উম্মতে ইসলামির ঐক্য হচ্ছে কোরানে বর্ণীত বিষয়

আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোহাম্মদ হুসাইনী কাযউয়িনি : উম্মতে ইসলামির ঐক্যের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে একটি কোরানের বিষয়। ঐক্যের বিষয়ে মহানবী (সা.) হতে অনেক হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

ইসলামি বিপ্লবের মহান নেতা এমন সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন

যার প্রতি কোরানও আহবান জানায় এবং মাসুমিনদের (আ.) সুন্নত ও সিরাহও বিশেষ করে আমিরুল মুমিনিনের (আ.) সিরাহও  এ বিষয়েই আহবান জানায়। আর তা সুস্পষ্ট বিষয়।

আর এ বিষয়ে আমরা পবিত্র কোরানে অনেক উদাহরণ দেখতে পাই। যেমন :

« وَاعْتَصِمُواْ بِحَبْلِ اللّهِ جَمِیعًا وَلاَ تَفَرَّقُواْ » (آل عمران/ 103)

তোমরা দৃঢ়ভাবে আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরো এবং বিভক্ত হয়োনা। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০৩)

« إِنَّ هَذِهِ أُمَّتُکُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً » (انبیاء/ 92)

নিশ্চয়ই এ মহান নবীগণ এবং তাদের অনুসারীরা একই উম্মত ছিলেন। (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ৯২)

« إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَینَ أَخَوَیکُمْ » (حجرات/ 10)

মুমিনরা পরস্পর ভাইভাই সুতরাং তাদের দুভায়ের মধ্যে সন্ধি করিয়ে দাও।

তাছাড়া পবিত্র কোরানে উম্মতে ইসলামিতে দ্বন্দ্ব সম্পর্কে খোদার আযাব নাযিল হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। যেমন: ভূমিকম্প, বন্যা ও প্লাবন, তুফান ইত্যাদি। সুরা আনআমের ৬৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে:

« قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَن یبْعَثَ عَلَیکُمْ عَذَابًا مِّن فَوْقِکُمْ أَوْ مِن تَحْتِ أَرْجُلِکُمْ أَوْ یلْبِسَکُمْ شِیعًا وَ یذِیقَ بَعْضَکُم بَأْسَ بَعْضٍ انظُرْ کَیفَ نُصَرِّفُ الآیاتِ لَعَلَّهُمْ یفْقَهُونَ »

বল তিনি তোমাদের মাথার উপর হতে কিম্বা পায়ের নিচে থেকে তোমাদের উপর আযাব নাযিল করার ক্ষমতা রাখেন অথবা তোমাদেরকে একে অপরের সাথে দ্বন্দ্বে বাধিয়ে বিভ্রান্ত করে দিতে পারেন যাতে তোমরা পরস্পরের দ্বন্দ্বের মজা বুঝতে পারো।

তাছাড়া মহানবী (সা.) -শিয়া ও সুন্নি গ্রন্থ মতে (যেমন, সুয়ুতির দুর্রুল মানসুর, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ২৫৭ এবং তাফসিরে সাফি, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩৬৪) যারা দ্বন্দ্বের দাবি করতো তাদেরকে সম্বোধন করে- বলেন:

« یا معشر المسلمین ! الله الله، أ بدعوى الجاهلیة وأنا بین أظهرکم بعد أن هداکم الله تعالى الى الاسلام واکرمکم به وقطع عنکم امر الجاهلیة واستنقذکم به من الکفر والف بینکم ترجعون الى ما کنتم علیه کفارا »

হে মুসলমান সকল ! তোমরা কি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনকে ভুলে গিয়েছ এবং জাহেলিয়্যাতের (কুফরি) কথাই বলছো যদিও আমি বর্তমানে তোমাদের সামনে উপস্থিত। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমাদেরকে ইসলামের নুরের প্রতি হেদায়েত করেছেন, তোমাদেরকে সম্মান দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ করেছেন, জাহেলিয়্যাতের যুগের দ্বন্দ্বগুলোকে নিঃশেষ করেছেন, কুফরি হতে পরিত্রাণ দিয়েছেন এবং তোমাদেরকে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন তারপরও তোমরা কি আইয়ামে জাহেলিয়্যাতের কুফরের দিকে ফিরে যেতে চাও ?

তদ্রূপ আমিরুল মুমিনিন হযরত আলী (আ.) যদিও তাঁর উপর অনেক অত্যাচার হয়েছে তবুও তিনি বলেন :

«وایم اللّه لولا مخافة الفرقة بین المسلمین وان یعود الکفر ویبورالدین لکنا غیر ما کنا لهم علیه»؛.(الاستیعاب، ج 2، ص 497، ترجمة رفاعة بن رافع.)

