বসরার গভর্নর উসমান ইবনে হুনায়েফ জনগণের আমন্ত্রণে ভোজোৎসবে যোগদান করায় তাকে লেখেছিলেন হে ইবনে হুনায়েফ,, আমি জানতে পেরেছি। বসরার একজন যুবক তোমাকে একটা ভোজে নিমন্ত্রণ করেছিল এবং তুমি তাতে লাফিয়ে চলে গেছো । তোমার জন্য নানা রকম খাদ্যসামগ্ৰী তৈরি করা হয়েছিল এবং এসব খাদ্যসামগ্ৰী বড় বড় থালা ভরে তোমাকে দেয়া হয়েছিল। এ কথা আমি কখনো চিন্তা করি নি যে, তুমি এমন লোকের ভোজ গ্রহণ করবে যে ভিক্ষুকদের ফিরিয়ে দেয় এবং ধনীদের নিমন্ত্রণ করে। যে খাদ্য তুমি গ্রহণ কর তার প্রতি নজর করে দেখো, যাতে তোমার সংশয় হয়, তা পরিত্যাগ করো এবং যা হালালভাবে অর্জিত হয়েছে বলে তুমি নিশ্চিত তা গ্ৰহণ করো। মনে রেখো, প্রত্যেক অনুসরণকারীর একজন নেতা আছে যাকে সে অনুসরণ করে এবং যার জ্ঞানের ঔজ্জ্বল্য থেকে সে আলোক প্রাপ্ত হয়। অনুধাবন করতে চেষ্টা কর, তোমার ইমাম এ দুনিয়াতে দুটি জীর্ণ পোষাক ও দুটি রুটিতে তৃপ্ত। নিশ্চয়ই তুমি এরূপ করতে পার না। অন্ততঃপক্ষে আমাকে তাকওয়ায়, প্রচেষ্টায়, সততায় ও ন্যায় পরায়ণতায় সাহায্য কর—সমর্থন কর। কারণ আল্লাহর কসম, আমি কোন স্বর্ণ সঞ্চয় করি নি, দুনিয়ার কোন সম্পদ স্তুপীকৃত করে রাখি নি এবং দুটি জীর্ণ পোষাক ছাড়া কোন পোষাক রাখি নি । অবশ্য, এ আকাশের নিচে আমাদের যা দখলে ছিল তা হলো ফাদক। কিন্তু একদল লোক এর জন্য লোভী হয়ে পড়লো এবং অন্য দল তাদেরকে এর থেকে বিরত রাখলো। মোটের ওপর আল্লাহই হলেন সর্বোত্তম বিচারক । “ফদক”* অথবা “না-ফদক” দ্বারা আমি কী করবো । আগামীকাল যখন কবরে চলে। যাব তখন এর অন্ধকারে সব হারিয়ে যাবে এবং এর খবরও সেখানে পৌছবে না। এটা একটা গর্ত যদিও এর প্রস্থ বর্ধিত করা হয় এবং খননকারীরা এটা বড় আকারেও যদি করে তবুও মাটি ভেঙ্গে পড়ে এটাকে সংকীর্ণ করে দেবে। আমি নিজকে তাকওয়ায় নিয়োজিত রাখতে চেষ্টা করি যাতে মহাভয়ের দিন শান্তিপূর্ণ হয় এবং পিচ্ছিল স্থানে স্থিরভাবে থাকতে পারি। যদি আমি চাইতাম তবে আমি দুনিয়ার আরাম-আয়েশের পথ বেছে নিতে পারতাম, যেমন—বিশুদ্ধ মধু, উন্নত ময়দা, রেশমি কাপড় ইত্যাদি। কিন্তু যখন আমি ভাবি যে হিজাজ অথবা ইয়ামামার জনগণ রীতিমত দুটাে রুটি পাচ্ছে না এবং পেট ভরে খেতে পাচ্ছে না, তখন আমার ভালো খাবার খাওয়ার আর কোন ইচ্ছা বা লোভ থাকে না। যেখানে আমার চতুর্দিকে ক্ষুধার্তা লোক রয়ে গেছে সেখানে কী করে আমি উদরপূর্তি করে ঘুমোতে পারি? অথবা কবি যে কথা বলেছে আমি কি সে রকম হব? কারো জন্য রোগাক্রান্ত হতে এটাই যথেষ্ট যে, সে তার পেট ভরে শুয়ে থাকে। অথচ তার চারদিকে মানুষ। শুকনা চামড়া চিবুচ্ছে । আমি জনগণের দুঃখ-কষ্টেব অংশীদার না হয়ে কী করে ‘আমিরুল মোমেনিন’ উপাধি গ্রহণ করতে পারি? অথবা জীবনের দুঃখ-কষ্টে আমি কি তাদের জন্য একটা উদাহরণ হয়ে থাকব না? আমার নিজকে খাওয়া-দাওয়ায় ব্যস্ত রাখার জন্য আমাকে সৃষ্টি করা হয় নি। যেমন করে বাঁধা পশুরা জাবর কাটায় বাস্ত আর ছাড়া পশুরা গলাধঃকরণে ব্যস্ত। এরা খাদ্যে এদের উদর ভর্তি করে কিন্তু এর পিছনে কী উদ্দেশ্য তা জানে না। আমি কি মুক্তভাবে চরার জন্য নিয়ন্ত্রণহীনভাবে থাকবো, অথবা বিপদগামিতার রশি ধরে চলবো অথবা হতবুদ্ধি হয়ে লক্ষ্যহীনভাবে পথে ঘুরে বেড়াবো? আমি তোমাদের একজনকে বলতে শুনেছি যে, আবি তালিবের পুত্র যেভাবে নগণ্য খাবার গ্রহণ করে এতে সে দুর্বল হয়ে পড়বে এবং শক্রর মোকাবেলা করতে পারবে না এবং বীরদের সামনে টিকতে পারবে না। মনে রেখো, বনের গাছ তক্তার উপযোগী হয় এবং ফেকড়িগুলোর বাকল নরম হয়, আবার ঝোপগুলো জ্বালানির জন্য ভালো। আল্লাহর রাসুলের সাথে আমার সম্পর্ক হলো একটি শাখার সাথে অন্যটির অথবা হাতের সাথে কব্জির সম্পর্ক। আল্লাহর কসম, সমগ্র আরবদেশের লোক একজোট হয়ে যদি আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আসে। তবুও আমি পিছিয়ে যাব না এবং যদি আমি সুযোগ পাই তবে তাদের ঘাড়ে ধরে ফেলবো। এ বিকৃত মনের ও অদ্ভুদ দেহের লোকটির হাত থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করতে আমি নিশ্চয়ই সংগ্রাম করে যাবো; যতক্ষণ পর্যন্ত শস্যকণা থেকে মাটি বিদূরিত না হয়।
ওহে দুনিয়া, আমার কাছ থেকে চলে যাও। তোমার রশি তোমার ঘাড়েই থাকুক। কারণ আমি তোমার ফাঁদ থেকে নিজকে মুক্ত করে নিয়েছি, তোমার প্রলোভন থেকে নিজকে দূরে রেখেছি এবং তোমার পিচ্ছিল পথে চলাফেরা পরিহার করেছি। তোমার কুহক দ্বারা যাদের প্রতারিত করেছে তারা আজ কোথায়? তোমার চাকচিক্য দ্বারা যে সব জনগোষ্ঠীকে প্রলোভিত করেছো তারা আজ কোথায়? তারা সকলেই কবরে বন্দী হয়ে কবরস্থানে গোপন হয়ে আছে। আল্লাহর কসম, যদি তুমি দৃশ্যমান ব্যক্তিত্ব হতে এবং শরীরি কোন কিছু হতে তবে আমি আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি তোমাকে দিতাম। কারণ তুমি মানুষকে কামনা-বাসনার মাধ্যমে গ্রহণ করেছে এবং অনেক জনগোষ্ঠীকে তুমি ধ্বংস করেছে ও দুঃখ-কষ্টের স্থানের দিকে বিতাড়িত করেছে যেখান থেকে তারা পালাতে পারছে না বা ফিরেও আসতে পারছে না। প্রকৃতপক্ষে তোমার পিচ্ছিল পথে যে পা বাড়ায় সে-ই চিৎ হয়ে আছাড় খায়। যে তোমার তরঙ্গে নামে সে ডুবে যায় এবং যে তোমার প্রলোভন এড়িয়ে চলতে পারে সে বাতেন থেকে সমর্থন পায়। যে নিজকে তোমার কাছ থেকে নিরাপদ রাখতে পারে সে কখনো দুশ্চিন্তা গ্রস্থ হয় না। এমন কি সে যদি মনে করে একদিনের মধ্যেই সে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে। তবুও কোন উদ্বিগ্নতা তাকে স্পর্শ করতে পারে না ।
আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাও। কারণ আল্লাহর কসম, তুমি আমাকে যতই অপমানিত কর না। কেন আমি তোমার কাছে মাথা নত করবো না অথবা আমি লাগাম। এত চিলা করবো না যাতে তুমি আমাকে তাড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, আমি নিজকে এভাবে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত করেছি। যাতে একটা রুটি, একটু লবণে তৃপ্তি পেয়ে থাকি, ইনশাল্লাহ। আমি আমার চক্ষুকে অশ্রুশূন্য করে ফেলেছি সেই স্রোতস্বিনীর মতো যা শুকিয়ে গেছে। আলীর যাকিছু আছে সবই কী সে খেয়ে ফেলবে এবং ঘুমিয়ে থাকবে যেমন করে গরুর পাল চারণভূমি দেখে উদরপূর্তি করে শুয়ে পড়ে অথবা ছাগলের পালের মতো যারা সবুজ ঘাস চরে খেয়ে খোয়াড়ে ফিরে যায়। আলীর চক্ষুদ্বয় মরে যাবে। যদি এ দীর্ঘদিন পর সে চরে খাওয়া পশুদের অনুসরণ করে।
