশাল অগ্নিকান্ডের মধ্যে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে নিক্ষেপ করতে পারে।

তবে কিছু কিছু কাজ শয়তান করেছে যেগুলো করে ওর কোন লাভ হয়নি। যেমনঃ

শয়তান মানুষের শরীর এবং পোষাক পরিষ্কার করার জন্য সাবান তৈরির পদ্ধতি দিয়েছিল। সেটা দিয়ে নিজের কাপড় নিজে পরিষ্কার করতে পারে।

শয়তান মানুষকে যাতা বানানোর পদ্ধতি দিয়েছিল। সেই বুদ্ধির কারণে মানুষের উপকারই হল। মানুষ সেই যাতা দিয়ে আটা করা শুরু করলো।

তবে শয়তান এর একটা ভাল কাজ হচ্ছে যে পৃথিবীর সমস্ত জায়গায় সেজদা করেছে, একাজ কেউ করতে পারে নি।

শয়তানের আরও একটা এবাদত হল। সে একটা সেজদা অনেকদিন পর্যন্ত লম্বা করেছে। আর সেই কারণে শয়তান অহংকার করে বলেছে যে তার মত সেজদা আর কেউ করতে পারে না।

শয়তান সর্ব প্রথমে মিথ্যা কসম খেয়েছে। যখন আদম এবং হাওয়াকে নিসিদ্ধ ফল খাওয়ার কথা বলেছে তখন সে আল্লাহর মিথ্যা কসম খেয়ে বলেছিল।

আরো অনেক কাজ শয়তান সর্ব প্রথমে করেছে। কিছুটা করে সে খুশি হয়েছে কিছুটা করে তার কোন লাভ হয়নি তবে যতটুকু বোঝা যায় বা বলা যায় যত খারাপ দুনিয়াতে এসেছে সব কিছু শয়তানের জন্য।

তাই আমরা যেহেতু মহান আল্লাহর সবচেয়ে সুন্দরতম সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। তাই আমরা জানি যে মহান আল্লাহ শুধু মাত্র তার এবাদাতের জন্য আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। আর সেই জন্য আমরা চেষ্টা করবো যতটুকু সম্ভব শয়তানের ধোকা থেকে নিজেকে বাচানো। কিন্তু শয়তানের চেষ্টা থাকে সব সময় মানুষকে ধোকা দেওয়ার। আর সে জন্য আমরা যদি শয়তানের কাজ-কর্ম এবং অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে জানি তবেই সম্ভব হবে নিজেকে শয়তান থেকে দূরে রাখতে।