যদি জনগণের মধ্যে বিভ্রান্ত হওয়ার ভয় না থাকতো তাহলে প্রশাসক পরিষদের সাথে আমি অন্য রকম ব্যবহার করতাম। (আল এসতিআব, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ৪৯৭, ব্যাখ্যা: রেফাআ ইবনে রাফে)

শেখ মুফিদ ইরশাদ ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ২৪৫ এবং ইবনে আবিল হাদিদ, শরহে নাহজুল বালাগা, ১ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৩০৭ গ্রন্থে হযরত আমিরুল মুমিনিন (আ.) হতে একটি হাদিস বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: « الخلاف یهدم الرای »،  একজন মানুষ শান্ত পরিবেশে সঠিক মত দিতে সক্ষম, কিন্তু দ্বন্দ্বপূর্ণ পরিবেশে মানুষের মতে বিচ্যুতি ঘটে এবং সঠিক মত দিতে পারেনা। এসব কথা সুন্নতে বর্ণনা করা হয়েছে।

যদি আমরা মনে করি যে, কোরানের আয়াতে এবং রেওয়ায়েতে ঐক্যের বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি এবং মরহুম ইমাম খোমেনি (র:) ও আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ির মত নেতারাও এবিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেননি। এমতাবস্থায় আমাদেরকে আকল বা বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা করতে হবে যে, প্রকৃতিস্থ মত কি ? আমরা এ বিষয়ে কিছু আলোচনা করতে চাই, আমরা কি বর্তমানে শিয়া -সুন্নি বা মুসলমান – খ্রিষ্টান দ্বন্দ্ব বাধিয়ে দেব ? এতে কি ইসলাম ও মুসলমানদের কোনো লাভ হবে নাকি ক্ষতি হবে ? উদাহরণস্বরূপ আমরা যদি সুন্নিদেরকে বা খ্রিষ্টানদেরকে অপবাদ দেই বা অবমাননা করি এতে কি ইসলাম ও শিয়া মাযহাবের উন্নতি হবে ?! নাকি এ অপবাদ ও অবমাননার কারণে জনগণ এ মাযহাব থেকে হতাশাপূর্ণ হবে? কোনো একজন মাওলানা বা বক্তার মেম্বরে বা স্টেজে উঠে আহলে সুন্নতের অবমাননা করা অথবা কোনো মাযহাবি অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অভিশাপ ও লানত করাটা আমাদের ধর্ম ও মাযহাবের কোন জিনিষকে পরিপূর্ণ করে ?! বরং উল্টো কিছু আহলে সুন্নত ভাই শিয়া মাযহাবকে ঘৃণা করবে।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আয়াতুল্লাহ আল উযমা বাহজাতের উপর রহমত বর্ষণ করুন, তিনি ঈদ আয যাহরাকে (সা.) কেন্দ্র করে কিছু কিছু আচরণ সম্পর্কে বলেন: এ আচরণ বা কাজগুলো অন্যান্য দেশে যেখানে শিয়ারা সংখ্যালঘুতে রয়েছে তাদের জন্য কষ্ট ও নির্যাতন এমনকি তাদেরকে হত্যার কারণও হতে পারে। এমতাবস্থায় যদি এক বিন্দু রক্তও ঝরে তার জন্য আমরাই দায়ী এবং তার অপরাধে আমরাও অংশীদার। এ হচ্ছে আমাদের একজন মারজায়ে তাকলিদের কথা।

আয়াতুল্লাহ আল উযমা সিসতানিও বহুবার বলেছেন:« لا تقولوا اخواننا السنة بل قولوا انفسنا اهل السنة »،  তোমরা আহলে সুন্নতদেরকে ভাই বলো না কেননা ভায়ে ভায়েও দ্বন্দ্ব হতে পারে বরং তাদেরকে বলো যে, তারা আমার নফস বা আত্মা কেননা মানুষ কখনো নিজের আত্মা ও স্বত্বার সাথে কখনো দ্বন্দ্ব করেনা।

অতএব, ঐক্য ও বিভ্রান্ত না হওয়ার বিষয়টি হচ্ছে একটি আকলি বা বুদ্ধিগত। এ যুগে একজন জ্ঞানী ব্যক্তি যদি শিয়া মাযহাবকে বিস্তৃতি দিতে চায় তাহলে ঐক্য ছাড়া তার কোনো উপায় নেই। যদি কোনো মাওলানা বা ধর্মীয় ব্যক্তি অন্য কোনো মাযহাবের পবিত্রতার অবমাননা করে তাহলে শিয়ারাও আমাদের থেকে দুরে চলে যাবে এবং বলবে যে, যদি এ মাযহাবে যুক্তি সম্মত কোনো কথা থাকতো তাহলে ওমুক মাওলানা অন্য মাযহাবকে অপবাদ দিত না বা ওমুক ধর্মীয় ব্যক্তি অবমাননা করতো না। আর এ অপবাদ ও অবমাননাকর কথার কারণে হয়তো আমাদের শিয়া যুবকরাও শিয়া মাযহাব ছেড়ে চলে যেতে পারে।