সেব্যক্তি রহমত প্রাপ্ত যে আল্লাহর প্রতি তার দায়িত্ব পালন করে এবং দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য ধারণ করে ও রাত্রিকালে নিদ্রাহীন অবস্থায় কাটায়। কিন্তু নিদ্রা যখন তাকে পরাভূত করে তখন সে মাটিতে শুয়ে পড়ে এবং তার বাহুকে বালিশ হিসাবে ব্যবহার করে। সে তাদের সঙ্গে থাকে যারা বিচার দিনের তয়ে চক্ষুকে জাগরিত রাখে, যাদের দেহ বিছানা থেকে দূরে থাকে, যাদের ঠোঁট আল্লাহর জেকেরে বিড়বিড় করে এবং যাদের পাপ ক্ষমার জন্য দীর্ঘকালের কাকুতি মিনতির ফলে মুছে ফেলা হয়েছে। “তারা আল্লাহর দল; এটা জানা থাকুক। আর না থাকুক, নিশ্চয়ই, শুধুমাত্র আল্লাহর দলই কৃতকার্য হবে (কুরআন— ৫৮ ঃ ২২) । সুতরাং হে ইবনে হুনায়েফ, আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমার নিজের রুটিতে তৃপ্ত থাক যাতে দোযখ থেকে রক্ষা পেতে পার ।
১। ফাদক মদিনার নিকটবতী হিজাজের একটা সবুজ, উর্বর গ্রাম এবং এটা শামরুখ নামক দুর্গ দ্বারা সংরক্ষিত স্থান ছিল (হামাবি***, ৪র্গ খণ্ড, পৃঃ ২৩৮; বুখারী:১০২, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ১০১৫; সামহুদী***, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১২৮০)।
ফদক ইহুদিদের দখলে ছিল। ৭ম হিজরিতে এক শান্তিচুক্তির ফলে ফদকের মালিকানা রাসুলের (সঃ) কাছে চলে যায়। এ চুক্তির মূল কারণ হলো খায়বার দুর্গের পতনের পর ইহুদিরা মুসলিম শক্তি অনুধাবন করতে পেরেছিল এবং তাদের মনোবল ভেঙ্গে গিয়েছিল। তাছাড়া কিছু সংখ্যক ইহুদি আশ্রয় প্রার্থনা করায় রাসুল (সঃ) তাদের ছেড়ে দিয়েছেন। তারা একটা শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছিল যে, ফাদক নিয়ে তাদের অবশিষ্ট এলাকায় কোন যুদ্ধ না করার জন্য। ফলে রাসুল (সঃ) তাদের প্রস্তাব গ্রহণ করলেন এবং তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেন। এ ফদক তার ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হলো এবং এতে অন্য কারো কোন স্বাৰ্থ-স্বামীত্ব ছিল না। এতে কারো কোন স্বাৰ্থ থাকতেও পারে না। কারণ জিহাদে অর্জিত গণিমতের মালে মুসিলিমদের অংশ ছিল। যেহেতু এ সম্পত্তি বিনা জিহাদে পাওয়া গেছে তাই এটাকে ফায়’ বলা হতো এবং রাসুল (সঃ) একাই এর মালিক ছিলেন। এতে অন্য কারো কোন অংশ ছিল না। তাই আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ ইহুদিদের কাছ থেকে তাঁর রাসুলকে যে ফায় দিয়েছেন তার জন্য তোমারা অশ্ব কিংবা উটে আরোহণ করে যুদ্ধ করা নি। আল্লাহু যার ওপর ইচ্ছা তাঁর রাসুলের কর্তৃত্ব দান করেন। (ֆՀՐՑՈr|-«ՖáՆ) | কোন প্রকার যুদ্ধ ছাড়া ফদক অর্জিত হয়েছে। এ বিষয়ে কারো কোন দ্বিমত নেই। সুতরাং এটা রাসুলের ব্যক্তিগত সম্পদ ছিল এবং এতে কারো কোন অধিকার ছিল না। ঐতিহাসিকগণ লেখেছনঃ যেহেতু মুসলিমগণ তাদের ঘোড়া ও উট ব্যবহার করে নি। সেহেতু ফন্দক রাসুলের ব্যক্তিগত সম্পদ ছিল (তাবারী*, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৫৮২ – ১৫৮৩ আহ্বর, ২য় খন্ড, পৃঃ ২২৪-২২৫; হিশাম, ৬ষ্ট, ৩য় খন্ড, পৃঃ ৩৬৮ খালদুনা’, ২য় খন্ড, পৃঃ ৪০; বাকরী *, ২য় খন্ড, পৃঃ ৫৮ শাফকী*৩৩, ৩য় খন্ড, পৃঃ ৫০; বালাজুরী *, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৩৩) ৷ উমর ইবনে খাত্তাবও মনে করতেন যে ফন্দক রাসুলের (সঃ) অংশীদারবিহীন সম্পত্তি। তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, আল্লাহ তাঁর রাসুলকে যা দিয়েছিলেন বনি নজিরের সম্পত্তিও তার অন্তর্ভুক্ত। এতে কারো ঘোড়া বা উট ব্যবহৃত হয় নি। তাই এটা আল্লাহর রাসুলের ব্যক্তিগত সম্পদ (বুখারী”২, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৪৬; ৭ম খন্ড, পৃঃ ৮২: ৯ম খণ্ড , পৃঃ ১২১-১২২; নায়সাবুরী’, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ১৫১; আশাছ”, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ১৩৯-১৪১; নাসাঈ**’, ৭ম খণ্ড, পৃঃ ১৩২; হাম্বল”, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২৫, ৪৮, ৬০, ২০৮; শাফী***, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ২৯৬- ২৯৯)। বিশ্বস্ত সূত্রে এটা সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত যে, রাসুল (সঃ) তাঁর জীবদ্দশাতেই উক্ত ফদক তাঁর প্রাণপ্রিয় কন্যা অনেকে আবু সায়েদ খুদরী ও আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের বরাত দিয়ে বর্ণনা করেছেন যে, যখন কুরআনের আয়াত- “নিকটবতী আত্মীয় পরিজনকে তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও” (১৭৪২৬)— নাজিল হয়েছিল তখন রাসুল (সঃ) ফাতিমাকে ডেকে এনে তাঁকে ফাদক দান করে দিয়েছিলেন। (শাফী***, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১৭৭; শাফী*২৮, ৭ম খণ্ড, পৃঃ ৪৬; হিন্দি২৬৭, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৪৯৩; শাফী*৩২, ১৫শ খণ্ড, পৃঃ ৬২)। আবু বকর যখন ক্ষমতা দখল করেছিল তখন ফাতিমাকে বঞ্চিত ও দখলচু্যত করে ফাদক রাষ্ট্রায়ত্ব করেছিলেন। ঐতিহাসিকগণ লেখেছে ঃ নিশ্চয়ই, আবু বকর ফাতিমার কাছ থেকে ফদক কেড়ে নিয়েছেন ( হাদীদ’*’, ১৬শ খণ্ড, পৃঃ ২১৯ সামহুদী ***, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ১০০০; হায়তামী *”, পৃঃ ৩২) । আবু বকরের এহেন কাজে ফাতিমা সোচ্চার হয়ে উঠলেন এবং তিনি প্রতিবাদ করে বললেন, “রাসুল (সঃ) তাঁর জীবদ্দশায় আমাকে ফাদক দান করে গিয়েছিলেন। অথচ আপনি তার দখল নিয়ে নিয়েছেন।” এতে আবু বকর সাক্ষী উপস্থাপন করার জন্য বললেন। ফলে, আমিরুল মোমেনিন ও উন্মে আয়মন ফাতিমার পক্ষে সাক্ষ্য দিলেন। এখানে উল্লেখ্য যে, উম্মে আয়মন রাসুলের (সঃ) একজন মুক্তিপ্রাপ্ত দাসী ছিলেন। তিনি উসামা ইবনে জায়েদ ইবনে আল-হারিছাহর মাতা ছিলেন। রাসুল করিম (সঃ) প্রায়ই বলতেন, “আমার মাতার মৃত্যুর পরে উন্মে আয়মন আমার মাতা।” রাসুল (সঃ) তাকে বেহেশতবাসীদের একজন বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। (নায়সাবুরী**, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৬৩; তাবারী*, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩৪৬০; বার*৭, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১৭৯৩; আইট্র’, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৫৬৭; সাদ***, ৮ম খণ্ড, পৃঃ ১৯২); হাজর***, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৪৩২)। কিন্তু আবু বকর এ সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে ফাতিমার দাবি নাকচ করে দিয়েছিলেন। এ সম্বন্ধে বালাজুরী লেখেছেনঃ ফাতিমা আবু বকরকে বলেছিলেন, আল্লাহর রাসুল ফদক আলাদা