ইসলামী ঐক্য ও বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কিছু কথা

পরম শ্রদ্ধাবনত মস্তকে আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই মহান স্রষ্টা ও প্রভু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আমাদেরকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা মানুষ হিসাবে এবং বিশেষত তাঁর প্রিয় রাসূলের (সাঃ) উম্মতের মধ্যে শামিল হবার সুযোগ প্রদানের জন্য। তাওহীদে বিশ্বাসী ও রাসূলের (সাঃ) তরিকার প্রতি আনুগত্যকারীদের পরিচয় হচ্ছে মুমিন ও মুসলিম, যারা পার্থিব জীবনের সফলতার পাশাপাশি পারলৌকিক জীবনেও মুক্তির প্রত্যাশী।

একজন মুসলিম পার্থিব জীবনে সফলতা ও পারলৌকিক জীবনে মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে কিছু করণীয় এবং কিছু বর্জনীয় আচরণের নির্দেশনা রয়েছে ইসলামী জীবনে দর্শনে। পবিত্র কুরআনে ইনসান বা মনুষ্য জাতির অন্য দলটির নাম দেয়া হয়েছে মুশরিক, যারা তাওহীদ, রিসালাতও আখিরাতে বিশ্বাস করে না এবং ইহজীবনে নিজেদের স্বার্থ ও সুবিধা অনুযায়ী আচরণে অভ্যস। এরা মূলত বেহেশ্ত হতে বিতাড়িত ইবলিস বা শয়তানের অনুসারী।

এভাবে হিজ্বুল্লাহ আর হিজবুশ শয়তানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব অনাদিকাল হতে চলে আসছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, এজন্য মহানবী (সাঃ) মুসলমানদেরকে তাদের পোষাক-আশাক, খাওয়া-দাওয়া, ইবাদাতের নিয়ম এবং এমনকি শিল্প-সাহিত্য ও আনন্দ-উৎসব পালনেও নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার এবং বিশেষত মুশরেকদের কাছ হতে ভিন্নতা বজায় রাখার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এভাবে কালক্রমে সারা বিশ্বের দেশে দেশে এবং বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী, ভাষা ও সম্প্রদায়ের মধ্যে মুসলমানদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে মুসলিম উম্মাহ। জাতিভেদ বর্ণ, বংশ বা ভাষার ভিন্নতা সত্ত্বেও মানবিক সাম্য, ন্যায় ও কল্যাণের ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহ একধরনের বিশ্বজনীন সংস্কৃতির ধারক। এই সংস্কৃতিক পতাকাবাহীরা শত শত বৎসর ধরে বিশ্বে সত্য, ন্যায় ও আলোর মশাল প্রজ্বলনে নেতৃত্ব প্রদান করেছে।

ইসলামের আর্বিভাবের পূর্বে মোশরেকগণ পবিত্র ক্বাবাগৃহে কতগুলো কাল্পনিক মূর্তি রেখে নারী-পুরুষ উলঙ্গ হয়ে চারদিকে প্রদক্ষিণ করত ইসলাম ধর্ম মানুষের গড়া মূর্তিগুলো সরিয়ে নিরাকার প্রভু আল্লাহর স্মরণে দেহকে শালীন পোষাকে আবৃত করে তাওয়াফের বিধান প্রবর্তন করল।

ইসলাম সে সময়ে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত অমানবিক দাস ব্যবসা মুসলমানদের জন্য শুধু নিষিদ্ধই করল না, যাকাতের অর্থে দাস মুক্তির বিধানও প্রবর্তন করল। অবাধ যৌনচারের বদলে নারী-পুরুষের যৌন জীবনকে ইসলাম সামাজিক বিবাহ ও পারস্পরিক দায়িত্ব বন্ধনের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল করেছিল। ধর্মীয় বিধান পালন ও পরকালে জবাবাদিহিতার চেতনায় মানুষের মধ্যকার অশুভ প্রবণতাকে দমন করার ব্যবস্থা মানুষের জীবনাচারে প্রবর্তিত হলো। কন্যা শিশুদের হত্যার বদলে কন্যা পালনকারী পিতা-মাতার জন্য বেহেশতের অগ্রিম সুসংবাদ দেওয়া হলো।

