ইমাম যামানার(আঃফাঃ) বিশেষ সঙ্গী সাথীদের বাই’আত করার শর্ত

হযরত আলী(আলাইহিস্ সালাম) তাঁর বিখ্যাত খুত্‌বা আল্-বায়ান যা বস্‌রা নগরীতে প্রদান করেছিলেন, তাতে বলেছেন:

ইমাম যামানার(আজ্জালাল্লাহু ফারাজাহ্) আবির্ভাবের আলামত, চিহ্ন ও নিদর্শন এবং তার আবির্ভাবের সময় ও তার পরের ঘটনাগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে কিছু কথা উল্লেখ করেছেন যার একাংশ আমরা নিম্নে নিয়ে এসেছি:

হযরত সাহেবুয্ যামান(আজ্জালাল্লাহু ফারাজাহ্) তাঁর আবির্ভাবের প্রথমদিকে, তাঁর বিশেষ সঙ্গী- সাথীদের অর্থাৎ সেই ৩১৩ জনকে পরীক্ষা করবেন এবং তারাও হযরতের(আজ্জালাল্লাহু ফারাজাহ্) ডাকে মক্কা থেকে মদীনা পর্যন্ত তিনবার আসা-যাওয়া করবেন। তারপর সেই মহানুভব সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে দৃশ্যমান হবেন এবং তাদেরকে সম্বোধন করে বলবেন:

« إنیلستقاطعاًأمراًحتیتبایعونیعلیثلثةخصلةتلمزکملاتغیرونمنهاشیئاً. ولکمعلیثمانخصال. فقالوا: سمعناواطعنافاذکرلناماأنتذاکره،یاابنرسولالله! »(১)

তোমাদের জন্য কোন পরিষ্কার কর্মসূচী দেবোনা কিন্তু এই যে, আমার সঙ্গে মিত্র হও অর্থাৎ চুক্তিতে আবদ্ধ হও, যে ব্যক্তি সর্বদা ত্রিশটি বৈশিষ্ট্যকে সমীহ করে চলবে আর কখনোই তার কোন একটিকে পরিবর্তন করবেনা বা ছেড়ে দেবে না। আমার সাথে এই যে চুক্তি আবদ্ধ হচ্ছ, আমিও সর্বদা আটটি বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় রাখবো। তারা সম্মানের সাথে বললেন: ইয়াব্না রাসুলিল্লাহ্ আমরা আপনার আদেশের অপেক্ষায় ও অনুগত আছি। যে শর্তই দিতে চান উপস্থাপন করুন।

সঙ্গী-সাথীদের প্রস্তুতির ঘোষণা দেয়ার পর, হযরত সাহেবুয্ যামান(আজ্জালাল্লাহু ফারাজাহ্) সাফা পাহাড়ের দিকে যাত্রা শুরু করবেন এবং তারাও হযরতের সাথে রওয়ানা হবে। সেই স্থানে যুগের ইমাম(আজ্জালাল্লাহু ফারাজাহ্) তাদেরকে সম্বোধন করে বলবেন: কিন্তু সেই ত্রিশটি পয়েন্ট বা শর্ত (উক্তি বা বাক্য) যা অবশ্যই আমার সাথে তোমাদের চুক্তির ঘোষণাপত্র হবে; তা হচ্ছে এগুলো:

১। কখনোই আমার আনুগত্য থেকে অবাধ্য হবে না এবং পারস্পরিক সমঝোতার মূলনীতির পশ্চাদপসরণ (পিছপা) করবেনা।