করে আমাকে দিয়েছিলেন। সুতরাং আপনি আমাকে তা ফেরত দিন। এতে আবু বকর তাকে বললেন তিনি যেন উম্মে আয়মন ছাড়া আরো একজন সাক্ষী হাজির করেন। আবু বকর আরো বললেন, হে রাসুলের কন্যা, আপনি জানেন যে, দুজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা ছাড়া সাক্ষ্য গ্রহণীয় হয় না। এ সব ঘটনার পর একথা অস্বীকার করার কোন উপায় থাকে না যে, ফাদক রাসুলের (সঃ) ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল এবং তাঁর জীবদ্দশায় তিনি এর দখল ফাতিমার হাতে তুলে দিয়ে তাঁকে তা দান করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আবু বকর তাকে বেদখল করে ফাদক নিয়েছিলেন । এ ব্যাপারে তিনি আলী ও উন্মে আয়মনের সাক্ষ্য বাতিল করে দিয়েছিলেন। এ বাতিলের ক্ষেত্র হিসাবে তিনি উল্লেখ করলেন যে, একজন পুরুষ ও একজন মহিলার সাক্ষ্য পরিপূর্ণ সাক্ষ্য হয় না। এছাড়াও ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন ফাতিমার বক্তব্যের সপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু পিতামাতার পক্ষে সন্তানের সাক্ষ্য এবং নাবালকের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়। উল্লেখ করে আবু বকর তা বাতিল করে দিয়েছিলেন। তারপর রাসুলের (সঃ) গোলাম রাবাহকে সাক্ষী হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু তাকেও প্রত্যাখান করা হলো (বালাজুরী”, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৩৫; ইয়াকুবী**, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ১৯৫; মাসুদী*** ৩য় খণ্ড, পৃঃ ২৩৭; আশকারী**; পৃঃ ২০৯; সামহুদী**২, ৩য় খন্ড, পৃঃ ৯৯৯-১০০১; হামাবি**** ৪খন্ড, পৃঃ ২৩৯; DBDBSAS BDg ggS KD BBS BBD DDD DDS BS rDD BBDS K DDDS BBBSzS BDB BgS K BDS রাজী***, ২৯তম খণ্ড, পৃঃ ২৮৪)। এ পর্যায়ে একটা বিষয় বিবেচনার দাবি রাখে— তা হলো এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, ফাদক ফাতিমার দখলে ছিল এবং আমিরুল মোমেনিন ও তার পত্রে উল্লেখ করেছেন, “ফদক আমাদের দখলে ছিল।” এ ক্ষেত্রে সাক্ষী উপস্থাপন করতে বলাটা কোন অর্থবহ কথা নয়; এটা জুলুম করে অন্যের সম্পত্তি দখল করার তালবাহানা মাত্র। কারণ যার দখলে আছে তার সাক্ষী উপস্থাপন করার কোন প্রয়োজন নেই—বরং যে দখলকারীকে উচ্ছেদ করতে চায় তার দাবির জন্যই সাক্ষীর প্রয়োজন। কাজেই ফাতিমার সম্পত্তি দখল করার জন্য আবু বকরের সাক্ষী উপস্থাপন করা আইন সিদ্ধ ছিল। যেহেতু আবু বকর এমন কোন প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন নি সেহেতু ফদকে ফাতিমার মালিকানাই আইনের দৃষ্টিতে সঠিক। কাজেই আরো সাক্ষী বা প্রমাণ হাজির করার জন্য তাকে বলাটা অন্যায় বই কিছু নয়।
এটা একটা অবাক করা বিষয় যে, আবু বকরের কাছে অনেকেই একই ধরণের অনেক দাবি পেশ করেছিল। তিনি কোন সাক্ষী প্রমাণের প্রশ্ন না তুলেই দাবিদারকে তাদের দাবিকৃত সম্পত্তি দিয়েছিলেন। অথচ ফাতিমার বেলায় তিনি এসব তালবাহানা করে তাদেরকে দুঃখ-কষ্টে নিপতিত করেছিলেন। এ বিষয়ে হাদিসবেত্তাগণ
লেখেছেনঃ জাবির ইবনে আবদিল্লাহ আনসারী থেকে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহর রাসুল বলেছেন যে, যখন
বাহরাইন হতে যুদ্ধ লব্ধ মাল পৌছবে তখন জাবির অমুক অমুক জিনিসগুলো পাবে । কিন্তু রাসুলের ওফাতের পূর্বে সে মাল এসে পৌছায় নি। আবু বকরের খেলাফত কালে তা মদিনীয় পৌছালে জাবির আবু বকরের কাছে গিয়েছিল । তখন আবু বকর ঘোষণা করলো যে, রাসুলের বিরুদ্ধে যাদের কোন দাবি-দাওয়া আছে অথবা রাসুল যদি কাউকে কোন প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন সে যেন তার দাবি নিয়ে আসে । এতে জাবির বললো, রাসুল (সঃ) আমাকে অমুক অমুক মালগুলো দেয়ার কথা বলেছিলেন / আবু বকর বাহরাইনের যুদ্ধলব্ধ মাল হতে জাবিরকে তা দিয়েছিলেন (বুখারী***, ৩য় খন্ড, পৃঃ ১১৯, ২০৯, ২৩৬, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১১০: ৫ম খণ্ড, পৃঃ ২১৮. নায়সাবুরী *”, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৭৫-৭৬: তিরমিজী”, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ১২৯, হাম্বল ***, ৩: খণ্ড, পৃঃ ৩০৭- ৩০৮ সাদ’, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৮৮-৮৯) । এ হাদিসের ব্যাখ্যায় আসকালানী ( হিঃ ৭৭৩/ ১৩৭২ – ৮৫২/১৪৪৯) এবং হানাফী (৭৬২/ ১৩৬১ – ৮৮৫/ ১৪৫১) লেখেছেনঃ এ হাদিস থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, শুধুমাত্র একজন সাহাবের সাক্ষ্য পূর্ণ সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করা জায়েজ-এমনকি যদি সে সাক্ষ্য তার নিজের স্বাৰ্থ রক্ষা করার জন্যও হয় । কারণ আবু বকর জাবিরকে তার দাবির স্বপক্ষে কোন সাক্ষী হাজির করতে বলেন নি (আসকালানী**’, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৩৮০; হানাফী’, ১২শ খণ্ড, পৃঃ ১২১) । এখন প্রশ্ন হলো কোন সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থিত না করেই যখন জাবিরের দাবিকৃত সম্পদ তাকে দেয়া হয়েছে তখন ফাতিমার দাবিকৃত সম্পত্তি একইভাবে ফেরত দিতে কিসে আবু বকরকে বাধা দিয়েছিল? জাবিরের প্রতি তার যদি এমন ধারণা হয়ে থাকে যে, সে মিথ্যা বলে স্বীয় স্বাৰ্থ উদ্ধার করবে না; তবে ফাতিমার প্রতি তার এ ধারণা গ্রহণে কিসে তাকে বাধাগ্রস্থ করেছে যে, ফাতিমা এক টুকরা জমির জন্য রাসুল করিম (সঃ) সম্বন্ধে মিথ্যা বলতে পারে না। ফাতিমার সর্বজন স্বীকৃত সত্যবাদীতা ও সততাই তো তাঁর দাবির সত্যতা সম্পর্কে যথেষ্ট ছিল। তবু আবু বকরের সন্তুষ্টির জন্য তিনি আলী ও উম্মে আয়মনের মতো সম্মানিত সাক্ষী উপস্থিত করেছিলেন। একথা বলা হয়ে থাকে কুরআনের নিম্নের আয়াতের নীতির অনুসরণে ফাতিমার দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল ? দুজন পুরুষ সাক্ষী রাখবো; দুজন পুরুষ সাক্ষী পাওয়া না গেলে একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষী রাখবো / (কুরআন ২ঃ ২৮২) কুরআনের উক্ত নীতি যদি সর্বক্ষেত্রে সার্বজনীন হয়ে থাকে। তবে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই এর প্রয়োগ থাকবে। কিন্তু একদিন একজন আরববাসী রাসুলের সাথে একটি উটি নিয়ে বিরোধ করে। এতে খুজায়মা ইবনে ছবিত আনসারী রাসুলের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করলেন। এই একজনের সাক্ষকে দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করা হয়েছিল। কারণ তার সততা ও সত্যবাদীতা সম্পর্কে কারো কোন