এ সময়কাল মানব সভ্যতার ইতিহাসের শুধু ইসলামের নয়, এক সোনালী অধ্যায় হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। পৃথিবীর নব নব ভূখণ্ডে ইসলামের বিস্তার, রাজনৈতিক কর্তৃত্ব স্থাপন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বহুত্ববাদী ও অসত্য বিশ্বাস সমূহের পশ্চাদৎপসারণ, অপমাণিত লাঞ্চিত মানবতার মুক্তি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিপুল চর্চা ও অগ্রগতির মধ্যে দিয়ে ইসলাম এক বিপ্লবী আদর্শ হিসাবে সমুপস্থিত হয়। ইসলাম কেবল উপাসনালয় ভিত্তিক কতক আচার-আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো কার্যকলাপ নয়; বরং ইসলাম একটি উত্তম জীবন যাপন প্রণালীর নাম, একটি চমৎকার রাজনৈতিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা হিসাবেও ইসলাম বিশ্বকে নতুন দিগ নির্দেশনা দেয়। মানবজাতির পার্থিব কল্যাণ, মুক্তি ও অগ্রগতির মধ্যে দিয়ে ইসলাম এক বিপ্লবী আদর্শ হিসাবে সমুপস্থিত হয়। ইসলাম কেবল উপাসানালয় ভিত্তিক কতক আচার আচরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোন কার্যকলাপ নয় বরং ইসলাম একটি উত্তম জীবন যাপন প্রণালীর নাম। একটি চমৎকার ইসলাম বিশ্বকে নতুন দিক নির্দেশনা দেয়। মানবজাতির পার্থিব কল্যাণ, মুক্তি ও অগ্রগতির পথ প্রদর্শন করে। যুদ্ধ কিংবা শান্তি শিক্ষা ও গবেষণা ইহলৌকিক বা পরলৌকিক পরিত্রাণ-সর্বক্ষেত্রে ইসলাম মানুষকে সঠিক গাইডেন্স দিতে পেরেছে যুগ যুগ ধরে। কার্যত: বিশ্ব মানবতাকে নেতৃত্ব দানের উপযোগী প্রজ্ঞা, দর্শন, সম্ভাবনা ও শক্তি নিয়ে ইসলাম আর্বিভূত হয়।

আয়াতুল্লাহ বুরুর্জাদী (রহঃ) ছিলেন ইসলামী ঐক্য প্রতিষ্ঠায় এই কেন্দ্রের অকুণ্ঠ সমর্থক ও পৃষ্ঠপোষক। তিনি তার শিক্ষাকতা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সাক্ষাতসমূহের মধ্যেও সর্বত্র মুসলিম ঐক্যের বিষয়ে আলোচনা করতেন। একবার তিনি বলেন, বর্তমানে মাজহাব সমূহের নৈকট্যকরণের বিষয়টি ধাপে ধাপে এগিয়ে চলেছে। আর আমি আল্লাহকে শুকরিয়া জানাই এপথে আমার যদি কোনো অবদান রাখার সুযোগ হয়ে থাকে। তিনি দারুতে তাকবীরের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রচুর অর্থ সাহায্য দান করতেন। কথিত আছে যে, তিনি মৃত্যুশয্যায়ও গুরুত্ব আরোপ করে যান যেন তাকবীর তথা মাজহাব সমূহের মধ্যে নৈকট্য প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে আরো জোরদার করা হয়।

ইমাম খোমেইনী (রহঃ) মুসলিম ঐক্যকে সবার আগে গুরুত্ব প্রদান করেন এবং ইসলামী বিপ্লবের বিজয় লাভের পর থেকেই এ ব্যাপারে নামা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আহলে সুন্নাতের ঐতিহাসিক সূত্রে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর জন্মদিন ১২ই রবিউল আউয়াল আর শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক সূত্রমতে এই তারিখটি ১৭ই রবিউল আউয়াল উল্লেখ রয়েছে। এই তথ্যগত মতপার্থক্য যা শিয়া-সুন্নী বিরোধের আরেকটা ক্ষেত্র হিসাবে চিিহ্নত হয়ে আসছিল ইমাম খোমেইনী (রহঃ) সেটাকেই বরং ইসলামী ঐক্যের একটি প্লাটফর্ম হিসাবে গ্রহণ করলেন এবং ১২ থেকে ১৭ রবিউল আউয়াল এই এক সপ্তাহ সময়কে বিশ্ব মুসলিমের জন্যে ইসলামী ঐক্য সপ্তাহ হিসাবে ঘোষণা করেন।

মুহাম্মদ ওয়ায়েজযাদেহ খোরসানীর কিছু মূল্যবান কথাঃ ইসলামী ঐক্য পবিত্র কুরআনে প্রতিধ্বনিত হয়েছে বারংবার যেমন এরশাদ হচ্ছে, এই যে তোমাদের জাতি এতো এক জাতি এবং আমিই তোমাদের রব তাই আমার বন্দেগী করো (আম্বিয়াঃ ৯২) অন্যত্র এরশাদ হয়েছে, এবং তোমাদের এই যে জাতি এতো এক জাতি এবং তোমাদের রব। তাই আমাকে ভয় করো। (মুমিনুনাজ)