২। কখনোই চুরি করবেনা।

৩। কখনোই ব্যভিচারে কলুষিত হবেনা।

৪। কখনোই হারাম কাজ আঞ্জাম দেবেনা।

৫। কখনোই অশ্লীল ও দুর্নীতির প্রতি আকৃষ্ট হবেনা।

৬। কোন ব্যক্তিকেই অন্যায়ভাবে মেরো না বা আঘাত  করোনা।

৭। অর্থ সঞ্চয় ও স্বর্ণ জমা করার উদ্যোগ নিওনা।

৮। রৌপ্য জমা করতে ব্যস্ত হয়োনা।

৯। গম মজুতদারী বা স্টক করোনা।

১০। কখনোই যবও মজুতদারী করোনা।

১১। কোন মসজিদ ধ্বংস করোনা।

১২। কখনোই মিথ্যা সাক্ষ্য দিওনা।

১৩। কখনোই কোন মুমিন ভাইয়ের গালমন্দ বা মানহানি করোনা।

১৪। কখনোই সূদ খেওনা।

১৫। দুরবস্থায় ধৈর্যশীল থেক।

১৬। কোন খোদাভীরুকেই লানত করোনা।

১৭। কখনোই মদ খেওনা।

১৮। কখনোই সোনার কারুকার্য খচিত বস্ত্র অর্থাৎ সোনার সূতা দ্বারা বোনা কাপড় পরিধান করোনা।

১৯। কখনোই রেশমের তৈরি কাপড় নিজের উপর দিওনা।

২০। রঙিন রেশম দিয়ে বোনা কাপড় পরিধান করোনা।

২১। শত্রু পরাজিত হয়ে পালিয়ে যাচ্ছে এমতাবস্থায় তার পশ্চাদ্ধাবন করোনা ও হত্যা করোনা।

২২। অন্যায়ভাবে কোন রক্তপাত করোনা।

২৩। কোন মুসলমানের সাথে প্রতারণা ও চক্রান্তমূলক আচরণ করোনা।

২৪। এমন কি কাফেরদের প্রতিও আগ্রাসন ও অত্যাচার-অবিচার করোনা।

২৫। মুনাফেকদের সাথে আগ্রাসন ও অত্যাচারমূলক আচরণ করোনা।

২৬। কখনোই রেশম দিয়ে বোনা কাপড় গায়ে দিওনা।

২৭। সর্বদা সাদাসিধা জীবন যাপন করো ও মাটি, তোমার জীবনের বিছানা হোক।

২৮। দুর্নীতি ও ব্যভিচার হতে সর্বদা অসন্তুষ্ট থেক।

২৯। ভাল কাজের আদেশকে (আম্‌র বে মারুফ) নিজের জীবনের অলঙ্কার করে রেখ।

৩০। সর্বদা অসৎ কাজের নিষেধ (নহী আয্ মুনকের) করবে।

যখনই তোমরা এই ৩০টি বিষয় সম্পর্কে, আমার সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করবে, তোমাদের এই অধিকার থাকবে যে, আমিও আটটি বিষয়ে তোমাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হব:

১। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হব যে, তোমরা আমার বিশেষ বন্ধু ও সঙ্গী হবে আর অন্য কাউকে তোমাদের উপর অগ্রাধিকার বা প্রাধান্য দেব না।

২। আমি যে কাপড় পরিধান করব, তা তোমাদের কাপড়ের ন্যায় হবে।

৩। আমার খাওয়া ও খোরাক তোমাদের খাদ্যর মতই হবে।

৪। আমার আরোহণের বাহন তোমাদের বাহনের মত এক ধরনের হবে।

৫। সর্বাবস্থায় ও সব সময় তোমাদের সঙ্গে থাকবো।

৬। সর্বদা তোমাদের সাথেই চলবো।

৭। জীবনে অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকবো।

৮। অত্যাচার ও নিপীড়নে ভরা জমিনকে, ইনসাফ ও ন্যায়বিচারে ভরে দেব।

অতএব সকলে খোদাকে তার উপযুক্ত মনে করে, উপাসনা করবো। আমি তোমাদের সাথে আমার প্রতিজ্ঞা ও চুক্তি ওয়াদা রক্ষা করবো এবং তোমরাও আমার সাথে তোমাদের প্রতিজ্ঞা ওয়াদা রক্ষা কর।(২)

সূত্রসমূহ:

১। এলযামুন্‌ নাসেব, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ২০৪।

২। ফারহাঙ্গে সোখানানে ইমাম যামান(আজ্জালাল্লাহু ফারাজাহ্), পৃষ্ঠা: ৮৬।

Source: http://www.hussainidalan.com