প্রকার সংশয় ছিল না। এ কারণেই রাসুল (সঃ) তাকে “জুশ শাহাদাতাইন” (দুজন সাক্ষীর সমান) উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন (বুখারী*০২, ৪র্থ খন্ড, পৃঃ ২৪; ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ১৪৬; তায়ালিসী৭৮, ৩য় খন্ড, পৃঃ ৩০৮; নাসাঈ**, ৭ম খন্ড, পৃঃ ৩০২; হাম্বল’৬৮, ৫ম খন্ড, পৃঃ ১৮৮, ১৮৯, ২১৬; বার”, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৪৪৮; আইট্র’, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১১৪; সোনানী***, ৮ম খণ্ড, পৃঃ ৩৬৬-৩৬৮)। ফলত এ ব্যবস্থার কারণে আয়াতটির সাধারণত্ব প্রভাবিত হয় নি বা এটা সাক্ষ্য সংক্রান্ত বিধানের বিপরীত কিছু নয়। সুতরাং রাসুলের মতানুসারে সত্যবাদিতা গুণের জন্য একজন সাক্ষীকে দুজন সাক্ষীর সমান ধরে নেয়া হয়ে থাকে। তাহলে ফাতিমার পক্ষে আলী ও উন্মে আয়মনের সাক্ষ্য কি তাদের নৈতিক মহত্ত্ব ও সত্যবাদিতার জন্য যথেষ্ট ছিল না? এছাড়া, উক্ত আয়াতে এ দুপথ ছাড়া দাবি প্রতিষ্ঠিত করার আর কোন পথ উল্লেখ করা হয় নি। এ বিষয়ে কাজী নুরুল্লা মারআশী (৯৫৬/১৫৪৯ – ১০১৯ / ১৬১০) লেখেছেনঃ উম্মে আয়মনের সাক্ষ্য অসম্পূর্ণ বলে যারা প্রত্যাখ্যান করেছে তারা প্রকৃতপক্ষে ভুল করেছে। কারণ কোন কোন হাদিসে দেখা যায়। একজন সাক্ষীর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্ৰদান করা বৈধ এবং তাতে কুরআনেয়া নির্দেশ ভঙ্গ হয়েছে বলে মনে করা হয় নি । কারণ এ আয়াতের গুঢ়াৰ্থ হলো দুজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষীর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে এবং তাদের সাক্ষ্যই যথেষ্ট । এ কথা দ্বারা এটা বুঝায় না যে, যদি সাক্ষীর সাক্ষ্য ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্র থেকে থাকে তা গ্ৰহণীয়া হবে না এবং সে ভিত্তিতে রায় দেয়া যাবে নাএটাই হচ্ছে আয়াতটির মূলভাব । কোন কিছুর ভাবাৰ্থ চূড়ান্ত যুক্তি নয় । তাই এ ভাবাৰ্থও গ্রাহ্য করা যায় না / বিশেষ করে হাদিস এর বিপরীত ভাবে ব্যক্তি করেছে / এ ভাবার্থকে এড়িয়ে গেলে তা আয়াত অমান্য করা বুঝায় না । দ্বিতীয়ত আয়াতটি দুটি বিষয়ের যে কোনটি বেছে নেয়ার অনুমতি দিয়েছে । তা হলো দুজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী । যদি হাদিস দ্বারা তৃতীয় একটি বিষয় বেছে নেয়ার জন্য যোগ করা হয় তবে তাতে কি করে কুরআনের আয়াত লজ্যিত হয়েছে বলা যাবে? যাহোক এতে বুঝা যাচ্ছে যে, দাবিদার দুজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ ও দুজন নারী সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত করতে বাধ্য নয়। কারণ যদি কোন দাবিতে কোন সাক্ষী না থেকে থাকে তাহলে আল্লাহর নামে শপথ করে। বললেই তার দাবি আইনসিদ্ধ হবে এবং তার অনুকূলে সিদ্ধান্ত দেয়া যাবে। এতদসংক্রাক্ত বিষয়ে ১২ জনের অধিক সাহাবা বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসুল শপথ গ্ৰহণ পূর্বক একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ করতেন / রাসুলের (সঃ) কতিপয় সাহাবা ও জুরিসপ্রক্সডেন্সের কতিপয় পণ্ডিত ব্যক্তি ব্যাখ্যা করেছেন যে, এ সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে অধিকার, সম্পদ ও লেনদেনের সাথে সম্পৃক্ত এবং এ সিদ্ধান্ত আবু বকর, উমর, উসমান খলিফাত্ৰিয়ও মেনে চলতেন (নায়সাবুরী”, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ১২৮; তায়ালিসী৭৮, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩০৮-৩০৯; তিরমিজী’, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৬২৭-৬২৯; মাযাহ’, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৭৯৩; হাম্বল”, ১ম খণ্ড , পৃঃ ২৪৮, ৩১৫, ৩২৩; ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩০৫; ৫ম খণ্ড ২৮৫; আনাস, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৭২১-৭২৫; শাফী***, ১০ম খণ্ড, পৃঃ ১৬৭-১৭৬; কুন্তি’, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ২১২-২১৫; শাফী*২৮, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ২০২; হিন্দি৬৭, ৭ম খণ্ড, পৃঃ ১৩)। যেখানে শপথ করে সাক্ষ্য দিলে একজন সাক্ষীর ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দেয়ার বিধান রয়েছে সেক্ষেত্রে যেহেতু আবু বকরের দৃষ্টিতে ফাতিমার উপস্থাপিত সাক্ষী অসম্পূর্ণ ছিল, সেহেতু তিনি ফাতিমার শপথ নিয়ে তাঁর অনুকূলে রায় দিতে পারতেন। কিন্তু এখানে মূল উদ্দেশ্যই ছিল ফাতিমাকে বঞ্চিত করে আলী পরিবারকে অভাব অনটনে নিপতিত করা এবং ফাতিমার সত্যবাদিতাকে কলঙ্কিত করা যাতে করে ভবিষ্যতে তার প্রশংসা চাপা পড়ে যায়। যাহোক যখন রাসুলের দানের ভিত্তিতে ফাতিমার দাবি এসব তালবাহানা করে বাতিল করে দেয়া হয়েছিল তখন তিনি দাবি করলেন যে, রাসুলের উত্তরাধিকারিণী হিসাবে তিনিই ফন্দকের মালিক। এ বিষয়ে ফাতিমা বলেছিলেন ? যদিও আপনি রাসুলের দানকে অস্বীকার করছেন, কিন্তু ফাদক ও খাইবারের রাজস্ব এবং মদিনার কাছে কিছু জমি যে রাসুলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি একথা অস্বীকার করতে পারবেন না । কাজেই আমিই রাসুলের একমাত্র উত্তরাধিকারিণী । কিন্তু আবু বকর নিজেই একটি হাদিস ব্যক্তি করে ফাতিমার উত্তরাধিকারিতু অস্বীকার করলেন । তিনি বললেন রাসুল বলেছেন, “আমরা নবিগণের কোন উত্তরাধিকারী নেই; আমরা যা কিছু রেখে যাই তার সবই জাকাত হিসাবে বায়তুল মালা” । SBtBtS 0O BODOBS S EBrS DDBD BDgS S DDS DDS AirS AA0S EY BDDBS G G 0JJS নায়সাবুরী”, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ১৫৩-১৫৫ তিরমিজী’, ৪র্থ খণ্ড পৃঃ ১৫৭-১৫৮; তায়ালিসী’, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ১৪২- ১৪৩: নাসাঈ’, ৭ম খণ্ড, পৃঃ ১৩২; হাম্বল”, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৪, ৬, ৯, ১০: শীর্ষকী*২৫, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ৩০০; সাদ” ২য় খণ্ড, পৃঃ ৮৬-৮৭; তাবারী’, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৮২৫ বাকরী, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১৭৩- ১৭৪) | আবু বকর ছাড়া রাসুলের এহেন উক্তি আর কারো জানা ছিল না। এমনকি সাহাবাদের মধ্যে আর কেউ এমন কথা শোনেনি। জালালুদ্দিন আবদার রহমান সুয়ুতী (৮৪৯/১৪৪৫- ৯১১/১৫০৫) এবং শিহাবুদ্দিন ইবনে হাজর হায়তামী (৯০৯/১৫০৪- ৯৭৪/১৫৬৭) লেখেছেনঃ রাসুলের (সঃ) মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল । আৰু বকর বলেছিলেন যে, রাসুল (সঃ) নাকি তাকে বলেছিলেন, “আমরা অর্থাৎ নবিদের কোন উত্তরাধিকারী নেই এবং আমরা যা কিছু রেখে যাই সবই যাকাত হয়ে যায়৷ ৷ ” এ বিষয়ে অন্য কেউ কোন কিছুই জ্ঞাত ছিলেন না (সুয়ুতী***, পৃঃ ৭৩ হায়তামী*৬৬, পৃঃ ১৯১১) / কোন বিচার বুদ্ধি সম্পন্ন হৃদয় এ কথা বিশ্বাস করতে পারবে না যে, যারা রাসুলের ওয়ারিশ ছিলেন তাদের কাউকে কিছু না বলে তৃতীয় ব্যক্তির নিকট বলে গেছেন যে তাঁর কোন উত্তরাধিকারী নেই এবং সব চাইতে বিস্ময়কর হলো এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সম্বন্ধে সাহাবাগণ অবহিত ছিলেন না। আর এটা তখনই প্রকাশ করা হলো যখন ফাতিমা ফদক ফেরত দেয়ার জন্য দাবি করলেন যাতে আবু বকর ছিলেন বিরোধী পক্ষ। এ অবস্থায় তার নিজের অনুকূলে এমন এক হাদিস বর্ণনা করলেন যা আর কারো জানা ছিল না। কিভাবে এ হাদিসটি গ্রহণীয় হতে পারে। যদি একথা বলা হয় যে, আবু বকরের মহৎ মর্যাদার কারণে এ হাদিসটি নির্ভরযোগ্য তাহলে ফাতিমার সত্যবাদীতা, সততা ও মহৎ মর্যাদার কারণে কেন রাসুলের দান সংক্রান্ত তাঁর দাবি বিশ্বাস করা হলো না? তাছাড়া আমিরুল মোমেনিন ও উন্মে আয়মনের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। যদি ফাতিমার দাবির জন্য আরো সাক্ষীর প্রয়োজনীয়তা থেকে থাকে তা হলে এ হাদিসটি প্রমাণের জন্যও অবশ্যই সাক্ষীর প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এ হাদিস উত্তরাধিকার সংক্রান্ত কুরআনের সাধারণ নির্দেশের পরিপন্থী। নবিদের উত্তরাধিকার সম্বন্ধে কুরআনে বর্ণিত ठू८शCछ8
এবং সোলায়মান ছিল দাউদের উত্তরাধিকারী (২৭ ? ১৬) । সুতরাং তোমরা নিজের থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দাও যে আমার উত্তরাধিকারী হবে এবং ইয়াকুবের পরিবারের উত্তরাধিকারী হবে-বললেন জাকারিয়া (১৯ ? ৫ – ৬) । – উপরোক্ত আয়তগুলোতে ভৌত সম্পদের উত্তরাধিকারকেই বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন এসব আয়াতে নবুয়তের জ্ঞানের উত্তরাধিকারকে বুঝানো হয়েছে। এটা একটা অসাড় যুক্তি এবং বাস্তব বিবর্জিত কথা। কারণ নবিদের জ্ঞান উত্তরাধিকারের বস্তু হতে পারে না এবং এটা উত্তরাধিকারের মাধ্যমে হস্তান্তরযোগ্য নয়। এমনটি হলে সকল নবির বংশধরগণ নিবি হতেন। সেক্ষেত্রে কোন কোন নবির পুত্র নবি হয়েছিলেন এবং অন্যরা এটা থেকে বঞ্চিত হয়েছে— এরূপ ব্যবধানের কোন অর্থ থাকতো না। নূরুদ্দিন ইবনে ইব্রাহিম হালাবি (৯৭৫/ ১৫৬৭-১০৪৪/ ১৬৩৫) তাঁর গ্রন্থে শামসুদ্দিন ইউছুফ হানাফীর (৫৮১/ ১১৮৫- ৬৫৪/ ১২৫৬) উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেনঃ আবু বকর একদিন মিম্বারে বসা ছিলেন । এমন সময় ফাতিমা তার কাছে এসে বললেন, “হে আবু বকর, কুরআন আপনার কন্যাকে আপনার উত্তরাধিকারী করেছে অথচ আপনি আমাকে আমার পিতার উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত করেছেন।” একথা শোনামােত্রই আবু বকর কাঁদতে কাঁদতে মিষ্কার থেকে নেমে পড়লেন । তারপর তিনি ফাতিমার অনুকূলে ফদক লেখে দিলেন । এ সময় উমর সেখানে উপস্থিত হয়ে ওটা কী জানতে চাইলেন । প্রত্যুত্তরে আবু বকর বললেন, “এটা একটা দলিল যাতে আমি লেখে দিয়েছি যে, ফাতিমা তাঁর পিতার উত্তরাধিকারিণী /” উমর বললো, “তুমি দেখছো আরবগণ তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে এ দলিল দিলে মুসলিমদের জন্য কোথা থেকে তুমি ব্যয় করবে ।” তারপর উমর ফাতিমার হাত থেকে দলিল খানা নিয়ে ছিড়ে ফেললেন (শাফী’, ৩য় খণ্ড, ?? రిe- లివ) | একটু চিন্তা করলেই বুঝা যায় হাদিসটি ছিল ভুল এবং ফাতিমাকে ফদক ও রাসুলের (সঃ) অন্যান্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্যই এ হাদিস উদ্ভাবন করা হয়েছে। ফলে ফাতিমা এসব তালবাহানার জন্য আবু বকর ও উমরের উপর তার রাগের বহিঃপ্রকাশ হিসাবে আছিয়াত করে দিলেন যে, এ দুজন যেন তার জানাযায় অংশ গ্ৰহণ না করে। আয়শা বর্ণনা করেছেনঃ রাসুলের (সঃ) দেহত্যাগের পর আবু বকর যখন খলিফা হলেন তখন ফাতিমা রাসুল (সঃ) কর্তৃক তাজ্যবৃত্ত—ফদক এবং মদিনা ও খাইবারের এক পঞ্চমাংশ বার্ষিক আয়ের উত্তরাধিকার দাবি করলেন / আবু বকর ফাতিমাকে এর কোন কিছু দিতে রাজি হলেন না । তখন থেকে ফাতিমা আবু বকরের ওপর রাগান্বিত ছিলেন এবং তাকে পরিত্যাগ করলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত কখনো আবু বকরের সাথে কথা বলেন নি । যখন তিনি ইনতিকাল করলেন তখন তাঁর স্বামী আলী ইবনে আবি তালিব রাত্রিকালে তাঁকে দাফন করলেন । তিনি আবু বকরকে ফাতিমার মৃত্যুর খবর দেন নি এবং জানাযা করার জন্যও ডাকেন নি। (বুখারী*^, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ১৭৭; ৮ম খণ্ড, পৃঃ ১৮৫: নায়সাবুরী”, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ১৫৩-১৫৫. শাফী’২৭, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ২৯, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ৩০০-৩০১: সাদ^** ২য় খণ্ড, পৃঃ ৮৬ হাম্বল’৬৮, ১ম খণ্ড, পৃঃ ৯; তাবারী*, ১ম DDgS S AJDDS BS DDB BDS DDDES gJJS BBS BuD BgS MSM 00S সামহুদী***, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৯৯৫) { এ সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনে জাফরের কন্যা উন্মে জাফর থেকে বর্ণিত আছে যে, ফাতিমা আসমা বিনতে উমায়েসকে অনুরোধ করেছিলেন, “আমি মৃত্যুবরণ করলে তুমি ও আলী আমাকে গােসল করাবে এবং আমার ঘরে প্রবেশ করে কাউকে আমার কাছে যেতে দিয়ো না।” যখন ফাতিমা মৃত্যুবরণ করলেন তখন আয়শা তার ঘরে ঢুকতে চাইলো কিন্তু আসমা বললেন, “ঘরে ঢুকবেন না।” এতে আয়শা রাগান্বিত হয়ে তার পিতা আবু বকরের নিকট অভিযোগ করে বললেন, “এ খাছামিয়্যা (কাছাম গোত্রের মহিলা অর্থাৎ আসমা) আমাদের ও আল্লাহর রাসুলের কন্যার মধ্যে নাক গলায়।” এতে আবু বকর এসে দুয়ারে দাঁড়িয়ে বললেন, “হে আসমা, রাসুলের স্ত্রীকে তাঁর কন্যার ঘরে প্রবেশ করতে কী কারণে তুমি বাধা দিলে?” প্রত্যুত্তরে আসমা বললেন, “তিনি নিজেই আমাকে আদেশ দিয়েছিলেন যেন কাউকে তার কাছে যেতে না দেই।” তখন আবু বকর বললেন, “তিনি তোমাকে যা করতে বলেছেন তা-ই কর (ইসফাহানী”, ২য় খণ্ড, পৃঃ ৪৩; শাফী***, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩৯৬; ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৩৩৪ ; বালাজুরী”, ১ম খণ্ড, পৃ: ৪০৫; বার”, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ১৮৯৭ – ১৮৯৮; অহীর’, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৫২৪)। ফাতিমা আমিরুল মোমেনিনকে আরো অনুরোধ করেছিলেন যে, তাকে যেন রাত্রিকালে দাফন করা হয়, কেউ যেন তাঁর কাছে না আসে, আবু বকর ও উমরকে তাঁর মৃত্যু ও দাফন সম্পর্কে কিছুই যেন অবহিত করা না হয় এবং আবু বকর যেন তাঁর জানাযায় না যায়। যখন তিনি মৃত্যুবরণ করলেন আলী তাকে গোসল করালেন, রাতের অন্ধকারে দাফন করলেন এবং আবু বকর ও উমরকে এ বিষয়ে কিছু জানালেন না। মুহাম্মদ ইবনে উমর ওয়াকিদি (s७०/१8१- २०१/b*२७) द6व्न0छ्न्। 