আজকে মানুষ উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছে এবং যে কোনো ধরণের সহিংসতা বা আঘাত করে এমন বিষয় হতে দুরে থাকতে চায়। অবশ্য মনে রাখতে হবে যে, পাশ্চাত্যরা এরকম শিয়া -সুন্নি দ্বন্দ্বের চেষ্টায় লেগে রয়েছে। অবশ্য তার কয়েকটি কারণ রয়েছে :

১। উপনিবেশদের উদ্দেশ্যের বিস্তৃতি : যাতে মুসলমানরা নিজেদের দ্বন্দ্বে লেগে থাকুক আর তারা তাদের ঔপনিবেশিক কু-উদ্দেশ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে এবং মুসলমানদের সম্পত্তি লুটেপুটে খেতে পারে আর তারাই মুসলমানদের রাজনীতিকে নির্ধারণ করবে।

২। অস্ত্রের বাজারকে ঔজ্জ্বলতা দান : তারা ইসলামি দেশসমূহকে উস্কানি দেয় এবং পরস্পরকে ভয় দেখায়। যেমন: সৌদি আরবকে ইরান, মিশর, কাতার ও আরব আমিরাতের জন্য উস্কানি দেয় এবং কাতার ও আরব আমিরাতকে অন্যদের জন্য যাতে একে অপরের সাথে দ্বন্দ্ব বাধিয়ে দেয়া যায়। সৌদি আরব ও কাতারকে বলে যে, ইরান হচ্ছে তোমাদের জন্য বিপজ্জনক এবং সুযোগ পেলেই তোমাদের উপর হামলা করবে তাই তোমাদের উন্নত অস্ত্রের প্রয়োজন এবং প্রয়োজনীয় এ অস্ত্রের ব্যবস্থা আমরা করে দেবো। অপর দিকে কাতারকে বলে যে, মিশর বা সৌদি আরব তোমাদের জন্য বিপজ্জনক এবং তোমাদের দেশে হামলাও করে বসতে পারে তাই আসো আমাদের থেকে অস্ত্র কেনো। এভাবে ষড়যন্ত্র করে মুসলমান ও উম্মতে ইসলামির মধ্যে বিবাদও বাড়ায় আবার নিজেদের অস্ত্রের বাজারকে চাঙ্গা করে তোলে।

৩। বিশ্বে ইসলামের প্রসারতা হতে ভয় : আমি ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশে ভ্রমণ করেছি যেমন: ভারত, আফগানিস্তান এমনকি যুক্তরাজ্য ইত্যাদি এবং ক্যালিফোর্নিয়াতে শিয়া, সুন্নি ও খ্রিষ্টান ছাত্রদের সাথে অনেক বৈঠক করেছি এবং বুঝতে পেরেছি যে, শিয়া -সুন্নি শিক্ষিত যুবকরা বিশেষ করে ছাত্ররা ইসলামের প্রতি অনেক বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। অপর দিকে খ্রিষ্টান ছাত্ররা গির্জায় যেতে অনীহা প্রকাশ করছে। কারণ, তাদের ধর্মীয় ব্যক্তি, পোপ, বিশপ ও পুরোহিতদের পুনরুক্তি কথাবার্তা হতে ত্যক্ত হয়ে গেছে। তারা নিজেরাই বলে যে, ইঞ্জিলের আকল ও প্রকৃতি বিরোধী বৈপরীত্য কথাবার্তা থেকে ক্লান্ত হয়ে গেছে। তাই তারা এমন ধর্মের পেছনে ছুটছে যে, ধর্ম তাদের বুদ্ধিবৃত্তি ও প্রকৃতিগত প্রশ্নের জবাব দিতে পারে।

ওয়াশিংটনে ইসলামি সেন্টারে হুজ্জতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন বাহরাইনির সাথে সাক্ষাত করেছি, তিনি বলেন: এ শতাব্দীকে ইসলামের প্রতি খ্রিষ্টান যুবকদের ফিরে আসার শতাব্দী বলা যায়। প্রতিদিন কয়েকশ পত্রের মধ্যে মাঝেমধ্যে দেখা যায় যে, কোনো খ্রিষ্টান ছাত্রই ইসলাম গ্রহণ করেনি। এমনকি ১৮ বর্গ মিটারের একটি কক্ষ আমাকে দেখানো হল যেখানে পত্র দিয়ে কার্টুন ভরা ছিল, আমাকে বলল যে, এ পত্রগুলো সেসব যুবকদের যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে চায় এবং আমাদের কাছে পথ নির্দেশনা চায়। অথবা যারা মুসলমান হয়ে গেছে বা তাদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার ঘোষণা দেবে।

