ওয়াকেফিয়ে ফেরকার বিরূদ্ধে ইমাম রেযা (আ.)’এর অবস্থান

আহলে বাইত (আ.)’এর অষ্টম ইমাম ছিলেন ইমাম রেযা (আ.)। তাঁর যুগের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট ছিল। অনুরূপভাবে বিশেষ কিছু সমস্যাবলিও বিদ্যমান ছিল। তবে ইমাম রেযা (আ.)’এর যুগে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল তাদের অনুসারিদের মধ্যে অভ্যন্তরিণ ক্রন্দোল। এ

ক্ষেত্রে ইমাম রেযা (আ.)’এর দূরদর্শিতা এবং ঐশি জ্ঞানের প্রমাণ পাওয়া যায়।

ইমাম রেযা (আ.) বিভিন্ন ফেরকার সমুহের বিরূদ্ধে তাঁর অবস্থানকে মুসলমান এবং আহলে বাইত (আ.)’এর অনুসারিদের কাছে স্পষ্ট করেন। ইমাম রেযা (আ.) যে সকল ফেরকা সমুহ যাদের বিরূদ্ধে অবস্থান করেন সে সেকল ফেরকা সমুহ হচ্ছে: যায়দিয়ে, ইসমাইলি, ফাতাহিয়ে, ওয়াকেফিয়ে এবং গোলাত। ইমাম রেযা (আ.) উল্লেখিত ফেরকা সমূহের মধ্যে ওয়াকেফিয়ে ফেরকার বিরূদ্ধে সবচেয়ে বেশি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

ওয়াকেফিয়ে ফেরকা:

ওয়াকেফিয়ে ফেরকার অনুসারিরা ইমাম রেযা (আ.)’এর ইমামতকে মেনে নিতে অস্বিকৃতি জানায়। ইমাম কাযিম (আ.)’এর শাহাদতের পরে ১৮৩ হিজরিতে ওয়াকেফিয়ে ফেরকার সৃষ্টি হয়। তাদের বিশ্বাস হচ্ছে ইমাম কাযিম (আ.) ছিলেন প্রতিক্ষিত মাহদি (আ.)। আর এ কারণে তারা ইমাম রেযা (আ.)কে ইমাম হেসেবে মেনে নিতে অস্বিৃতি জ্ঞাপন করে।

ওয়াকেফিয়ে ফেরকার বিশেষ বৈশিষ্ট সমূহ:

উক্ত ফেরকার বিশেষ এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট হচ্ছে উক্ত ফেরকার নেতারদের খ্যাতি। আর এ কারণেই কিছু আহলে বাইত (আ.)’এর অনুসারিরা তাদের মতাদর্শকে মেনে নেয়।

উক্ত ফেরকার প্রধান চরিত্রের ব্যাক্তিরা সমাজের কাছে জ্ঞানি ও রেওয়ায়েত বর্ণনাকারি হিসেবে পরিচিত ছিল। তারা এতই বেশি পরিচিত মুখ ছিল যে, তাদের নামের পূর্বে ফাকিহ, সেকা এবং মাশহুর’এর মতো শব্দাবলি ব্যাবহার করা হতো।

ওয়াকেফিয়ে ফেরকার মূল নেতারা ছিলেন উকিল সংস্থার প্রধানগণ। যাদেরকে ইমাম (আ.)গণ বিশেষ শর্তসাপেক্ষে নির্বাচন করেন। আর এ কারণেই আহলে বাইত (আ.)’এর বেশ কিছু অনুসারিগণ তাদের মতাদর্শকে মেনে নেয়।

ওয়াকেফিয়ে ফেরকার মূল নেতারা সাধারণ জনগণকে তাদের দলে আকৃষ্ট করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তাদের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ সমুহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে যে, তারা তাদের মতাদর্শকে প্রমাণ করার জন্য সামাজিক ওসাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রচার প্রসার শুরু করে যেমন: বই লিখা, ছাত্রদের শিক্ষা দান এবং বিভিন্ন রেওয়ায়েত বর্ণনাকারিদের নামে হাদিস বর্ণনা করা।