8 আমাদের কাছে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, আলী নিজেই ফাতিমার জানাজা করেছিলেন এবং আব্বাস ইবনে আবদাল মুক্তালিব ও তার পুত্ৰ ফজলকে সঙ্গে করে রাত্রিকালে তাঁকে দাফন করেছিলেন । এ বিষয়ে তিনি কাউকে কিছু জানান নি । এ কারণে ফাতিমার মাজার শরিফ অজ্ঞাত ও গুপ্ত রয়ে গেছে— তার মাজার শরিফ সম্পর্কে কেউ কোন সুনিশ্চিত স্থান বলতে পারে না (নায়সাবুরী**, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ১৬২ – ১৬৩; সানানী*** ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ২১৪১; বালাজুরী”, ১ম খন্ড, পৃঃ ৪০২-৪০৫; বার”, ৪র্থ খন্ড, পৃঃ ১৮৯৮; আইট্র’, ৫ম খন্ড, পৃঃ ৫২৪-৫২৫; হাজর***, ৪র্থ খন্ড, পৃঃ ৩৭৯-৩৮০; তাবারী*, ৩য় খন্ড, পৃঃ ২৪৩৫-২৪৩৬; সাদ***, ৮ম খণ্ড, পৃঃ ১৯-২০; সামহুদী***, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৯০১-৯০৫; হাদীদ*২, ১৬শ খন্ড, পৃঃ ২৭৯ – ২৮১)। ফাতিমার এ অসন্তোষ নেহায়েত ব্যক্তিগত আবেগ বলে কেউ কেউ মনে করেন। তারা প্রকৃত পক্ষে এ অসন্তোষের গৃঢ় রহস্য অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি এটা ব্যক্তিগত আবেগ হতো তাহলে আমিরুল মোমেনিন এটা থেকে তাঁকে নিবৃত্ত করতেন। কিন্তু কোন ইতিহাসে দেখা যায় না যে, আমিরুল মোমেনিন ফাতিমার অসন্তোষকে ব্যক্তিগত আবেগ বলে মনে করেছেন। তদুপরি, কী করে ফাতিমার অসন্তোষ ব্যক্তিগত আবেগ প্রবণতা হতে পারে? তাঁর সকল সন্তোষ বা অসন্তোষই আল্লাহর ইচ্ছার সাথে সম্পৃক্ত। রাসুলের নিন্মোক্ত বাণীই এর প্রমাণঃ হে ফাতিমা, নিশ্চয়ই তোমার ক্ৰোধে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হন এবং তোমার সত্যুষ্টিতে আল্লাহ সন্তুষ্ট (নায়সাবুরী**, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ১৫৩. আহীর’, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ৫২২, হাজর***, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ৩৬৬, ১২শ খণ্ড, পৃঃ ৪৪১; সুয়ন্তী**৬, ২য় খণ্ড, পৃঃ ২৬৫: হিন্দি’, ১৩শ খণ্ড, পৃঃ ৯৬; ১৬শ খণ্ড, পৃঃ ২৮০: শাকী’, ৯ম খণ্ড, পৃঃ ২০৩) |
ফাতিমার মৃত্যুর পর ফাদকের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। ঐতিহাসিক গ্ৰন্থ থেকে ফাঁদকের তিনশত বছরের ইতিহাস বর্ণনা করার পেছনে মুলত তিনটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা প্ৰদান করাই উদ্দেশ্য— (ক) আবু বকর বলেছেন রাসুল (সঃ) নাকি তাকে বলেছেন, “নবিদের পরিত্যক্ত সম্পদ তাদের ওয়ারিশগণ প্রাপ্য হন না।” এহেন অযৌক্তিক উক্তি রাসুলের নামে চালিয়ে দিয়ে যে বিধির প্রচলন করতে চেয়েছেন তা বাতিল করা। আবু বকরের এ বক্তব্য তার পরবর্তী দুজন খলিফা উমর ও উসমান কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়েছে এবং উমাইয়া ও আব্বাসীয় অন্য বাদশাগণ কর্তৃকও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। একথা মনে রাখতে হবে যে, আবু বকরের খেলাফতের বৈধতা ও সঠিকতা এবং তার কর্মকাণ্ডের ওপরই পরবর্তীগণের খেলাফতের বৈধতা ও ন্যায্যতা সম্পূর্ণরূপে নির্ভর করে। (খ) আমিরুল মোমেনিন ও ফাতিমার বংশধরগণ কখনো তাদের দাবির ন্যায্যতা, বৈধতা ও যৌক্তিকতা সম্পর্কে কোনরূপ দ্বিধাবোধ করেন নি। তাঁরা সব সময়ই সুনিশ্চিত ছিলেন যে, ফাতিমার ন্যায়সঙ্গত অধিকার আবু বকর কেড়ে নিয়েছে এবং তার বৈধ দাবি আবু বকর প্রত্যাখ্যান করেছে। কারণ ফাতিমা কখনো কোন কিছুর জন্যই মিথ্যা দাবি উত্থাপন করতে পারেন না। যদি কেউ এমনটি বলে যে, ফাতিমার দাবি মিথ্যা। তবে নিশ্চয়ই মনে করতে হবে সে (যে এমন মনে করে) মিথ্যাবাদী। (গ) যখনই কোন খলিফা আল্লাহর আদেশ কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ন্যায় বিচার করার চিন্তা করেছে এবং ইসলামিক বিধানকে সমুন্নত করার চিন্তা করেছে, তারা ফাতিমার বংশধরকে ফদক ফিরিয়ে দিয়েছে। ১ । উমর ইবনে খাত্তাব ছিলেন তাদের মধ্যে প্রথম সারির লোক যারা ফাতিমাকে তার উত্তরাধিকার ও ফাদক থেকে বঞ্চিত করার কাজে লিপ্ত ছিলেন। উমর নিজেই স্বীকার করেছেনঃ যখন আল্লাহর রাসুল ইনতিকাল করলেন তখন আমি আবু বকরকে সঙ্গে করে আলীর কাছে ভেবেছেন?” আলী বললেন, “রাসুলের সব কিছুরই একমাত্ৰ উত্তরাধিকারী আমরা ।” তখন আমি (উমর) বললাম, “খাইবারের সম্পত্তিতেও?” তিনি বললেন, “হা, খাইবারের সম্পত্তিতেও | ” আমি বললাম, “ফদকেও?” তিনি বললেন, “হা, ফাদকেও ।” তখন আমি বললাম, “আল্লাহর কসম, আমরা তা হতে দেব না। আপনি যদি করাত দিয়েও আমাদের
কেটে ফেলেন। তবুও আমরা এসব আপনাকে দেব না” (শাকী’, ৯ম খণ্ড, পৃঃ ৩৯-৪০) / পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবু বকর কর্তৃক প্রদত্ত ফাঁদকের দলিল উমর ফাতিমার হাত থেকে টেনে নিয়ে ছিড়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু উমর যখন খলিফা হলেন (১৩/৬৩৪-২৩/ ৬৪৪) তখন তিনি রাসুলের উত্তরাধিকারীদেরকে ফদক ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ও ভৌগলিক ইয়াকুত হামাবি (৫।