এ সকল আয়াত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন ইমাম কাশিফুলাগতা (রহৎ)। তিনি ইসলামী ঐক্যের একজন আহ্বায়ক এবং কায়রো ভিত্তিক ইসলামী মাজহাব সমূহের মধ্যে নৈকট্য প্রতিষ্ঠাকরণ সংস্থার একজন অন্যতম সদস্য। তিনি বলেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠিত রয়েছে দুটি ভিত্তির ওপর একত্ববাদী কালেমা মত বিরোধহীন ঐক্য কণ্ঠ।

কাজেই ইসলামী ঐক্য হলো ইসলামের একটি অপরিহার্য ফরয। শুধু পছন্দনীয় একটি কাজ নয় যেমনটা অনেকে ধারণা করে থাকেন, এ প্রসঙ্গে দলিল হিসাবে যে আয়াতটি প্রসিদ্ধ রয়েছে সেটি হলোঃ তোমরা আল্লাহর রুজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধরো। এ বাক্যটিই প্রত্যেকের জন্য যারা ঐক্যের আহ্বান জানায় এবং ইসলামী মাজহাব সমূহের মধ্যে নৈকট্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানায়, একটি শ্লোগানের রূপ পরিগ্রহ করেছে, তবে এই লক্ষ্য অর্জন নির্ভর কার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আয়াত সমূহের সঠিক উপলব্ধির ওপর। আর তাহলো হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় করো এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে মরো না, তোমরা সকলে আল্লাহর রশিকে শক্ত করে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ করো, তোমরা পরস্পর শত্র ছিলে, তিনি তোমাদের হৃদয়ে প্রীতির সঞ্চার করেন, ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে পরস্পর ভাই হয়ে গেলে। তোমরা অগ্নিকুন্ডের প্রান্তে ছিলে অতপর তিনি তা থেকে তোমাদেরকে উদ্ধার করেছেন এরূপে আল্লাহ তার নিদর্শন স্পষ্টভাবে বিবৃত করেন যাতে তোমরা সৎপথে যেতে পারো। তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা উচিত যারা লোকদেরকে কল্যাণের দিকে ডাকবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে এবং অসৎ কার্য থেকে নিষেধ করবে এবং এ সকল লোকই হবে সফলকাম এবং তোমরা তাদের মতো হয়ো না যারা সুস্পষ্ট নিদর্শন আসার পর বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে ও নিজেদের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি করেছে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি (আলে ইমরানঃ ১০২-১০৫)।

অতপর ঐক্যের আহ্বানের ভুমিকা হিসাবে আয়াতের মধ্যে তিনটি উপাদান উল্লেখিত হয়েছে, আল্লাহর ভয়, সত্যিকার খোদা ভীতি এবং মৃত্যু পর্যন্ত মুসলমান থাকা।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী কিছু মূল্যবান বাণী

ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তাঁর ভাষণে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব আরোপ করেন ইসলামী ঐক্য গড়ে তোলার ওপর।

তিনি বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আদর্শকে গোটা মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেনঃ

বিশ্বনবী ছিলেন গোটা মানবজাতির জন্যে আল্লাহর অনুগ্রহ বা রাহমাতুল্লিল আলামীন-তিনি শুধু রাহমাতুল্লিল মুসলিমীন ছিলেন না। বিশ্বনবী (সাঃ)-এর অনুগ্রহের কাছে গোটা মানবজাতিই ঋণী। কারন, তিনি মানবজাতির মুক্তি ও কল্যাণের পথ দেখিয়ে গেছেন। ন্যায়বিচার, উন্নত চরিত্র ও জীবনের সমস্ত দিকের পথনির্দেশনাসহ মানুষের সব যুগের সমস্যাগুলো দূর করার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সব তিনি দেখিয়ে গেছেন। মানুষ তাঁর নিজের অবহেলা, খেয়ালীপনা ও অজ্ঞতার কারণেই এই সুপথ ও অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মানুষ যদি তাদের চোখ খোলা রাখে ও সাহসী হয় তাহলে তারা এখনও সব সমস্যার পথ খোলা দেখতে পাবে। নবী-রাসূলগণের দাওয়াতের বিপরীতে শয়তান ও তার পোষ্যরাও তাদের পথ খোলা রেখেছে। মানুষকে এ দুই পথের যে কোনো একটি বেছে নিতে হবে।

