গাদীর দিবস ও “সহিফা মাল’উনা”

গাদীর ও গাদীর দিবসের আলোচনা করে শেষ করা যাবে না। আর আমাদের আলোচনা হচ্ছে গাদীর সমুদ্রের মধ্য হতে এক বিন্দু মাত্র। গাদীর দিবসের পর পক্ষে বিপক্ষে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে যা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ রয়েছে।

উদাহরণ স্বরূপ আলীকে (আ.) আমিরুল মুমেনিন বলে মোবারক বাদ দেয়া এবং তার হাতে বাইআত করা, ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, এ দিবসের প্রতি বিশ্বাস না করার কারণে আকাশ থেকে পাথর বর্ষণের মাধ্যমে আযাব নাযিল হওয়া ও সাহাবীর মৃত্যু বা এ ঘটনাকে অস্বীকার করার কারণে মুখমন্ডল শ্বেতাঙ্গে পরিণত হওয়া ইত্যাদি।

রাসুলের (সা.) বিভিন্ন হাদীস মতে আলীকে (আ.) নির্ভর করে মুমিন ও কাফেরের পরিচয় পাওয়া যাবে। আলীকে (আ.) কেন্দ্র করে যেমন মুমিনরা ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল ঠিক তেমনি মুনাফেক বা আলী (আ.) বিরোধীরাও এক ঐক্য গঠন করেছিল। যা ইতিহাসের পাতায় সহিফা মালউনা নামে লিপিবদ্ধ আছে।

শিয়াদের বিভিন্ন গ্রন্থে এ সহিফা মালউনা নামে একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সহিফা কোনো লিখিত পৃষ্ঠা, পাতা বা বই পুস্তককে বলা হয়ে থাকে। যেমন বিভিন্ন নবী আউলিয়াদের লিখিত সহিফা ছিল। আর মালউনা অর্থ হচ্ছে যার উপর লানত বর্ষিত হয়েছে এমন কোনো জিনিষ। তাহলে সহিফা মালউনার অর্থ হচ্ছে অভিশপ্ত একটি লেখ্য। আর এটি হচ্ছে ১২ থেকে ১৮ জন সাহাবীদের চুক্তিপত্র যা গাদীরের ঘটনার পর তৈরি করা হয়েছিল। এরা নিজেদের মধ্যে চুক্তি করেছিল যে, কোনো অবস্থাতেই আলীকে (আ.) রাসুলের (সা.) খলিফা হতে দেয়া যাবে না। তাই তারা একটি প্রতিজ্ঞাপত্র বা চুক্তিপত্র লিখে ওসমানকে দিয়েছিল যাতে সেটা মক্কাতে গোপন করে রাখে। আর এ চুক্তিপত্র দ্বিতীয় খলিফা ওমরের খেলাফত কালের শেষ সময়ে ফাঁস হয় এবং আহলে সুন্নতের বিভিন্ন গ্রন্থে তার উল্লেখ করা হয়েছে। (সুনানে নেসায়ি, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ৮৮; মুসতাদরাক, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ২২৬; মুজামুল আওসাত, ৭ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ২১৭; বিহারুল আনওয়ার, ১০ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ২৯৭)

অবশ্য অনেকের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে যে, রাসুল (সা.) নিজের জীবনে ইলমে গাইবের মাধ্যমে কিছু লোকের মনের অভ্যন্তরের কথা অন্যদের জন্য কেন বলে যাননি, যাতে পরবর্তীতে কোনো দ্বন্দ্ব দেখা না দেয়?

এ প্রশ্নের উত্তর অবশ্য পবিত্র কোরানের আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুনাফেক লোকদের জন্য উল্লেখ করেছেন, হে প্রিয় নবী! মদীনার আশপাশে কিছু মুনাফেক লোক রয়েছে যে,তুমি তাদেরকে চেননা কিন্তু আমি তাদেরকে জানি (সুরা তাওবা, আয়াত: ১০১)। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোন বিশেষ মাসলেহাত বা কল্যাণের কারণে এ সকল লোকদের নাম নবীর (সা.) কাছেও প্রকাশ করেননি।

তদ্রূপ ১২ জন সাহাবী ঠিক করলো যে, তাবুক যুদ্ধ হতে ফেরার পথে মহানবীকে (সা.) পাহাড়ের চুড়া থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে মেরে ফেলবে। হুযাইফা বর্ণনা করে: আমি তাদেরকে দেখেছি এবং চিনে ফেলেছি। আম্মার বিন ইয়াসেরও বলেন: আমি দেখলাম এবং চিনে ফেললাম। হুযাইফা রাসুলের (সা.) কাছে অনুমতি চাইলেন যে তাদের চক্রান্ত নস্যাৎ করে অপমানিত করবেন; কিন্তু নবী করিম (সা.) তাকে এ কাজের অনুমতি দেননি। তিনি বলেন: আমি চাইনা প্রচার করা হোক যে, মোহাম্মদ তার সাহাবীদের হত্যা করেছে। (দ্রষ্টব্য: আল মোহাল্লা, ১১তম খন্ড, পৃষ্ঠা: ২২৪)

এরূপ অনেক ঘটনাই ছিল যা ইসলামকে রক্ষার খাতিরে নবী করিম (সা.) মুখ বন্ধ করে ছিলেন বা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুমতি প্রাপ্ত হননি। যাইহোক, এটা প্রমাণিত যে, শিয়া ও সুন্নি হাদীস মতে রাসুলের (সা.) আশপাশে কিছু মোনাফেক সাহাবী ছিল যারা ঈর্ষা ও বিদ্বেষের কারণে চেষ্টা করেছে খেলাফত যেন আলীর (আ.) হস্তগত না হয়। কিন্তু রাসুলের (সা.) কথায় বলতে হয় আলী মাআল হাক্ব ওয়াল হাক্ব মাআল আলী

Source: http://www.hussainidalan.com