৭৪/১১৭৮ — ৬২৬/১২২৯) লেখেছেনঃ উমর ইবনে খাত্তাব খলিফা হবার পর যখন বিজয় লাভ করলেন এবং মুসলিমগণ মোটামুটি সম্পদশালী হয়ে উঠলো এবং বায়তুল মালে জনগণের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হলো তখন তিনি তাঁর পূর্ববর্তী খলিফা আবু বকরের সিদ্ধান্ত বাতিল করে রায় দিলেন যে, ফদক রাসুলের (সঃ) উত্তরাধিকারীদের হাতে ফেরত দেয়া হলো । এবার আলীর সঙ্গে আব্বাস ইবনে আবদাল মৃত্তালিব ফাদক নিয়ে বিরোধ করলো / আলী বললেন যে, রাসুল (সঃ) তাঁর জীবদ্দশাতেই ফাতিমাকে ফাদক দান করে দিয়েছেন | আব্বাস তা অস্বীকার করে বললেন ফদক রাসুলের (সঃ) দখলে ছিল এবং আমি তাঁর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে একজন / তারা বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উমরের শরনাপন্ন হলো । কিন্তু উমর বিচার করতে অপারগতা প্ৰকাশ করে বললেন, “আপনারা উভয়েই আমার চেয়ে আপনাদের সমস্যা সম্পর্কে অনেক বেশি। ওয়াকিফহাল / আমি শুধু আপনাদেরকে ফদক দিলাম / আপনাদের সমস্যা আপনারা নিষ্পত্তি করুন।” (হামাবি***, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ২৩৮-২৩৯; সামহুদী***, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৯৯৯; আজহারী’, ১০ম খণ্ড, পৃঃ ১২৪; মনজুর***, ১০ম খণ্ড, পৃঃ ৪৭৩: জাবিন্দী’, ৭ম খণ্ড, / (یا باید از:2y ওপরে বর্ণিত ইতিহাস থেকে বুঝা যায় যে, আবু বকর ও উমর কোন ধমীয় কারণে ফদক থেকে ফাতিমাকে বঞ্চিত করে তা আত্মসাৎ করেন নি। শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে তারা এটা করেছেন। যখন খেলাফতে তাদের আসন শক্তিশালী হয়েছে তখনই উমর তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফাদক ফেরত দেয়ার রায় দিয়েছিল। আমিরুল মোমেনিনকে অর্থনৈতিক অসচ্ছলতায় রাখতে পারলে খেলাফত দখল কিছুটা নির্বিয় থাকবে বলে তারা এমনটি করেছেন। প্রকৃত পক্ষে হয়েছেও তাই। ২। উমরের পর যখন উসমান ইবনে আফফান (২৩/ ৬৪৪ – ৩৫/৬৫৬) খলিফা হলেন, তিনি তার চাচাত ভাই মারওয়ান ইবনে হাকামকে ফদক দিয়েছিলেন (শাফী***, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃঃ ৩০১; সামহুদী***, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ১০০০; হাদীদ’, ১ম খণ্ড, পৃঃ ১৯৮)। উসমানের এহেন স্বজন গ্ৰীতিই তার প্রতি জনগণের কঠোর মনোভাবের অন্যতম কারণ যা তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে শেষ হয় (কুতায়বা”, পৃঃ ১৯৫; রাব্বিহ”, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ২৮৩ ও ৪৩৫; ফিন্দা”, ১ম খণ্ড, १8 S७b”; ওয়ারদী”, ১ম খণ্ড, পৃঃ ২০৪)। এভাবে ফন্দক মারওয়ানের দখলে চলে যায়। সে তার ফসল ও উৎপন্ন দ্রব্য বার্ষিক দশ হাজার দিনার ঠিকা চুক্তিতে বিক্রি করতো। উমর ইবনে আবদাল আজিজের খেলাফতের (হিঃ ৯৯/৭১৭ খৃঃ) পূর্ব পর্যন্ত এটাই ছিল ফদকের স্বাভাবিক আয় (সা’দ’, ৫ম খণ্ড, পৃঃ ২৮৬ – ২৮৭; কালকাশন্দি’, ৪র্থ খণ্ড, পৃঃ ২৯৯)। ৩। যখন মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান খেলাফত দখল করলো। (৪১/ ৬৬১ – ৬০/ ৬৮০) তখন সে মারওয়ান ও অন্যান্যদের সাথে ফাঁদকের অংশীদার হলো। সে এক তৃতীয়াংশ মারওয়ানকে দিতো, এক তৃতীয়াংশ আমর ইবনে উসমান ইবনে আফফানকে দিতো এবং এক তৃতীয়াংশ তার পুত্র ইয়াজিদকে দিতো। হাসান ইবনে
আলীকে হত্যা করানোর পর থেকেই সে এ ব্যবস্থা নেয় (ইয়াকুবী’, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১৯৯)। রাসুলের (সঃ) আহলুল বাইতের এ প্রধান তিন বিরোধীর দখলে মারওয়ান খলিফা হবার (৬৪/ ৬৮৪ – ৬৫ / ৬৮৫) পূর্ব পর্যন্ত ফদক ছিল। তারপর মারওয়ান তার পুত্র আবদাল মালিক ও আবদাল আজিজকে ফাদক দান করে দিয়েছিলো। আবদাল আজিজ তার অংশ তার পুত্র উমর ইবনে আবদাল আজিজকে দান করে দিয়েছিলো। ৪ । যখন উমর ইবনে আবদাল আজিজ খলিফা হলেন (৯৯/ ৭১৭-১০১/ ৭২০) তিনি একটা বক্তৃতা দিয়ে বললেন, “নিশ্চয়ই, ফাদক ওই সব জিনিসের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ তাঁর রাসুলকে দান করেছিলেন। ফাদকের জন্য কোন লোককে যুদ্ধ করতে হয় নি, কোন ঘোড়া বা উট পরিচালিত হয় নি।” তিনি ফাদকের অতীত ইতিহাস বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন, মারওয়ান আমার পিতা ও আবদাল মালিককে ফদক দিয়েছে। ফলে এটা আমার এবং ওয়ালিদ ও সুলায়মানের হয়েছে। যখন ওয়ালিদ খলিফা হলো (৮৬/৭০৫-৯৬/৭১৫) তখন সে তার অংশ আমাকে দিয়েছিল এবং সুলায়মানও তার অংশ আমাকে দিয়েছে। ফলে আমি সম্পূর্ণ ফাঁদকের মালিক হয়েছি। আমার কাছে ফাদক অপেক্ষা পছন্দীয় আর কোন সম্পদ নেই। তবুও তোমারা সাক্ষী থাক, আমি প্রকৃত ইবনে হাজমকে লিখিতভাবে আদেশ দিলেন ফাদক যেন ফাতিমার বংশধরগণকে হস্তান্তর করা হয়। এটাই ছিল
আলীর সন্তানদের দখলে প্রথমবারের মতো ফদক ছেড়ে দেয়া (আসকারী’, পৃঃ ২০৯)।
৫ । যখন ইয়াজিদ ইবনে আবদাল মালিক খলিফা হলো (১০১/৭২০ – ১০৫/ ৭২৪) সে আলীর সন্তানদেরকে বেদখল করে পুনরায় ফাদক আত্মসাৎ করলো। এরপর হতেই ফদক বনি মারওয়ানের দখলে রয়ে গেল যে পর্যন্ত না বনি আব্বাস ক্ষমতা দখল করলো। ৬ । যখন আবুল আব্বাস আবদুল্লাহ সাফফা প্রথম আব্বাসিয় খলিফা হলো (১৩২/৭৪৯-১৩৬/৭৫৪) তখন তিনি ফাতিমার বংশধরদের ফদক ফিরিয়ে দিলেন এবং আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের হাতে ফাদক ন্যস্ত করলেন। ৭ । যখন আবু জাফর আবদুল্লাহ আল-মনসুর আদ দাওয়ানিকি (১৩৬/৭৫৪-১৫৮/৭৭৫) খলিফা হলেন তিনি হাসানের সন্তানদের কাছ থেকে ফাদক কেড়ে নিয়ে গেলেন। ৮। যখন মুহাম্মদ মাহদী ইবনে মনসুর খলিফা হলেন (১৫৮/ ৭৭৫-১৬৯/৭৮৫) তিনি ফাতিমার সন্তানদের কাছে ফাদক ফেরত দিলেন । ৯। তারপর মুসা হাদী ইবনে মাহদী (১৬৯/৭৮৬) এবং তাঁর ভ্রাতা হারুন অর-রশিদ (১৭০/ ৭৮৬ -১৯৩/ ৮০৯) ফাতিমার বংশধরদের কাছ থেকে ফদক কেড়ে নিয়ে যায়। মামুন খলিফা হওয়া পর্যন্ত (১৯৩/ ৮০৩ – ২১৮ / ৮৩৩) ফদক আব্বাসিয়দের দখলে ছিল। ১০। মামুন খলিফা হবার পর ফাতিমার বংশধরদের হাতে (২১০/৮২৬ সনে) ফদক ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। মাহদী ইবনে আস-সাবিক লেখেছেনঃ একদিন মামুন জনগণের নালিশ শুনতে এবং মামলার রায় প্রদান করতে বসেছিলেন । তাঁর কাছে উপস্থাপিত প্রথম নালিশটির প্রতি তাকিয়ে তিনি কেন্দে ফেললেন । তিনি জিজ্ঞেস করলেন রাসুলের (সঃ) কন্যা ফাতিমার এ্যাটানি কোথায়? একজন বৃদ্ধ দাড়িয়ে এগিয়ে এলেন এবং ফাদক সম্পর্কে যুক্তিতর্ক পেশ করলেন । মামুন ও তাঁর যুক্তিতর্ক ব্যক্তি করলেন। কিন্তু বৃদ্ধের যুক্তি অনেক জোরালো ছিল (আসকারী *, পৃঃ ২০৯) । মামুন তখন ইসলামিক ফকিদের তলব করলেন এবং ফাতিমি বংশের দাবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তারা বর্ণনা দিল যে, রাসুল (সঃ) ফাতিমাকে ফাদক দান করেছিলেন। রাসুলের দেহত্যাগের পর ফাতিমা ফাদক ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আবু বকরের কাছে দাবি করেছিলেন। আবু বকর তার দাবির স্বপক্ষে সাক্ষী হাজির করার জন্য বললে আলী, হাসান, হুসাইন ও উন্মে আয়মন ফাতিমার দাবির সত্যতা স্বীকার করে সাক্ষ্য প্রদান আয়মন সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কী?” তারা সকলে এক বাক্যে বললো, “তিনি এমন মহিলা ছিলেন যার বেহেশতবাসী হবার নিশ্চয়তার ঘোষণা রাসুল (সঃ) দিয়েছিলেন।” তখন মামুন ফকিদের বললেন, “আলী, হাসান, হুসাইন ও উন্মে আয়মনের সাক্ষ্য শুধু সত্য ছাড়া অন্য কিছু এমন প্রমাণ কি তোমাদের মধ্যে কেউ উপস্থাপন করতে পারবো?” তারা সকলে সর্বসম্মতিক্রমে বললো “এমন কোন প্রমাণ উপস্থাপন করা কারো পক্ষে