অতএব, পাশ্চাত্যরা বুঝতে পেরেছে যে, যদি সরাসরি ইসলামের উপর আক্রমণ করে তাহলে মানুষ হয়তো বেশি করে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হবে। তাই মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করা শুরু করলো এবং সিরিয়া ও মিশরে হত্যা কাণ্ড শুরু করলো যাতে জনগণকে জানানো যায় যে, দেখ যদি তোমরা মুসলমান হবে তাহলে হয় সন্ত্রাসীদের মত হত্যা করতে হবে এবং একজন মানুষের হৃতপৃন্ডটা তার বুক চিরে বের করে নিয়ে আসতে হবে এবং সবার সামনে তা দাঁত দিয়ে কেটে ধরতে হবে। অথবা মুসলমানদের কাটা শির দিয়ে ফুটবল খেলতে হবে নয়তো তোমাকে মৃত্যু বরণ করতে হবে। আর তারপর তোমাদের হৃতপৃন্ডটাকে বুক চিরে বের করে আনা হবে অথবা তোমাদের মাথা দিয়ে ফুটবল খেলা হবে কিম্বা তোমাদের নারীদের সাথে জিহাদুন নিকাহর নাম করে ব্যভিচার করা হবে। শেষ কথা মুসলমান হওয়াতে দুটি কথা রয়েছে হয় মানুষ হত্যা করতে হবে নয়তো তোমাকে কেউ হত্যা করবে ?!

বর্তমানে ইসলামি দেশসমূহে পাশ্চাত্য ও ইসলামের শত্রু দেশগুলোর উস্কানিতে যে সন্ত্রাসী কাজগুলো শুরু হয়েছে এটা ইসলাম থেকে পিছু হটার সুন্দর একটি পথ। দুঃখজনক হচ্ছে ওয়াহাবি বিশেষ করে তাকফিরি ওয়াহাবিদের না আকল আছে আর না রয়েছে জ্ঞান -বুদ্ধি ও কোনো কর্মকৌশল। তারা বিষয়টা বুঝতেও চায় না এবং বুঝার চেষ্টাও করেনা। তাই তাদের কাজকর্ম দিয়ে যুবকদেরকে ইসলাম হতে দুরে ঠেলে দিচ্ছে।

তাই হযরত আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ি হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.) এর জন্মদিন উপলক্ষে কবি ও ধর্মীয় বক্তাদের উপস্থিতিতে যে বক্তব্য রেখেছিলেন তা খুব জ্ঞানগত ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ ছিল। তিনি সেই বক্তব্যে বলেন : মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তের সৃষ্টি ঠিক শত্রুদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়ার মত । আমরা এ অস্ত্রের সুন্দর নমুনা সিরিয়া, ইরাক ও মিশরের মুসলমানদেরকে যে হত্যা করা হচ্ছে দেখতে পাচ্ছি।

মিশরের ইখওয়ানুল মুসলিমিন দলটি ওয়াহাবি ও সালাফিদের ছিল। ওয়াহাবিরা নিজেরাই এ দলটিকে সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে পদে বসিয়েছে। কিন্তু আমরা দেখেছি যে, আবারো সৌদি আরব ও কাতারের টাকাতে ইখওয়ানুল মুসলিমিনের সবকিছু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে এবং একটি আদালতে ৫০০ জনেরও বেশি লোকের জন্য ফাঁসির হুকুম জারি করা হল। তার অর্থ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ছড়িয়ে একে অপরের পেছনে লেলিয়ে দিতে চায়; শিয়াদেরকে সুন্নির পেছনে এবং সুন্নিদেরকে শিয়াদের পেছনে এবং সালাফিদেরকে ওয়াহাবিদের পেছনে আর ওয়াহাবিদেরকে সালাফিদের পেছনে !! সকলের জন্য এখন বিষয়টা প্রায় পরিষ্কার যে, এ দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্ত শত্রুর হাতে এমন একটা অস্ত্র যা শিয়া, সুন্নি ও সালাফি চেনে না। শত্রুর অস্ত্র সিরিয়াতে শিয়াকেও হত্যা করছে এবং সুন্নিকেও। তাছাড়া ইরাকের অবস্থাও একি এবং মিশরেও সুন্নি, সালাফি ও ওয়াবিদের তারা হত্যা করছে।

অতএব, এমন সব আলেমও ধর্মীয় ব্যক্তিদের কাছে আমাদের দাবি যে, মেম্বর ও স্টেজ হতে বক্তব্য দেয়ার সময় বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে যাতে কোনো বক্তব্যের মাধ্যমে এ অস্ত্র শত্রুদের হাতে তুলে না দেয়।

Source: http://www.hussainidalan.com