মানবরচিত মতবাদগুলোর ব্যর্থতার কারণে মুসলমানরা পুনরায় ইসলামের দিকে ঝুঁকে পড়ছে এ কথা উল্লেখ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মহানবী (সাঃ)-এর জীবনাদর্শ, তাঁর বাণী ও সর্বোপরি পবিত্র কুরআন মুসলমানদের কাছে থাকায় তারা আবার সভ্যতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে মানবজাতির নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।

বর্তমান বিশ্বের লক্ষণীয় কয়েকটি বাস্তবতার কথা তুলে ধরতে গিয়ে হযরত খামেনেয়ী বলেন, বর্তমান যুগের একটি বড় বাস্তবতা হলো মুসলিম বিশ্বের জাগরণ। ১০০ বছর আগেও মুসলিম সংস্কারকদেরকে ইসলামী জাগরণের কথা অত্যন্ত অসহায়ভাবে উচ্চারণ করতে হয়েছে। আজ ইসলামের জাগরণ মুসলিম বিশ্বের দেশে দেশে জনগনের মুখে মুখে শ্লোগান হিসাবে উচ্চাতির হচ্ছে। কুরআন ও ইসলামের দিকে ফিরে যাবার কথা আজ সর্বস্তরে একটি জীবন্ত শ্লোগান। ইসলামের প্রতি গণমানুষের এই আগ্রহের পেছনে ইরান জাতির আত্মত্যাগ ও প্রতিরোধ মুসলিম জাতিগুলোর মধ্যে আশার আলো প্রদীপ্ততর করেছে। আর এই আশার ফলই আপনারা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে প্রত্যক্ষ করছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, ইসলামী জাগরণকে বিজয়ের দিকে পরিচালিত করতে হলে কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর এসব দায়িত্বের মধ্যে সর্বপ্রধান হলো ইসলামী ঐক্য। অন্যদিকে মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি শত্রদের অন্যতম প্রধান কৌশাল। স্বার্থপরতা, সংকীর্ণতা, ভুল বিশ্লেষণ ও দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের চেয়ে সামরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার মতো বিভিন্ন কারণে আমরা নিজেরাই শত্রদের এই ফাঁদে পা দিতে পারি। তিনি আরো বলেন, আপনারা দেখুন সাম্রাজ্যবাদীরা ফিলিস্তিনীদের সাথে ফিলিস্তিনীদের, ইরাকীদের সাথে ইরাকীদের, শিয়া মুসলমানদের সাথে সুন্নী মুসলমানদের এবং আরবদের সাথে অনারবদের সংঘাত বাধানোর চেষ্টা করছে। আমাদেরকেই প্রথমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। ইরান এজন্যই চলতি বছরকে জাতীয় ঐক্য ও ইসলামী সংহতির বছর হিসাবে ঘোষণা করেছে। মুসলমানদের উচিত পরস্পরকে সাহায্য করা। সরকারী ও বেসরকারী উভয় পর্যায়ে ইসলামী ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

মুসলিম জাতিগুলোর পরস্পরের প্রতি মন্তব্যের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসলাম। ওরা ইসলামের ওপর আঘাত হানতে চায়। ওদের কাছে শিয়া ও সুন্নী কোনো তফাৎ নেই। ইসলামের প্রতি বেশি ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি, জাতি বা মাজহাব ওদের চোখে যেমন বিপজ্জনক তেমনি সত্যিকারের ইসলাম সাম্রাজ্যবাদের জন্যও বিপজ্জনক। কিন্তু সত্যিকারের ইসলাম অমুসলমানদের জন্য মোটেও বিপজ্জনক নয়। তিনি এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, কিন্তু সাম্রাজ্যবাদীদের প্রচার মাধ্যম মুসলমানদেরকে অমুসলমানদের বিরোধী হিসাবে প্রচার করছে। ইসলাম যখন অমুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে বিজয়ী হয়েছে তখন সেখানকার বাসিন্দারা বলেছে, তোমরা তো আমাদের আগের শাসকদের চেয়ে বেশি দয়ালু। মুসলমানরা যখন প্রথম সিরিয়া বিজয় করেছিল তখন সেখানকার ইয়াহূদী ও খৃষ্টানরা এ ধরনের কথা বলেছিল। ইসলাম দয়া ও শান্তির ধর্ম। রাহমাতুললিল আলামীনের ধর্ম। ইসলাম মুসলমান ও খৃষ্টানদেরকে অভিন্ন ধর্মীয় বাণীর ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানায়। ইসলাম অন্য কোনো ধর্মেরই বিরোধী নয়। হ্যাঁ, ইসলাম অত্যাচার ও সাম্রাজ্যবাদের বিরোধী।