সম্ভব নয়।” এরপর তিনি ফাতিমার বংশধরগণকে ফদক ফিরিয়ে দিলেন। (ইয়াকুবী’, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ১৯৫-১৯৬)। এরপর মামুন ফাতিমার বংশধরগণকে ফাদক রেজিষ্ট্রি করে দেয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন এবং তিনি নিজেই জেনে রাখো, আল্লাহর দ্বিনের খলিফা হিসাবে আমাকে যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে সে ক্ষমতা বলে এবং রাসুলের স্বজন ও উত্তরাধিকারী হিসাবে সুন্নাতুন্নেবি অনুসরণ করা ও তাঁর আদেশ বাস্তবায়ন করা আমার পরম দায়িত্ব / রাসুলের (সঃ) কোন দান প্রাপককে ফেরত দেয়া আমার পরম দায়িত্ব । আমার কৃতকার্যতা ও নিরাপত্তা আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল এবং আমি সর্বদা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উদ্বিগ্ন । আমি সর্বািন্তকরণে বিশ্বাস করি, নিশ্চয়ই, রাসুল (সঃ) তাঁর প্রাণপ্রিয় কন্যাকে ফাদক দান করেছিলেন এবং ফাদকের মালিকানা ফাতিমার নিকট হস্তাত্তর করেছিলেন । এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য | রাসুলের জ্ঞাতিবর্গের কেউ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করে না । ফাতিমা সর্বদা ফদক দাবি করেছিলেন । তাঁর দাবি আবু বকরের বক্তব্য অপেক্ষা অধিক যুক্তিগ্রাহ্য । খলিফা হিসাবে আমি ফাতেমা বংশের হাতে ফদক ফিরিয়ে দেয়াই ন্যায় সঙ্গত ও যথাযথ মনে করি । ন্যায় বিচার ও সত্য প্রতিষ্ঠিত করে খলিফা আল্লাহর নৈকট্য পাবার আশা রাখে । রাসুলের আদেশ কার্যকর করে তাঁর প্রশংসা পাবার আশা রাখে । কাজেই আমি ফািদক রেজিষ্টি করে ফাতোমি বংশকে ফেরত দিলাম / আমার এ আদেশ সকল কর্মচারীকে জানিয়ে দিয়ো | হজের সময় জনগণ যখন মক্কায় জমায়েত হয় তখন প্রচার করে দিয়ো যদি রাসুল (সঃ) কাউকে কিছু দান অথবা উপহার দেয়ার কথা বলে থাকেন তবে সে যেন আমার কাছে আসে । তার বক্তব্য গ্ৰহণ করা হবে এবং তাকে প্রতিশ্রুত বস্তু দেয়া হবে / নিশ্চয়ই, রাসুল (সঃ) কর্তৃক ফাতিমাকে ফদক দানের বিষয়ে ফাতিমার বক্তব্য সর্বাপেক্ষা গ্ৰহণযোগ্য ৷ নিশ্চয়ই, আমি ফাতিমার বংশধরকে ফদক বুঝিয়ে দেয়ার জন্য মুবারক আতিতাবারীকে আদেশসহ পাঠালাম । সে ফাদকের সকল সীমানা, সকল স্বত্ব, সকল কর্মচারী, সকল শস্য ও অন্য সব কিছুসহ তা মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহিয়া ইবনে হাসান ইবনে জায়েদ ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবকে বুঝিয়ে দেবে / আমি, খলিফা, এ দুজনকে ফাতিমার বংশধরের সকল স্বত্বাধিকারীগণের এজেন্ট নিয়োগ করলাম / জেনে রাখো, এটাই খলিফার আদেশ । আল্লাহর আদেশ পালন করে তাঁর ও রাসুলের (সঃ) সত্যুষ্টি অর্জনের জন্য আল্লাহই তাকে উদ্ধৃদ্ধ করেছেন । তোমার অধীনস্থগণকেও একথা জানিয়ে দিয়ো / মুবারক আত-তাবারীর সাথে যেরূপ ব্যবহার করবে। অনুরূপ ব্যবহার মুহাম্মদ ইবনে ইয়াহিয়া ও মুহাম্মদ ইবনে আবদিল্লাহর সাথেও করবে । আল্লাহর ইচ্ছায় ফদকের সমৃদ্ধি ও শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য তাদের দুজনকে সহায়তা করো / বিষয়টি এখানে শেষ করলাম / এ পত্ৰখানা ২১০ হিজরির জুলকিদা মাসের ২৮ তারিখ বুধবার মোতাবেক ১৫-২-৮২৬ খৃষ্টাব্দে লেখা হয়েছিল ।
১১ । এভাবে মামুনের খিলাফত থেকে মুনতাসিম (২১৮/৮৩৩-২২৭/৮৪২) ও ওয়াসিকের (২২৭/৮৪২
২৩২/৮৪৭) খেলাফত পর্যন্ত ফাদক ফাতেমি বংশের দখলে ছিল।
১২। এরপর জাফর আল-মুতাওয়াক্কিল। যখন খলিফা হলো (২৩২/৮৪৭-২৪৭/৮৬১) তখন সে ফাতিমার বংশধর থেকে ফদক ছিনিয়ে নিয়ে গেল। আহলুল বাইতের জীবিত ও মৃত শক্ৰদের মধ্যে মুতাওয়াক্কিল ছিল সব চাইতে শয়তানি-ভরা শত্রু। সে হারমালাহ আল-হাজ্জামকে ফদক দিয়ে দিল এবং হাজ্জামের মৃত্যুর পর তাবারিস্তানের বাজােয়রকে ফদক দিয়েছিল। আবু হিলাল আসকারী লেখেছেন যে, এ লোকটির প্রকৃত নাম ছিল আবদুল্লাহ ইবনে উমর বাজায়র। তিনি আরো লেখেছেন, ”ফদকে ১১টি খেজুর গাছ ছিল যা রাসুল (সঃ) নিজ হাতে রোপণ করেছিলেন। এ ১১টি খেজুর গাছের খেজুর আবি তালিবের বংশধরগণ সংগ্রহ করে রাখতেন এবং হজের সময় হাজিগণ মদিনা গেলে এ খেজুর তাদের দান করতেন। বিনিময়ে হাজিগণ তাদেরকে অনেক কিছু দিতেন। মুতাওয়াক্কিল এ সংবাদ জানতে পেরে আবদুল্লাহ ইবনে উমরকে হুকুম করলো সে যেন উক্ত গাছগুলোর ফল কেটে তার রস বের করে নেয়। ফলে আবদুল্লাহ ইবনে উমর বিশর ইবনে উমাইয়া ছাকাকী নামক একজন লোককে উক্ত ১১টি গাছের খেজুরের রস বের করে মদ তৈরি করার জন্য নিয়োজিত করলো। কিন্তু এ মদ বসরার পথে থাকা কালেই মুতাওয়াক্কিল নিহত হলো।”
১৩। মুতাওয়াক্কিলের পর তার পুত্র মুনতাসির খলিফা হলো (২৪৭/৮৬১-২৪৮/৮৬২) । তিনি হাসান ও
হুসাইনের বংশধরগণকে ফদক ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
(উপরের ক্ৰমিক ৩-১৩-এর সূত্র হলো—ইরবিলি’, ২য় খন্ড, পৃঃ ১২১-১২২; মজলিসী”, ৮ম খন্ড, পৃঃ ১০৭-১০৮: কুমীর্ণ, ২য় খন্ড, পৃঃ ৩৫১; আশকারী”, পৃঃ ২০৯; বালাজুরী” ১ম খন্ড, পৃ:৩৩-৩৮; হামাবি***’, ৪র্থ খন্ড, ২৩৩-২৪০; ইয়াকুবী**, ২য় খন্ড, পৃঃ ১৯৯; ৩য় খন্ড, পৃঃ ৪৮, ১৯৫-১৯৬; আছীর, ২য় খন্ড, পৃঃ ২২৪-২২৫; ৩য় খন্ড, পৃঃ ৪৫৭, ৪৯৭; ৫ম খন্ড, পৃ. ৬৩; ৭ম খন্ড, পৃঃ ১১৬; রাব্বিহ”, ৪র্থ খন্ড, পৃঃ ২১৬, ২৮৩, ৪৩৫; সামহুদী***, ৩য় খন্ড, পৃঃ ৯৯৯-১০০০; সাদ’, ৫ম খন্ড, পৃঃ ২৮৬-২৮৭; সূয়ুতী*”, পৃঃ ২৩১২৩২, ৩৫৬; মাসুদী”, ৪র্থ খন্ড, পৃঃ ৮২; হাম্বলী***, পৃঃ ১১০; কালকাশান্দি’, ৪র্থ খন্ড, পৃঃ ২৯১ সাফাওয়াত ***, ২য় খন্ড, পৃঃ ৩৩১-৩৩২; ৩য় খন্ড, পৃঃ ৫০৯- ৫১০; কাহহালাহ’, ৩য় খন্ড, পৃঃ ১২১১১২১২; হাদীদ’, ১৬শ খন্ড, পৃঃ ২৭৭-২৭৮)।
১৪। মুনতাসিরের করুণ মৃত্যুর পর ফাদক ফাতিমার বংশধর থেকে পুনরায় কেড়ে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু আল-মুতাদিদ (২৭৯/৮৯২–২৮৯/৯০২) আবার তা ফাতেমি বংশকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। তারপর মুকতাফি (২৮৯/৯০২-২৯৫/৯০৮ আবার ফাতেমি বংশের কাছ থেকে তা নিয়ে গেল। এরপর মুখতাদির (২৯৫/৯০৮৩২০/৯৩৩) পুনরায় “ফদক ফাতেমি বংশকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। এরপর হতে ফাঁদকের আর কোন উল্লেখ
ইতিহাসে পাওয়া যায় না। তবে কি তারা জাহেলি যুগের বিধিবিধান কামনা করে? বিশ্বাসীদের জন্য বিধান দানে আল্লাহ
অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠতর” (কুরআন, ৫ঃ ৫০)