ওয়াকেফিয়েগণ তাদের মূখ্য উদ্দেশ্যে পৌছানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয়ের ক্ষেত্রে ভুল ধারণার সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। আর তাদের উক্ত চেষ্টার কারণে বেশ কিছু আহলে বাইত (আ.)’এর অনুসারিগণ ওয়াকেফিয়ে মতাদর্শকে মেনে নেয় এবং ইমাম কাযিম (আ.)’এর পরে ইমাম রেযা (আ.)’এর ইমামতকে মেনে নিতে অস্বিকৃতি জানায়।

তারা তাদের উক্ত মতাদর্শকে প্রমাণের ক্ষেত্রে একাধিক হাদিস প্রতিক্ষিত মাহদি (আ.) সম্পর্কে বর্ণনা করে এবং উক্ত রেওয়ায়েতগুলোর ব্যাখ্যা করে। যার ফলে কিছু আহলে বাইত (আ.)’এর অনুসারিগণ তাদের চিন্তাচেতনা এবং বিশ্বাসকে পরিবর্তন করে।

ইমাম রেযা (আ.) কঠোর হস্তে তাদের বাতিল মতাদর্শকে দমন করার চেষ্টা করেন। আর ইমাম রেযা (আ.)’এর উক্ত বিরোধিতার কারণে তারাও ইমামের বিরূদ্ধে অপপ্রচার করতে থাকে এবং ইমাম রেযা(আ.)’ এর ইমামতকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। গোলাত মতাদর্শের অনুসারিগণও ওয়াকেফিয়েদের উক্ত পদ্ধতির অনুসরণ করে এবং ইমাম রেযা (আ.) ও তাঁর অনুসারিদের বিরোধিতা করার সুযোগ খুঁজে পায়।

ইতিহাসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম রেযা (আ.) মদিনাতে এমনকি মদিনা থেকে মার্ভে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে উক্ত মতাদর্শের লোকজনের প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকেন।

এছাড়াও ইমাম রেযা (আ.) বিভিন্ন পদ্ধতিতে ওয়াকেফিয়ে এবং গোলাত মতাদর্শকে দমন করার আাপ্রাণ চেষ্টা চালান যেমন:

১- চিঠিপত্রের আদান প্রদান।

২- পত্রবিনিময় এবং আলোচনার মাধ্যেমে ভুল ধারণার অপনোদন।

৩- জাল এবং বিকৃত হাদিসের পৃথককরণ।

৪- ওয়াকেফিয়াদের বাতিল ভাবমূর্তি এবং তাদের শেষ পরিণামকে সাধারণ জনগণের কাছে স্পষ্ট করা।

৫- সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ওয়াকেফিয়েদেরকে বয়কট করা।

৬- ওয়াকেফিয়েদের প্রতি অভিসম্পাত করা।

৭- ইমামতের কেরামত প্রদর্শন।

ওয়াকেফিয়ার মতাদর্শের অপনোদনের সুফল:

১- ওয়াকেফি মতাদর্শের অনেক অনুসারিগণ তাদের ভুল বুঝতে পেরে পুণরায় আহলে বাইত (আ.)’এর ইমামদের অনুসরণ শুরু করে।                               ২- আহলে বাইতের অনুসারিরা ওয়াকেফিয়াদের মতাদর্শ সম্পর্কে অবগত হয়।

৩- সকলের কাছে ওয়াকেফিয়াদের বাতিল পথে থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

আর উক্ত পদক্ষেপ সমূহ শুধুমাত্র ইমাম রেযা (আ.) গ্রহণ করেননি বরং প্রত্যেকটি ইমাম তাদের যুগে বিভিন্নভাবে মুসলমানদেরকে হেদায়াতের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

এস, এ, এ
http://www.tvshia.com/bn/content/16273